ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীরের লুকানো রোগের সতর্ক সংকেত দিতে পারে নখ

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
প্রতীকী ছবি

মানুষের শরীর কোনো বড় রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে বিভিন্নভাবে সংকেত দিতে শুরু করে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, আমাদের হাতের নখ শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক অনন্য দর্পণ বা ‘উইন্ডো’ হিসেবে কাজ করে।

২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নখের রং বা আকৃতির পরিবর্তন অনেক সময় গুরুতর সিস্টেমিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

সম্প্রতি ভারতীয় পুষ্টিবিদ ডা. রোহিণী পাতিল নখের এমন কিছু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অনেকের নখেই ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যা সাধারণত নখের গোঁড়ায় সামান্য আঘাতের কারণে হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকারক না হলেও ডা. পাতিল জানান, সব সাদা দাগ বা রেখা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে নখে নিয়মিত সাদা দাগের উপস্থিতি শরীরে জিঙ্কের তীব্র ঘাটতি কিংবা কিডনিজনিত সমস্যার পূর্বলক্ষণ হতে পারে। তাই নখের শুভ্রতাকে সবসময় স্বাভাবিক মনে করা ঠিক নয়।

নখের কিনারা যদি উপরেওর দিকে বাঁকিয়ে চামচের মতো আকৃতি ধারণ করে, তবে একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় উদ্বেগের বিষয় বলে গণ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চামচ-আকৃতির নখ মূলত শরীরে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা কিংবা হৃদরোগের সঙ্গেও এই অদ্ভুত পরিবর্তনের গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

সুস্থ নখ সাধারণত স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু নখ যদি আঙুলের ডগার চারপাশে অতিরিক্ত বাঁক নিয়ে বড় হতে শুরু করে, তবে তা বিপদের সংকেত। ডা. পাতিলের মতে, এই লক্ষণটি শরীরে অক্সিজেনের স্বল্পতা প্রকাশ করে। দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, হার্ট ফেইলিউর কিংবা লিভারের জটিল সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে এই অতিরিক্ত বাঁকানো নখ।

নখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলুদ হয়ে যাওয়া বা পুরু হয়ে যাওয়াকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই সংক্রমণ নখের গোঁড়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে নখ ভেঙে ঝুরঝুরে হয়ে যায়। এটি মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতাকেও প্রকাশ করে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক লক্ষণ হলো যদি পুরো নখ সাদা হয়ে যায় কিন্তু ডগার অংশটি কালচে দেখায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘টেরির নখ’ বলা হয়। এটি লিভারের মারাত্মক সমস্যা যেমন হেপাটাইটিস, কিডনি রোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের সতর্কবার্তা হতে পারে।

তাই নখের এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শরীরের ভেতরের চলমান কোনো রোগের সূক্ষ্ম এই বার্তাগুলো সময়মতো বুঝতে পারা জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় হতে পারে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
ধস্তাধস্তির পর ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
বারবার নখ ভেঙে গেলে কী করবেন 
নখ দেখেই জানা যাবে অসুস্থতার খবর
শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যা জানায় হাতের নখ