ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাড়ির বাইরে বের হলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যেভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
বাইরে চলাফেরার সময় পিচ্ছিল মেঝে, অসমান পথ ও সিঁড়িতে সতর্ক থাকলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

বাড়িতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে অনেকেই নানা ব্যবস্থা নেন। কিন্তু বাড়ির বাইরে পা রাখলেই সামনে আসতে পারে নতুন নতুন বিপদ। পিচ্ছিল মেঝে, ভেজা জায়গা, অসমান পথ, সিঁড়ি কিংবা মানুষের ভিড়—যেকোনো জায়গায় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন।

পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙা, মাথায় আঘাতসহ গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই বাইরে বের হওয়ার পর কোথায় কী ধরনের বিপদ থাকতে পারে, তা আগে থেকেই জানা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।

দোকানে কেনাকাটার সময়

দোকানের মেঝে অনেক সময় মসৃণ ও পিচ্ছিল থাকে। কোথাও পানি পড়ে থাকলেও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কেনাকাটার সময় এমন জুতা পরা উচিত, যার তলা সহজে পিছলে যায় না।

যাদের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হয়, তারা কেনাকাটার গাড়ি ধরে হাঁটতে পারেন। প্রয়োজনে চার চাকার হাঁটার সহায়ক যন্ত্রও ব্যবহার করা যায়। এতে শরীর স্থির রাখতে সুবিধা হয়। একই সঙ্গে এতে বসার ব্যবস্থা থাকলে প্রয়োজনের সময় বিশ্রামও নেওয়া যায়।

দোকানের উঁচু তাক থেকে কোনো জিনিস নামানোর সময়ও সাবধান হতে হবে। কাঁধের ওপরের উচ্চতায় থাকা জিনিস নিতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে পেছনে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনো কিছু ধরতে গেলে এক পা সামনে ও অন্য পা পেছনে রেখে দাঁড়ানো ভালো। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।

ভিড়ের জায়গায় বাড়তি সতর্কতা

বিমানবন্দর, বিপণিবিতান, প্রেক্ষাগৃহ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো জায়গায় অনেক মানুষের ভিড় থাকে। এ সময় অন্যের ধাক্কায় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন।

এ ধরনের জায়গায় সঙ্গীর হাত ধরে হাঁটা যেতে পারে। যাদের ভারসাম্যের সমস্যা রয়েছে, তারা হাঁটার সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এতে আশপাশের মানুষও বুঝতে পারবেন যে আপনার চলাফেরায় বাড়তি জায়গা প্রয়োজন।

পার্ক ও খেলার মাঠে

পার্কে হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা ঘুরতে গেলে মাটির অসমান অংশের দিকে নজর রাখা জরুরি। শিশুদের বা নাতি-নাতনিদের নিয়ে খেলার মাঠে গেলেও সতর্ক থাকতে হবে।

বিশেষ করে দুই ধরনের পথ বা মাটি যেখানে মিলেছে, যেমন গাড়ি রাখার জায়গা থেকে নরম মাটির খেলার মাঠে যাওয়ার অংশ—সেখানে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

তাই পার্কে হাঁটার সময় ভালোভাবে মাটিতে আঁকড়ে থাকে এমন তলার জুতা পরা উচিত। হাঁটার উপযোগী জুতা বা পাহাড়ি পথে হাঁটার জুতাও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সিঁড়িতে ওঠানামার সময়

সিঁড়িতে ওঠানামার সময় যদি শরীর অস্থির লাগে, সম্ভব হলে সিঁড়ির বদলে লিফট ব্যবহার করা ভালো। লিফটের সুযোগ না থাকলে ধীরে ও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।

বাইরের সিঁড়ির ধাপ বাড়ির সিঁড়ির মতো একই মাপের নাও হতে পারে। তাই অবশ্যই হাতল ধরে উঠতে বা নামতে হবে। চোখের সমস্যা থাকলে প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার করুন।

সিঁড়ি অন্ধকার হলে এক হাতে হাতল ধরে অন্য হাতে ছোট আলো রাখুন। প্রয়োজনে মুঠোফোনের আলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।

শৌচাগারেও লুকিয়ে বিপদ

সর্বসাধারণের ব্যবহারের শৌচাগারে ভেজা ও পিচ্ছিল মেঝে পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে কম আলো এবং নিচু কমোড থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

তাই শৌচাগারে ঢোকার সময় ধীরে ও সতর্কভাবে হাঁটুন। সঙ্গে মুঠোফোন রাখা ভালো। নিচু কমোড থেকে উঠে দাঁড়াতে সমস্যা হলে সাহায্যের জন্য ফোন করতে হতে পারে।

আলো কম থাকলে মুঠোফোনের আলো ব্যবহার করা যেতে পারে। সুযোগ থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগার ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে সাধারণত ধরার হাতল এবং তুলনামূলক উঁচু কমোড থাকে।

ভেজা মেঝে পার হওয়ার সময় ধীরে হাঁটুন। ভারসাম্য বাড়াতে পায়ের পাতার সামনের অংশ সামান্য বাইরের দিকে রেখে হাঁটতে পারেন।

গাড়ি রাখার জায়গায়

দোকান থেকে দূরে গাড়ি রেখে বেশি হাঁটা শরীরচর্চার জন্য ভালো হতে পারে। তবে যাদের দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে দুর্বল লাগে কিংবা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি দূরে গাড়ি রাখলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই প্রয়োজন হলে গন্তব্যের কাছাকাছি গাড়ি রাখা ভালো। চলাফেরায় বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত গাড়ি রাখার অনুমতিপত্র নেওয়া যেতে পারে।

গাড়ি রাখার সময় অন্য গাড়ির একেবারে পাশে গাড়ি রাখা উচিত নয়। দুই গাড়ির মাঝখান দিয়ে বের হওয়ার সময় শরীর ঘোরানো বা পাশ ফিরে হাঁটতে হতে পারে। এতে পা পিছলে বা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

তাই গাড়ি থেকে নামার সময় শরীর সহজে ঘোরানো এবং হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা জরুরি। নির্ধারিত বিশেষ জায়গা খালি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করুন।

অফিস ভবনেও রয়েছে নানা ঝুঁকি

অফিস ভবনেও বাড়ির মতো সিঁড়ি, পিচ্ছিল মেঝে, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র, কম আলো এবং আলগা কার্পেট থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এর পাশাপাশি চলন্ত সিঁড়ি, মই, নির্মাণকাজের জায়গা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীও বিপদ তৈরি করতে পারে।

নিজের কর্মস্থলে মেঝেতে পড়ে থাকা জিনিসপত্র ও লম্বা বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে রাখুন। কোনো বিপজ্জনক জায়গা চোখে পড়লে কর্তৃপক্ষকে জানান।

কোনো কাজে অফিস ভবনে গেলে তাড়াহুড়া করে হাঁটবেন না। ধীরে ও সচেতনভাবে চলুন। চারপাশ দেখে কোথায় হোঁচট বা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা আগে থেকেই খেয়াল করুন।

আবহাওয়ার কারণেও বাড়তে পারে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি

বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

তীব্র গরম ও রোদে শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথা ঘুরতে বা শরীর দুর্বল লাগতে পারে। এতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাইরে যাওয়ার সময় মাথায় টুপি ব্যবহার করুন, সঙ্গে পানির বোতল রাখুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সম্ভব হলে ছায়ায় থাকুন বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিন।

অন্যদিকে বৃষ্টি বা বরফের কারণে রাস্তা ও মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। এ সময় পিছলে যায় না এমন জুতা পরা জরুরি। জুতার তলা যেন মাটিতে ভালোভাবে আঁকড়ে থাকতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে জুতার ওপর বিশেষ রাবারের আবরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।

শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখাও জরুরি

বাইরে কোথাও গেলেই পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত ভারসাম্যের অনুশীলন করলে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শরীরকে সামলে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।

শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখার ক্ষেত্রে পায়ের পেশি ও শরীরের মধ্যবর্তী অংশের পেশির শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি, ভেতরের কানের সুস্থতা এবং পা ও অস্থিসন্ধির অনুভূতিও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

কারও যদি মনে হয় তার ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে শারীরিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সুস্থ ব্যক্তিরা নিয়মিত ব্যায়ামের অংশ হিসেবে পায়ের পেশি ও শরীরের মধ্যবর্তী অংশ শক্তিশালী করার কিছু সহজ অনুশীলন করতে পারেন। যেমন—একটি চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে বসে আবার উঠে দাঁড়ানো। এভাবে পরপর পাঁচ থেকে ১০ বার করা যায়। এছাড়া এক পা সামনে রেখে শরীর নিচু করার অনুশীলন এবং পা ওঠানোর অনুশীলনও করা যায়।

ভারসাম্য বাড়াতে এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড করে দাঁড়িয়ে থাকার অনুশীলন করা যেতে পারে। ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এমনভাবে হাঁটার চেষ্টা করা যায়, যেন সরু দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা, নিজের শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং বাইরে চলাফেরার সময় আশপাশের ঝুঁকি আগে থেকে বুঝে চলাই পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

সূত্র: হার্ভার্ড

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যে দুই পেশায় আলঝেইমার রোগে মৃত্যুঝুঁকি কম
আলঝেইমার রোগ বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার রোগগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে এ রোগের কারণ ও কার্যকর চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা হলেও এখনো এর পুরোপুরি কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
যে দুই পেশায় আলঝেইমার রোগে মৃত্যুঝুঁকি কম
শিশুকে সাঁতার শেখানোর আগে যে ১০ বিষয় জানা জরুরি 
পানিতে ডুবে মৃত্যু শিশুদের জন্য বড় একটি ঝুঁকি। বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া।
শিশুকে সাঁতার শেখানোর আগে যে ১০ বিষয় জানা জরুরি 
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার ১৪ সহজ কৌশল
তীব্র গরমে হাঁটতে বের হলেই হাঁপিয়ে ওঠা, শরীর ঘেমে যাওয়া কিংবা মাথা ঝিমঝিম করা—এখন অনেকেরই নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার ১৪ সহজ কৌশল
লিপস্টিক কেনার সময় প্যাকেটে এই ৫ উপকরণ থাকলে সাবধান
সাজগোজের অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ লিপস্টিক। বাইরে বের হওয়ার আগে ঠোঁটে একটু রং লাগালেই চেহারায় আসে ভিন্ন আকর্ষণ।
লিপস্টিক কেনার সময় প্যাকেটে এই ৫ উপকরণ থাকলে সাবধান
ব্যায়ামেই বাড়ে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি
শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত ব্যায়াম পেশির শক্তি ধরে রাখে, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
ব্যায়ামেই বাড়ে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি