
সাজগোজের অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ লিপস্টিক। বাইরে বের হওয়ার আগে ঠোঁটে একটু রং লাগালেই চেহারায় আসে ভিন্ন আকর্ষণ। তবে ঠোঁট সুন্দর করতে গিয়ে সেটির ক্ষতি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন নিম্নমানের বা কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটে শুষ্কতা, জ্বালা কিংবা রঙের পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকেরই ধূমপান না করেও ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে গাঢ় রঙের লিপস্টিক দীর্ঘদিন ব্যবহার করাও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
লিপস্টিকে থাকা কোন উপকরণ নিয়ে সতর্কতা?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লিপস্টিকের রং গাঢ় করতে বিভিন্ন ধাতব রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো উপাদান নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করলে এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে ঠোঁটের স্বাভাবিক রঙে পরিবর্তন আসতে পারে। কারও ঠোঁটে কালচে ছোপ দেখা দিতে পারে, আবার কারও ঠোঁট বিবর্ণও হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া লিপস্টিকে ব্যবহৃত বিভিন্ন সুগন্ধি ও রাসায়নিক রং থেকেও ঠোঁটে অস্বস্তি বা রঙের পরিবর্তন হতে পারে।
লিপস্টিক কেনার সময় উপকরণের তালিকায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেড ডাই ৪০ ও ইয়ালো লেক ৫ থাকলে সতর্ক থাকা ভালো। এসব উপাদানের সঙ্গে ত্বকের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
কম দামের লিপস্টিকেই বেশি ঝুঁকি?
শুধু কম দাম দেখেই লিপস্টিক কেনা উচিত নয়। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে নিম্নমানের প্রসাধনী কিনলে তা ত্বক ও ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই লিপস্টিকের সংখ্যা বেশি রাখার চেয়ে মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
কেনার আগে উপকরণের তালিকা পড়ুন
লিপস্টিক কেনার সময় শুধু রং ও দাম দেখলেই হবে না। প্যাকেটের গায়ে দেওয়া উপকরণের তালিকাটিও দেখে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে উপরে উল্লেখ করা উপাদানগুলোর নাম থাকলে সেই পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।
কারণ ঠোঁটের ত্বক সংবেদনশীল। নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এমন পণ্য বেছে নেওয়া উচিত, যা ব্যবহারে ঠোঁটে অস্বস্তি বা শুষ্কতা তৈরি করে না।
লিপস্টিক পরে ঘুম নয়
সারাদিন লিপস্টিক পরে রাতে সেটি না তুলে ঘুমিয়ে পড়া ঠোঁটের জন্য ভালো নয়।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে আলতো হাতে তেলভিত্তিক প্রসাধনী পরিষ্কার করার উপকরণ দিয়ে লিপস্টিক তুলে ফেলুন। এরপর ঠোঁটে ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহার করে ঘুমাতে যেতে পারেন।
এতে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা কমবে।
ব্যবহারের আগে ঠোঁট সুরক্ষিত রাখুন
লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে লিপ প্রাইমার অথবা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
এতে লিপস্টিক সরাসরি ঠোঁটের ত্বকে লাগার মাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ঠোঁটের আর্দ্রতাও ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
খুব বেশি ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো
ম্যাট ধরনের লিপস্টিক দীর্ঘ সময় ঠোঁটে স্থায়ী হয়। এ কারণে অনেকেই এটি পছন্দ করেন। তবে এসব লিপস্টিক ঠোঁটকে তুলনামূলক বেশি শুষ্ক করে দিতে পারে।
অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে ঠোঁটে অস্বস্তি ও রঙের পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন দীর্ঘ সময় খুব বেশি ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।
সুন্দর ঠোঁটের জন্য একটু সচেতনতাই যথেষ্ট
লিপস্টিক সাজগোজের অংশ হলেও এটি সরাসরি ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে। তাই শুধু পছন্দের রং নয়, পণ্যের মান ও উপকরণের তালিকার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ভালো মানের পণ্য বেছে নেওয়া, ঘুমানোর আগে লিপস্টিক তুলে ফেলা, ঠোঁট আর্দ্র রাখা এবং অতিরিক্ত শুষ্ক করে এমন পণ্য কম ব্যবহার—এসব অভ্যাস ঠোঁটের যত্নে সহায়ক হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ


