
আজকাল স্কুল, কলেজ, কিংবা অফিসে ব্যাকপ্যাক বা পিঠের ব্যাগ নিয়ে বের হওয়া একটি সাধারণ দৃশ্য। অনেকেই ফ্যাশন বা স্টাইল হিসেবে ব্যাগটি এক কাঁধে ঝুলিয়ে নেন। দেখতে স্মার্ট লাগলেও, এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
আমেরিকান ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত এক কাঁধে ব্যাকপ্যাক বহন করলে শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে পেশি ভারসাম্যহীনতা ও গুরুতর পিঠের ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।
মানবদেহ এমনভাবে গঠিত যে মেরুদণ্ড শরীরের ওজনকে সমভাবে ভাগ করে রাখে, যার কারণে দুটি কাঁধ একসঙ্গে ভারসাম্য পূর্ণভাবে ওজন বহন করতে পারে। কিন্তু যখন নিয়মিত এক কাঁধেই ব্যাগ বহন করা হয়, তখন এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে যায়। এর ফলে এক পাশের পেশি এবং হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা সেখানে টান ও প্রদাহ সৃষ্টি করে।
দীর্ঘকাল ধরে এমন চলতে থাকলে কাঁধে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এছাড়াও, ব্যাগের সরু স্ট্র্যাপ কাঁধের ওপর চেপে বসলে তা স্নায়ু বা রক্ত সঞ্চালনে বাধা দিতে পারে, যার কারণে বাহু এবং হাতে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অসাড়তা অনুভূত হতে পারে। এই বদভ্যাস শরীরের গঠনে গভীর ক্ষতি ডেকে আনে।
এক কাঁধে ব্যাগ নেওয়ার এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
প্রথমত, কোনোভাবেই ব্যাকপ্যাক এক কাঁধে নেওয়া যাবে না; প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য কাঁধ পরিবর্তন করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সব সময় হালকা ওজনের ব্যাকপ্যাক ব্যবহার করা উচিত।
তৃতীয়ত, ব্যাগের দুইটি স্ট্র্যাপই ব্যবহার করুন, যাতে ওজন সমানভাবে ভাগ হয় এবং মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কম পড়ে। কেনার আগে নিশ্চিত করুন যে ব্যাকপ্যাকের দুটি হাতলের ভেতরে নরম প্যাডিং রয়েছে।
ব্যাগে একাধিক পকেট থাকলে, জিনিসপত্র রেখে ওজন সমানভাবে ভাগ করতে হবে।
সবশেষে, ব্যাকপ্যাকের আকার যেন পিঠের আকৃতিকে ছাড়িয়ে না যায়, সেদিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এক কাঁধে ব্যাকপ্যাক নেওয়া যত সহজ বা আরামদায়ক মনে হোক না কেন, এর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করে এই অভ্যাস পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা।
আরটিভি/এএইচ




