
মানুষের শরীর কোনো বড় রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে বিভিন্নভাবে সংকেত দিতে শুরু করে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, আমাদের হাতের নখ শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক অনন্য দর্পণ বা ‘উইন্ডো’ হিসেবে কাজ করে।
২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নখের রং বা আকৃতির পরিবর্তন অনেক সময় গুরুতর সিস্টেমিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
সম্প্রতি ভারতীয় পুষ্টিবিদ ডা. রোহিণী পাতিল নখের এমন কিছু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনেকের নখেই ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যা সাধারণত নখের গোঁড়ায় সামান্য আঘাতের কারণে হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকারক না হলেও ডা. পাতিল জানান, সব সাদা দাগ বা রেখা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে নখে নিয়মিত সাদা দাগের উপস্থিতি শরীরে জিঙ্কের তীব্র ঘাটতি কিংবা কিডনিজনিত সমস্যার পূর্বলক্ষণ হতে পারে। তাই নখের শুভ্রতাকে সবসময় স্বাভাবিক মনে করা ঠিক নয়।
নখের কিনারা যদি উপরেওর দিকে বাঁকিয়ে চামচের মতো আকৃতি ধারণ করে, তবে একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় উদ্বেগের বিষয় বলে গণ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চামচ-আকৃতির নখ মূলত শরীরে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা কিংবা হৃদরোগের সঙ্গেও এই অদ্ভুত পরিবর্তনের গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে।
সুস্থ নখ সাধারণত স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু নখ যদি আঙুলের ডগার চারপাশে অতিরিক্ত বাঁক নিয়ে বড় হতে শুরু করে, তবে তা বিপদের সংকেত। ডা. পাতিলের মতে, এই লক্ষণটি শরীরে অক্সিজেনের স্বল্পতা প্রকাশ করে। দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, হার্ট ফেইলিউর কিংবা লিভারের জটিল সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে এই অতিরিক্ত বাঁকানো নখ।
নখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলুদ হয়ে যাওয়া বা পুরু হয়ে যাওয়াকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই সংক্রমণ নখের গোঁড়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে নখ ভেঙে ঝুরঝুরে হয়ে যায়। এটি মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতাকেও প্রকাশ করে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক লক্ষণ হলো যদি পুরো নখ সাদা হয়ে যায় কিন্তু ডগার অংশটি কালচে দেখায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘টেরির নখ’ বলা হয়। এটি লিভারের মারাত্মক সমস্যা যেমন হেপাটাইটিস, কিডনি রোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের সতর্কবার্তা হতে পারে।
তাই নখের এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শরীরের ভেতরের চলমান কোনো রোগের সূক্ষ্ম এই বার্তাগুলো সময়মতো বুঝতে পারা জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় হতে পারে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরটিভি/এএইচ




