ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যে দুই পেশায় আলঝেইমার রোগে মৃত্যুঝুঁকি কম

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
নিয়মিত পথ চিনে চলার কাজ মস্তিষ্কের স্মৃতি ও স্থানিক দক্ষতার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আলঝেইমার রোগ বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার রোগগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে এ রোগের কারণ ও কার্যকর চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা হলেও এখনো এর পুরোপুরি কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তবে নতুন এক গবেষণায় এমন একটি বিষয় সামনে এসেছে, যা আলঝেইমার নিয়ে গবেষণায় নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের কাজে নিয়মিত পথ চিনে চলা ও তাৎক্ষণিকভাবে দিক নির্ধারণের প্রয়োজন হওয়ায় মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তবে গবেষণাটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না যে ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্স চালানো আলঝেইমার থেকে সুরক্ষা দেয়।

কীভাবে পেশার সঙ্গে আলঝেইমারের সম্পর্ক মিলল?

গত দুই দশকে করা কিছু ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, লন্ডনের ট্যাক্সিচালকদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের একটি অংশ তুলনামূলকভাবে বড় হতে পারে। মস্তিষ্কের এই অংশ স্মৃতি তৈরি এবং বিশেষ করে স্থান ও পথ মনে রাখার সঙ্গে জড়িত।

মজার বিষয় হলো, আলঝেইমার রোগে হিপোক্যাম্পাসের এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়—নিয়মিত পথ খোঁজা ও স্থানিক স্মৃতি ব্যবহারের মতো কাজ কি ট্যাক্সিচালকদের মস্তিষ্কে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটায়, যা আলঝেইমারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত?

নতুন গবেষণায় সেই সম্ভাবনাই আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রায় ৯০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ

গবেষকেরা প্রায় ৯০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এসব মানুষ তিন বছরের একটি সময়ে মারা গেছেন এবং তাদের মৃত্যুসনদে পেশার তথ্য ছিল।

বিভিন্ন বয়সের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ৪৪৩টির বেশি পেশায় আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার হিসাব করা হয়। এতে ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।

ট্যাক্সিচালকদের মৃত্যুর মধ্যে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ ছিল আলঝেইমার-সম্পর্কিত। অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের মৃত্যুর মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা সাধারণ জনগোষ্ঠীর গড় হারের কাছাকাছি।

গবেষণার হিসাবে, অন্যান্য পেশার তুলনায় ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যু ৪০ শতাংশের বেশি কম ছিল।

সব ধরনের চালকের ক্ষেত্রে একই ফল নয়

তবে মজার বিষয় হলো, পথনির্দেশ ও চলাচলের সঙ্গে যুক্ত সব পেশায় একই ধরনের ফল পাওয়া যায়নি।

বিমানচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ছিল ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনদের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ১২ শতাংশ। বাসচালকদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অর্থাৎ শুধু গাড়ি বা যানবাহন চালানোর সঙ্গে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে কেন এমন হতে পারে?

গবেষকদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের অনেক সময় চলার পথে তাৎক্ষণিকভাবে দিক নির্ধারণ করতে হয়। কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে, কোথায় মোড় নিতে হবে এবং কীভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মিত স্থানিক স্মৃতি ও পথ চিনে চলার দক্ষতা ব্যবহার করতে হয়।

এ ধরনের নিয়মিত মানসিক কাজ মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিপোক্যাম্পাস সুস্থ থাকলে তা আলঝেইমার-সম্পর্কিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

অন্যদিকে বাসচালক, বিমানচালক বা জাহাজের ক্যাপ্টেনদের অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট পথ বা পূর্বনির্ধারিত চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। ফলে তাদের কাজের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে পথ খোঁজার প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

তবে গবেষণার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে

গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও এটিকে আলঝেইমার প্রতিরোধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। এ ধরনের গবেষণায় দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও একটি বিষয় সরাসরি অন্যটির কারণ—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

গবেষকেরা মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা মৃত্যুর সময়কার প্রধান পেশার তথ্য ব্যবহার করেছেন। কিন্তু একজন মানুষের জীবনে একাধিক পেশা থাকতে পারে। আবার মৃত্যুসনদের পেশার তথ্যও সবসময় পুরোপুরি নির্ভুল নাও হতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, কিছু মানুষ হয়তো স্বাভাবিকভাবেই পথ চিনতে বেশি দক্ষ। যারা আলঝেইমারের ঝুঁকিতে বেশি, তারা হয়তো এমন পেশা বেছে নেন না, যেখানে নিয়মিত পথ খুঁজে চলতে হয়। ফলে পেশার পরিবর্তে ব্যক্তির স্বাভাবিক সক্ষমতাও ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ধূমপানের মতো অন্যান্য বিষয়ও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে ধূমপানের হার যদি তুলনামূলকভাবে কম হয়, তাহলে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর কম হারের পেছনে সেটিও ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। এত কম সংখ্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি তথ্য বাদ পড়লেও গবেষণার ফল পরিবর্তিত হতে পারে।

মুঠোফোনের পথনির্দেশ কি প্রভাব ফেলবে?

গবেষণাটি আরও একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। বর্তমানে পথ খুঁজে নিতে মুঠোফোনের মানচিত্র ও পথনির্দেশের ব্যবস্থা (গুগল ম্যাপ) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের যদি এখন আগের তুলনায় কম নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে পথ খুঁজতে হয়, তাহলে এই পেশার সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রভাবও কমে যেতে পারে কি না—তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় দেখা প্রয়োজন।

পথ চিনে চলার অনুশীলন কি সবার জন্য উপকারী?

নতুন গবেষণার ফল সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্স চালানোর মতো কাজ না করেও কি নিয়মিত স্থানিক স্মৃতির অনুশীলন করা যায়?

পথ খোঁজার খেলা, জটিল ধাঁধা, কিছু মুঠোফোনভিত্তিক খেলা কিংবা বোর্ডের খেলায় স্থানিক দক্ষতা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এমনকি জটিল পথে দিকনির্দেশ অনুসরণ করে চলার অনুশীলনও মস্তিষ্কের এই দক্ষতা চর্চায় সহায়ক হতে পারে।

তবে এসব কার্যক্রম আলঝেইমার প্রতিরোধ করে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এখন কী করা উচিত?

একটি গবেষণার ফলের ওপর ভিত্তি করে আলঝেইমার প্রতিরোধের নতুন কোনো পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কম পাওয়ার বিষয়টি গবেষণায় নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় যদি এই সম্পর্ক নিশ্চিত হয়, তাহলে মস্তিষ্কের স্মৃতি ও স্থানিক দক্ষতার সঙ্গে আলঝেইমারের সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে রোগটি প্রতিরোধের নতুন পথও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: হার্ভার্ড


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, অনেকেই এই ডিম বাজার থেকে কিনে এনে ঠকছেন। শরীরেরও বারোটা বাজছে। তবে ডিমের মান যাচাইয়ে প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার বদলে খোসার অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ-চেহারা পরীক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নকল ডিম তৈরি হয় রাসায়নিক দিয়ে। সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে দেশের অনেক বাজারে। তবে আসল ডিমের সঙ্গে এই ডিমের তফাত বোঝা খুব একটা কঠিন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা। খুচরা বিক্রির জন্য ডিম কেনার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেভাবে বুঝবেন ‘আসল ডিম’ নাকি ‘প্লাস্টিকের’ ১. প্রথমেই নজর রাখতে হবে ডিমের খোলসের দিকে। আসল ডিমের খোলস হয় একটু এবড়ো-খেবড়ো। কিন্তু প্লাস্টিক ডিমের খোলস হবে একদম মসৃণ। তবে কেবল উপরিভাগ দেখে ডিমকে নকল বলে নির্ধারণ করা যায় না। ২. ডিম পরীক্ষা করার জন্য একে কানের কাছে ধরে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিমে সাধারণত শব্দ হয় না বা ভেতরে নড়াচড়া অনুভূত হয় না। পুরোনো ডিমে ভেতরের পরিবর্তনের কারণে হালকা শব্দ হতে পারে বা তরল পদার্থ নড়তে পারে। ৩. আসল ডিম আর নকলের মধ্যে ওজনের তফাত হবে। আসল ডিম হবে তার আকারের থেকে একটু ভারী। কিন্তু প্লাস্টিক ডিম ওজনে হালকা। ৪. আসল আর নকল ডিমের মধ্যে সব থেকে সহজ তফাত বুঝিয়ে দেয় আরেকটি পরীক্ষা। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে ডিম তাতে ফেলে দিন। আসল নকল হলে তা ডুবে যাবে। ৫. গন্ধ দ্বারা শনাক্ত করুন। একটি নষ্ট ডিমে অপ্রীতিকর বা তীব্র গন্ধ থাকতে পারে। কখনো কখনো, ডিম ভাঙার আগেও এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। যদি কোনও ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে, তবে সেটি না খাওয়াই ভালো। বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করাও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউএসডিএ-এর পরামর্শ হলো ডিম এমনভাবে রান্না করা, যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিমযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রেও নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বাজার থেকে ডিম কেনার সময় শুধু ‘আসল না নকল’ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে খোসা অক্ষত কি না, ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না এবং ব্যবহারের আগে এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না- এসব বিষয়ই আগে দেখুন। আরটিভি/টিআর
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের ধরন ও অভ্যাসে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব।
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল