ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ত্বককে কোমল, টানটান ও উজ্জ্বল দেখাতে এটি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফলের বদলে ত্বক টানটান ও শুষ্কও লাগতে পারে।

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড মূলত এমন একটি উপাদান, যা পানি ধরে রাখতে পারে। তাই এটি ত্বকের ওপর আর্দ্রতা বাড়িয়ে ত্বককে কিছুটা সজীব ও ভরাট দেখাতে সাহায্য করে। তবে শুধু সিরাম ব্যবহার করলেই ত্বকের আর্দ্রতা আটকে থাকে না। এর পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি।

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কীভাবে কাজ করে

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এটি ত্বকের ওপরের স্তরে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে ত্বককে নরম ও ভরাট দেখাতে পারে। কিছু সিরামে বিভিন্ন আকারের হায়ালুরোনিক অ্যাসিড অণু ব্যবহার করা হয়, যাতে ত্বকের ওপরের স্তরে আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি কিছুটা গভীর স্তরেও আর্দ্রতা পৌঁছাতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করলেও নিজে থেকে সেই পানি আটকে রাখতে পারে না। তাই এর ওপর ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন।

সিরাম মাখার পর ময়েশ্চারাইজার কেন জরুরি

ত্বকে পানি যোগ করা এবং সেই পানি ধরে রাখা এক বিষয় নয়। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করে, আর ময়েশ্চারাইজার সেই আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

তাই শুধু হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মেখে রেখে দিলে বিশেষ করে শুষ্ক পরিবেশে ত্বকের পানি দ্রুত বাষ্প হয়ে যেতে পারে। এতে উল্টো ত্বক টানটান বা শুষ্ক মনে হতে পারে।

সহজ নিয়ম হলো—সিরাম ত্বকে আর্দ্রতা দেবে, আর ময়েশ্চারাইজার সেই আর্দ্রতা ধরে রাখবে।

শুষ্ক আবহাওয়ায় সাবধান

আবহাওয়ার আর্দ্রতার ওপরও হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের কাজ অনেকটা নির্ভর করে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি পরিবেশ থেকে পানি ধরে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে পানির পরিমাণ কম থাকে। আবার ঘরে সব সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চললেও বাতাস শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এ সময় ত্বকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড লাগিয়ে তার ওপর ময়েশ্চারাইজার না দিলে ত্বক আরও টানটান লাগতে পারে।

তাই শুষ্ক আবহাওয়ায় হালকা ভেজা ত্বকে সিরাম লাগিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।

কোন ত্বকে ব্যবহার করা যায়

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যায়। শুষ্ক ত্বকে এটি আর্দ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। আবার তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্যও হালকা, তেলমুক্ত সিরাম উপযোগী হতে পারে।

ত্বক তৈলাক্ত হলেও ত্বকের ভেতরে পানির ঘাটতি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারী তেলতেলে উপাদান ব্যবহার না করেও হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মাধ্যমে ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করা যায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম ব্যবহারের নিয়ম খুব সহজ।

প্রথমে: মৃদু উপাদানের পরিষ্কারক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

এরপর: ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে না নিয়ে সামান্য ভেজা অবস্থায় কয়েক ফোঁটা সিরাম লাগান।

তারপর: সিরাম লাগানোর পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক আবহাওয়ায় তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

দিনের বেলায়: ময়েশ্চারাইজারের পর অবশ্যই সূর্যরোধী ক্রিম ব্যবহার করুন।

অন্য উপাদানের সঙ্গেও ব্যবহার করা যায়

হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের সঙ্গে ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড ও রেটিনলযুক্ত ত্বকের যত্নের উপাদান ব্যবহার করা যায়। সাধারণভাবে পাতলা ও পানিভিত্তিক উপাদান আগে এবং ঘন উপাদান পরে ব্যবহার করা হয়।

তবে রেটিনলের মতো কিছু উপাদান ত্বক শুষ্ক করতে পারে। সে ক্ষেত্রে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

যে ভুলে উল্টো শুষ্ক হতে পারে ত্বক

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ব্যবহারের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো একেবারে শুকনো ত্বকে সিরাম লাগিয়ে তার ওপর কিছু না দেওয়া।

শুষ্ক ত্বক ও শুষ্ক বাতাসে এভাবে ব্যবহার করলে ত্বক টানটান লাগতে পারে। তাই সিরাম ব্যবহারের আগে ত্বক সামান্য ভেজা রাখা এবং পরে ময়েশ্চারাইজার লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।

ত্বকে সিরাম লাগানোর পরও যদি টানটান বা শুষ্ক অনুভূতি হয়, তাহলে ব্যবহারের পদ্ধতিটি খেয়াল করুন। বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার বাদ পড়ছে কি না, সেটি দেখুন।

ব্যবহারের আগে যা মনে রাখবেন

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সাধারণত বেশির ভাগ ত্বকের জন্য উপযোগী। তবে যেকোনো নতুন ত্বকের যত্নের পণ্য ব্যবহারের আগে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

আর ত্বকে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা বা রোগ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডকে শুধু সিরাম হিসেবে দেখলে হবে না। ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করার পর সেটি ধরে রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে। তাই ভেজা ত্বকে সিরাম, এরপর ময়েশ্চারাইজার—এই সহজ নিয়ম মেনে চললেই এর উপকার ভালোভাবে পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: ওশি হারবালস


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারীদের শরীরে অতিরিক্ত লোম কেন হয় 
নারীদের শরীরের কিছু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লোম দেখা দিলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন।
নারীদের শরীরে অতিরিক্ত লোম কেন হয় 
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
সিরাম ছাড়াই ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখার উপায়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক টানটান ভাব কমতে শুরু করে। মুখে ও চোখের নিচে ভাঁজ পড়া, ত্বক কুঁচকে যাওয়া এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। এসব সমস্যা কমাতে বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সিরাম ব্যবহার করেন।
সিরাম ছাড়াই ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখার উপায়
মেথি না কাঁচা ডিম, চুলের জন্য কোন হেয়ার মাস্ক বেশি কার্যকর?
চুলের জট ছাড়ানো, মসৃণতা বাড়ানো কিংবা চুলকে ঝলমলে দেখাতে অনেকেই ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন। এর মধ্যে মেথি ও কাঁচা ডিমের তৈরি মাস্ক বেশ পরিচিত। তবে চুলের যত্নে কোনটি তুলনামূলক বেশি কার্যকর মেথি নাকি কাঁচা ডিম?
মেথি না কাঁচা ডিম, চুলের জন্য কোন হেয়ার মাস্ক বেশি কার্যকর?