ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বসে বসেই রক্তে সুগার কমাবে পায়ের যে ব্যায়াম 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
দীর্ঘ সময় বসে থাকার মধ্যেও পায়ের গোড়ালি ওঠানামার মতো সহজ নড়াচড়া রক্তে সুগার বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব অনেক। তবে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হয় এমন মানুষের জন্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে পায়ের পেশির একটি সহজ ব্যায়াম। বসে থাকা অবস্থায় শুধু পায়ের পেশি ওঠানামা করিয়েও রক্তে সুগার বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

পায়ের পেছনের অংশে থাকা গভীর একটি পেশির নাম সোলিয়াস। হাঁটা বা হালকা নড়াচড়ার সময় এই পেশি সক্রিয় হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কম মাত্রার নড়াচড়ার সময়ও এই পেশি রক্তের সুগার বা শর্করা ব্যবহারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

কীভাবে কাজ করে এই পেশি?

সাধারণত শরীরের কোষে রক্তের সুগার বা শর্করা ব্যবহারে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সোলিয়াস পেশির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা।

হালকা মাত্রার নড়াচড়া (Soleus push-ups), যেমন বসে পায়ের গোড়ালি ওঠানামা করার সময় এই পেশি সক্রিয় হলে রক্তের সুগার বা শর্করা ব্যবহারের প্রক্রিয়া বাড়তে পারে। এমনকি বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা থাকা মানুষের ক্ষেত্রেও এই পেশির বারবার সংকোচন রক্ত থেকে সুগার বা শর্করা গ্রহণে সহায়তা করতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

এ কারণেই দীর্ঘ সময় বসে থাকা মানুষের জন্য এই ধরনের সহজ নড়াচড়া কিছুটা উপকারী হতে পারে।

বসে কীভাবে করবেন?

চেয়ারে বসে পায়ের পাতা মাটিতে রেখে ধীরে ধীরে গোড়ালি ওপরে তুলতে পারেন। এরপর আবার গোড়ালি নিচে নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এভাবে বারবার পায়ের পেছনের পেশি সক্রিয় করা যায়।

তবে কতক্ষণ এবং দিনে কতবার এই ব্যায়াম করলে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা চলছে।

কারা বেশি উপকার পেতে পারেন?

যারা দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ করেন, বয়স্ক মানুষ, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন ব্যক্তি কিংবা যারা বেশি পরিশ্রমের শরীরচর্চা করতে পারেন না—তারা এই ধরনের হালকা ব্যায়াম থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি উপকার পেতে পারেন।

দীর্ঘ সময় বসে থাকার মাঝেও দিনে কয়েকবার বসে পায়ের গোড়ালি ওঠানামা করার মতো সহজ নড়াচড়া করা যেতে পারে।

শুধু এই ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়

পায়ের এই সহজ ব্যায়াম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এটিকে কোনোভাবেই নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে না।

বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে নিয়মিত বিরতি নিয়ে নড়াচড়া করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা যেতে পারে। খাবারের পর অল্প সময় হাঁটাও উপকারী হতে পারে।

সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার, নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং বায়বীয় শরীরচর্চাও দৈনন্দিন অভ্যাসে রাখা ভালো।

ছোট নড়াচড়াতেও মিলতে পারে উপকার

দিনভর অল্প অল্প করে নড়াচড়া করলে শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়তে পারে, ক্যালরি খরচ হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কোনো একটি ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুর দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

অর্থাৎ, বসে পায়ের গোড়ালি ওঠানামার মতো সহজ ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি হিসেবে নিয়মিত নড়াচড়া ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী