ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যে বোতলে পানি খাচ্ছেন, তা বিষাক্ত নয় তো?  জেনে রাখুন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫, ১১:২৫ এএম
প্লাস্টিক বোতল

ঘরে বাইরে এখন প্লাস্টিকের পেট বোতলের ছড়াছড়ি। খাবার রাখা থেকে পানি রাখা— সবেতেই এই প্লাস্টিক বোতল । সারা দিন আমরা নানারকম ভাবে প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসি। তার কোনওটা ভীষণ ভাবে ক্ষতিকারক, কোনওটা কম। প্রতিটি প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রের নিচে ত্রিভুজাকৃতি ছাঁচের মধ্যে কিছু নম্বর লেখা থাকে? ১ থেকে ৭ পর্যন্ত নম্বরের কোনও একটি এই প্রতীকের মধ্যে থাকে। আর প্রতিটা নম্বরই আলাদা অর্থ বহন করে। এই নম্বরই বলে দেয় ওই পাত্রটি সর্বাধিক কত দিন বা কত বার ব্যবহার করা উচিত। আপনার ব্যবহৃত প্লাস্টিকগুলো কোনটা কোন ক্যাটেগরিতে পড়ে জানেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন নম্বরের কী মানে-

প্রতিটা প্লাস্টিকের গায়েই একটি ত্রিভুজাকৃতি চিহ্ন থাকে। এটা আসলে রিসাইকেল অর্থাৎ পুনর্ব্যবহারযোগ্যতার প্রতীক। অর্থাৎ আপনি রোজ যে বোতলে পানি খাচ্ছেন, যে প্লাস্টিকের মধ্যে তাজা সবজি ভরে ফ্রিজে রেখে দিচ্ছেন বা আরও কোনও দৈনন্দিন কাজে লাগাচ্ছেন সেটা কতটা নিরাপদ বা আপনার জন্য আদৌ নিরাপদ কি না তা বোঝা যাবে এই প্রতীক থেকেই।Plastic-is-Made-From-Petroleum

  • ত্রিভুজের মধ্যে ‘১’ লেখা থাকলে এর অর্থ হলো- পাত্রটি পলিথাইলিন টেরেপথ্যালেট জাতিয় পলিথিন দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ, এই প্লাস্টিকের পাত্রগুলো মাত্র একবারই ব্যবহারযোগ্য। একবারের বেশি এগুলো ব্যবহার করা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।
  • যদি পাত্রের নিচে ত্রিভুজের মধ্যে ‘২’ লেখা থাকে তাহলে তার অর্থ হলো- পাত্রটি ঘন, অস্বচ্ছ পলিথিন বা এইচডিপিই জাতিয় পলিথিন দিয়ে তৈরি। এই জাতীয় পলিথিন দিয়ে শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট, টয়লেট ক্লিনারের বোতল তৈরি হয়। এগুলিতে খাবার বা কোনো রকম পানীয় রাখা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়।
  • পাত্রের নিচে ত্রিভুজের মধ্যে ‘৩’ লেখা থাকলে তার অর্থ হলো- এই ধরনের পাত্র পলিভিনিল ক্লোরাইড বা পিভিসি দিয়ে তৈরি। খাবারের শক্ত মোড়ক বা রান্নার তেলের পাত্র এই জাতীয় পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়। একবারের বেশি এগুলো ব্যবহার করা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।Plastic-is-Made-From-
  • যদি পাত্রের নিচে ‘৪’ লেখা থাকে তাহলে তার অর্থ হলো- এই ধরনের পাত্র এলডিপিই জাতিয় পলিথিন দিয়ে তৈরি। এই ধরনের পাত্রে একাধিকবার পানীয় জল বা খাবার রাখা যেতে পারে। তবে সপ্তাহ খানেকের বেশি ব্যবহার না করাই ভাল।
  • যদি পাত্রের নিচে ত্রিভুজের মধ্যে ‘৫’ লেখা থাকে তাহলে তার অর্থ হলো- এই ধরনের পাত্র ব্যবহার করা একেবারে নিরাপদ। সসের বোতল, জলের বোতল বা সিরাপের বোতল এই জাতীয় পলিথিন দিয়ে তৈরি।
  • পাত্রের নিচে ত্রিভুজের মধ্যে ‘৬’ লেখা থাকলে তার অর্থ হলো- এই ধরনের পাত্র পলিস্টিরিন বা স্টাইরোফোম জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি। এই জাতীয় পলিথিন দিয়ে তৈরি পাত্রে খাবার গরম করা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। আর বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
  • যদি পাত্রের নিচে ত্রিভুজের মধ্যে ‘৭’ লেখা থাকে তাহলে তার অর্থ হলো- এই ধরনের পাত্র ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। খাবার বা কোনো রকম পানীয় রাখা একেবারেই উচিত নয়।
মনে রাখবেন ২, ৪ এবং ৫ নম্বর লেখা থাকলে সেগুলো তুলনামূলক নিরাপদ। নম্বর ১ লেখা বোতলও নিরাপদ হিসাবেই গণ্য হয়। ৬ এবং ৭ ভীষণ ভাবে ক্ষতিকর। তাই ৬ এবং ৭ লেখা নম্বরের বোতল অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।

আরও একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার, মাইক্রোওয়েভেবল প্লাস্টিক মানেই তা কিন্তু নিরাপদ নয়। এর অর্থ তা মাইক্রোওয়েভের তাপ সহ্য করতে সক্ষম। তা থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক বেরিয়ে শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতেই পারে।

তবে প্ল্যাস্টিকের ওপর চিহ্ন বা সংখ্যা যাই থাকুক, তার অর্থ নিয়ে যতই তর্ক-বিতর্ক থাকুক, এর ব্যবহারের বিষয়ে বেশিরভাগ জনই কিন্তু সতর্কবাণী দিয়ে থাকেন। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে আপনিও সতর্ক থাকুন।Plastic-is-Made

প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার অপকারিতা

ক্ষতিকর উপাদান: গরমে যখন প্রকৃতির তাপমাত্রা বাড়ে তখন স্বাভাবিকভাবে প্লাস্টিকের বোতলে থাকা পানিও গরম হয়ে যায়। এতে প্লাস্টিকের নানা উপাদান বোতলে থাকা পানিতে মিশে যায়। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষতিকারক উপাদানগুলোও অনেক বেশি মিশতে থাকে। আর সেই পানি পান করলে তা শরীরের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই গরমে তৃষ্ণা নিবারণের আগে দেখে নিন সেটি প্লাস্টিকের বোতলে নেই তো!

ডায়াবেটিস, মেদ ও আরও অনেক সমস্যা: প্লাস্টিকে থাকে Biphenyl-A নামক একটি উপাদান। এই উপাদান গরম তাপ পেলে পানির সঙ্গে দ্রুত মিশে যায়। এটি শরীরে প্রবেশ করলে দেখা দিতে পারে ডায়াবেটিস, বন্ধ্যাত্ব, মেদ, মানসিক জটিলতার মতো সমস্যা। তাই এ ধরনের মারাত্মক সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করা বন্ধ করতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়: প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করার আছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব। আপনি যদি প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পানি খান তবে সেই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে। ফলে কমতে থাকে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সেখান থেকেই দেখা দেয় নানা অসুখের ভয়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: প্লাস্টিকের বোতলে থাকে থ্যালেট নামক একটি ক্ষতিকর উপাদান। প্লাস্টিকের বোতলে পানি রাখলে তা পানির সঙ্গে মেশে। এই ক্ষতিকর উপাদান বাড়িয়ে দেয় লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি। সেইসঙ্গে এটি পুরুষের বন্ধ্যাত্বেরও কারণ হতে পারে।Plastic-is-date

পানির বোতলে কেন মেয়াদের তারিখ থাকে?

দোকান থেকে কিছু কেনার আগে একটা বিষয় মনে রাখতেই হয়— পণ্যটার মেয়াদ আছে তো? পণ্যের গায়ে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ঠিকঠাক থাকলে নিশ্চিন্ত। না থাকলে হয়তো অভিযোগ করা হয় বা পণ্যটা বদলে নেওয়া হয়। কিন্তু পানি কেনার সময় কি বোতলের গায়ে মেয়াদের তারিখটা দেখেন? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন, পানির আবার মেয়াদ কিসের? মেয়াদ যদি না-ই থাকে, তাহলে পানির বোতলে মেয়াদ উল্লেখ থাকে কেন?
খেয়াল করলে দেখবেন, শিশুদের জন্য তৈরি ‘চাইল্ড কার সিটেরও’ মেয়াদ থাকে। এটারই-বা ব্যাখ্যা কী? যুক্তিসংগত ব্যাখ্যাই আছে। প্রতিদিন ব্যবহারে একসময় এসব সিট নষ্ট হয়ে যায়। এতে মেয়াদ শেষে ঘটে যেতে পারে যেকোনো দুর্ঘটনা। আর তাই রীতিমতো হিসাব কষে এর সঙ্গে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার একটা তারিখও সেঁটে দিতে হয়।drink-water

কোন ধরনের পাত্রে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর?

প্লাস্টিকের পানির বোতলের পরিবর্তে ধাতুর বোতল ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। তা ছাড়া ধাতুর বোতলে দীর্ঘক্ষণ পানি ঠান্ডা বা গরম রাখার সুবিধা আছে। ধাতুর বোতল সাধারণত পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশবান্ধব নয়। তাই নিত্য ব্যবহারের জন্য ধাতুর বোতলই ভালো।

স্টিলের বোতলে পানি রাখলেও তা খুব বেশি ভারী হয় না। হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার ভয়ও থাকে না। এই ধাতু পানির সঙ্গে কোনো বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না। পানির মধ্যে ধাতব কোনো গন্ধ বা স্বাদও থাকে না। পানির বদলে গরম চা কিংবা কফিও রাখা যেতে পারে স্টিলের বোতলে।

অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি পানির বোতল স্টিলের চাইতে অনেকটাই হালকা, পরিবেশবান্ধব। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ঠান্ডা বা গরম যেকোনো ধরনের তরলের সঙ্গেই অ্যালুমিনিয়াম বিক্রিয়া করে। শরীরে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম প্রবেশ করলে শারীরিক নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের বোতল বেশি ব্যবহার না করাই ভাল।

অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ইদানীং তামার বোতলে পানি খান। তামার মধ্যে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাল রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে তামা পানির সঙ্গে বিক্রিয়া না করলেও অ্যাসিডযুক্ত যে কোনো তরলের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে। সেজন্য পানি ছাড়া অন্য কোনো পানীয়ের জন্য তামার পাত্র ব্যবহার না করাই ভাল।water-pot

পানির পাত্র কেনার আগে যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি

ধাতুর পাত্র স্বাস্থ্যকর হলেও কেনার সময়ে তার মান অর্থাৎ ‘ফুড গ্রেড’ দেখে তবেই কিনতে হবে। ধাতব বোতলের ভিতরে যেন রং কিংবা অন্য ধাতুর পরত না থাকে। দীর্ঘ দিন পানি রাখতে রাখেত সেই পরত কিন্তু পানির সঙ্গে মিশতে শুরু করতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই পানি ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য একান্তই যদি ‘ইনসুলেটেড’ বোতল কিনতেই হয়, সেক্ষেত্রে ভ্যাকিউম-যুক্ত ‘ডবল ওয়াল্‌ড স্টেনলেস স্টিল’ বোতল কেনাই ভাল।modage

মদের বোতলে পানি পান করা যাবে?

শুধু কোরআনেই নয় বরং নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বহু হাদিসে মদ পান নিষিদ্ধ করেছেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যদি ভালোভাবে মদের বোতল পরিস্কার করা হয়, এর মধ্যে মদের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে এমন পাত্র বা বোতলে রাখা পানি পান করা বৈধ। যদিও ইসলামের প্রথম যুগে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ইসলামের প্রথম যুগে মূলত তিনটি কারণে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

১. সেসব পাত্রে মদের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল।

২. সে সময় সবেমাত্র মদ হারাম করা হয়েছিল। তাই মদের পাত্রে পানি পান করলে মদের কথা মনে হয়ে যেতে পারত। তাই সতর্কতামূলক এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

৩. মদের প্রতি যেন পরিপূর্ণ ঘৃণা সৃষ্টি হয়, সেজন্য তখন মদের পাত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে যখন মদ হারাম হওয়ার বিষয়টি সবার জানা হয়ে যায়, এবং সাহাবিদের মধ্যে মদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা জন্মে যায়, তখন ওই সব পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে রাখা পানি পান ইত্যাদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। (তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম: ৩/৩৫১) waterglusst

একটি হাদিস পাওয়া যায়, হজরত বুরাইদা (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‌

তবে বোতলটি প্রথমে হারাম কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় তা ব্যবহার না করাই উত্তম। এমন বোতল এড়িয়ে চলাই উচিত। এসব বোতল হারাম কাজের দিকে আগ্রহ তৈরি করে। মানুষের মনে কুমন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অঙ্কুরিত আলু, পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া নিরাপদ?
রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময়ই দেখা যায় সংরক্ষিত আলু, পেঁয়াজ বা রসুনে অঙ্কুরোদগম হয়েছে। এমন অবস্থায় এগুলো খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই সংশয় জাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঙ্কুরিত সবজি খাওয়ার বিষয়টি সব ক্ষেত্রে সমান নয় এবং বিশেষ করে আলুর ক্ষেত্রে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আলু যখন অঙ্কুরিত হতে শুরু করে, তখন এতে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়, যার মধ্যে সোলানাইন অন্যতম। এই উপাদানটি মূলত উদ্ভিদকে ছত্রাক ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করলেও মানুষের শরীরের জন্য এটি ক্ষতিকর। শেষ করে আলুর রঙ যদি সবুজ হয়ে যায়, তবে তা সরাসরি বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। অঙ্কুরিত আলুর ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড আলুর স্বাদকে তিক্ত করে তোলে এবং এটি গ্রহণের ফলে বমিভাব, ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আলুর অঙ্কুর খুব ছোট হয় এবং আলুটির গঠন শক্ত থাকে, তবে অঙ্কুরিত অংশটি গভীরভাবে কেটে ফেলে দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যদি আলু নরম হয়ে যায়, কুঁচকে যায় অথবা অঙ্কুর এক ইঞ্চির বেশি লম্বা হয়, তবে তা ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া সবুজ হয়ে যাওয়া আলু কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়, কারণ সবুজ অংশটি উচ্চমাত্রার বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিত নির্দেশ করে। সোলানাইন বিষক্রিয়া বিরল হলেও এটি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, দুর্বলতা এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, অঙ্কুরিত পেঁয়াজ ও রসুনের বিষয়টি আলুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ। এগুলোতে আলুর মতো বিষাক্ত উপাদানের ঝুঁকি থাকে না। পেঁয়াজ ও রসুনের অঙ্কুর মূলত এতে জমা থাকা পুষ্টি থেকেই জন্মায়। তবে অঙ্কুরিত হওয়ার ফলে এগুলোর স্বাদ কিছুটা তিতকুটে হতে পারে এবং গঠন নরম হয়ে যেতে পারে। তবে যদি এগুলোতে পচন ধরে, ছত্রাক দেখা দেয় বা দুর্গন্ধ বের হয়, তবে অবশ্যই তা বর্জন করা উচিত। আরও পড়ুন নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত বা সন্দেহজনক সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো। সবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। আলু সবসময় ঠান্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার স্থানে রাখা উচিত, যেখানে তাপমাত্রা তিন থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আলু সংরক্ষণের আগে ধোয়া উচিত নয়, কারণ পানি পচন ত্বরান্বিত করে। এছাড়া আলু ও পেঁয়াজ কখনো একসাথে রাখা ঠিক নয়; কারণ এই দুটি সবজি থেকে নির্গত আর্দ্রতা ও গ্যাস একে অপরের অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে। পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে বায়ু চলাচল করতে পারে এমন জাল বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। নিয়ম মেনে সবজি সংরক্ষণ করলে অপচয় যেমন কমে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হয়। আরটিভি/এএইচ
অঙ্কুরিত আলু, পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া নিরাপদ?
মানসিক সুস্থতার জন্য বেশি সন্তান নিন, পরামর্শ গবেষকদের
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দুটি সন্তান থাকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চীনের সুচাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যুক্তরাজ্যের ৫৫ হাজারের বেশি নারীর ওপর দীর্ঘমেয়াদী তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যেসব নারীর সন্তান রয়েছে, তাদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং বিষণ্নতার মতো গুরুতর মানসিক রোগের ঝুঁকি সন্তানহীন নারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের সংখ্যা শূন্য থেকে দুই পর্যন্ত বাড়লে মানসিক রোগের ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। তবে দুইয়ের অধিক সন্তানের ক্ষেত্রে এই সুফলের হার আর খুব একটা বাড়ে না, বরং স্থিতিশীল হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, প্রজনন হার কমে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে মানসিক ব্যাধির হার বাড়তে থাকার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অনুসন্ধান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা এই সুরক্ষা বলয়ের পেছনে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক উভয় কারণকে চিহ্নিত করেছেন। গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই হরমোনজনিত পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে মুড ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। আরও পড়ুন নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা ও শিশুর নিবিড় বন্ধন এবং নবজাতকের যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম’কে উদ্দীপ্ত করে, যা মাকে গভীর মানসিক তৃপ্তি প্রদান করে এবং বিষাদ থেকে দূরে রাখে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দ্বিতীয় সন্তানের সময় মায়েরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন এবং প্রথম সন্তানের তুলনায় মানসিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা তাদের জন্য সহজ হয়। দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমে আসে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই গবেষণার তথ্যমতে, ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের বড় একটি অংশ যেখানে মাঝারি থেকে মারাত্মক বিষণ্নতায় ভোগেন, সেখানে দুটি জীবিত সন্তানের মা হওয়া তাদের মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হতে পারে। আরটিভি/এএইচ
মানসিক সুস্থতার জন্য বেশি সন্তান নিন, পরামর্শ গবেষকদের
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় পাঙাশ মাছ অনেকের প্রিয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এতে চর্বির মাত্রা বেশি, আবার কেউ মনে করেন এতে পুষ্টিগুণ কম। তাই পাঙাশ মাছ খাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এই বিষয়ে পুষ্টিবিদ জানান, সঠিক উৎস থেকে নেওয়া এবং নিরাপদভাবে রান্না করা হলে পাঙাশ মাছ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পাঙাশ মাছের পুষ্টিগুণ পাঙাশ মাছের মধ্যে রয়েছে: .উচ্চমানের প্রোটিন .প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড .আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ভালো চর্বি) .ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড .ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস .এই পুষ্টিগুণগুলো শরীর গঠন, হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাঙাশ মাছের উপকারিতা হার্টের জন্য ভালো: ওমেগা-৩ ও ভালো চর্বি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। পেশি গঠনে সহায়ক: উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে ভূমিকা রাখে। হাড় ও দাঁত মজবুত: ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করে। গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী: ওমেগা-৩ ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় রাখে। কখন পাঙাশ মাছ ক্ষতিকর হতে পারে? মাহিনুর ফেরদৌসের মতে, অনেক পুকুরে পাঙাশ মাছ কৃত্রিম খাদ্য, ওষুধ ও কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এছাড়া সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্যান্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হলে তা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ ও অপর্যাপ্ত রান্নাও ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং পাঙাশ মাছ খাবেন কীভাবে? .নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উৎস থেকে কিনুন। .সম্ভব হলে নদীর পাঙাশ বা প্রাকৃতিকভাবে চাষকৃত মাছ বেছে নিন। আরও পড়ুন শীতে চুলের যত্নে করণীয় .ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন। .খাদ্যতালিকায় মাছের বৈচিত্র্য বজায় রাখুন। .সচেতনতা অবলম্বন করলে পাঙাশ মাছ হতে পারে সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। আরটিভি/এসকে
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
দেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকাল মানেই প্রকৃতি শুষ্ক হয়ে ওঠা। শীতের হিমেল হাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি চুলেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যাওয়া এই সময়ের সাধারণ ঘটনা। আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলে সিল্কি ভাব ধরে রাখতে সহজ কিছু যত্ন ও ঘরোয়া উপায়ে শীতকালে চুল ঠিক রাখা যায়।  ​শীতে চুলের জেল্লা বজায় রাখতে কার্যকরী কিছু টিপস। শীতের রুক্ষতা থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। ঘরোয়া কিছু অভ্যাস আর সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার চুলকে ঝলমলে রাখতে। শীতে চুলের যত্নে করণীয় কী জানুন-​নিয়মিত তেল মালিশ​শীতকালে মাথার ত্বক দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কুসুম গরম নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।​অতিরিক্ত গরম পানি পরিহার​ঠাণ্ডার ভয়ে চুলে সরাসরি খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে আরও রুক্ষ করে দেয়। সবসময় কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করুন। কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার​শীতে চুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে খেয়াল রাখবেন, কন্ডিশনার যেন মাথার ত্বকে না লাগে; এটি শুধুমাত্র চুলের মাঝখান থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লাগাবেন।​খুশকি থেকে মুক্তি​শীতের প্রধান শত্রু হলো খুশকি। খুশকি দূর করতে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। হেয়ার মাস্কের ব্যবহার​সপ্তাহে একদিন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।​প্যাক: ১টি ডিম, ১ চামচ মধু এবং টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।​ভেজা চুলে বাইরে না যাওয়া​ভেজা চুলে বাইরে বের হলে বাতাসে থাকা ধুলোবালি সহজেই চুলে আটকে যায় এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ভেজা চুলে ঠাণ্ডা লাগার ভয়ও থাকে। তাই চুল ভালো করে শুকিয়ে তবেই বাইরে বের হন।​খাদ্যতালিকায় নজর দিন​বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বাদাম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অ্যালোভেরা জেলশীতে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল। এটি ত্বকের জ্বালা কমায় এবং মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে। যাদের অনেক বেশি খুশকি হয়, তারা অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কেননা শীতকালে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়।  শীতকালে ত্বকের ও চুলের যত্নে কিন্তু আপনাকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে। শীতের শাকসবজি ও ফল সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজন। শিম, বরবটি, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। হাতের নাগালের সব ফলই প্রতিদিন খাবেন। যেমন-আপেল, আমলকী কিংবা আমড়া সে যা-ই হোক না কেন। শীতে ত্বক-চুলের পরিচর্যা করতে এই সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরন করলেই ত্বক এবং চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখা যায়। তাই টিপসগুলো মেনে এই শীতে পান উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক ও চুল।​মনে রাখবেন: শীতকালে বারবার চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আরটিভি/এসকে
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
আধুনিক নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা আর প্রযুক্তির অতি ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং শরীর ও মনে দীর্ঘমেয়াদি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।  সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদের মতে, ঘুমের নির্দিষ্ট স্তরগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘুমের এই চক্র বা স্তরগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা রাতের শিফটে কাজ করেন এবং দিনের বেলা ঘুমান, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা বা মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। বয়স ভেদে এই চাহিদার ভিন্নতা রয়েছে; যেমন নবজাতকদের ১৮ ঘণ্টা এবং কিশোর-কিশোরীদের অন্তত ১০ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুমের সময় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং মস্তিষ্কের বর্জ্য নিষ্কাশিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে মনোযোগের ঘাটতি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বিষণ্ণতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিবিভ্রমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি অনিদ্রার কারণে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং যৌন উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলার মতো গুরুতর মানসিক ও শারীরিক সংকটও তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন নিঃশব্দে সম্পর্ক ভেঙে দেয় যে ৩ অভ্যাস নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, মেনোপজ এবং সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘুমের মান ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবসাদ ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া ঘুমের অভাবে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে পেটের সমস্যা ও গ্যাসের সমস্যা স্থায়ী রূপ নেয়। মাদক, ক্যাফেইন কিংবা সিগারেটের আসক্তিও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে মানসিক অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের শরীর দ্রুত রোগাক্রান্ত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সুস্থ থাকতে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সময়মতো ও পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। আরটিভি/এএইচ
নিদ্রাহীনতায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
আরও পড়ুন
অতিরিক্ত পানি খেলে শরীরে হতে পারে যে বিপদ
ঠান্ডা খাবার খেয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো?
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পান করুন মাটির পাত্রের পানি
যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাংসের বরফ গলালে