ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও লাভ নেই, যদি এই ভুল করেন!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ভালো থাকতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি—এ কথা কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন, সেটিই কি যথেষ্ট?

নতুন এক গবেষণা বলছে, ঘুমের সময়ের নিয়মিততাও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রতিদিন একই সময়ের কাছাকাছি ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শুধু ঘুমের মান নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু বেশি ঘুম নয়, নিয়ম মেনে ঘুমও জরুরি

ছুটির দিনে একটু দেরি করে ঘুমানো বা সকালে বেশি সময় বিছানায় থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু নিয়মিত জীবনে ফিরতে হলে ঘুমের সময়ও ঠিক করা প্রয়োজন।

যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার ৯৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা এক গবেষণায় প্রায় এক কোটি ঘণ্টার ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যারা নিয়ম মেনে ঘুমাতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ছিল।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, মৃত্যুঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে মোট কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, তার চেয়েও ঘুমের নিয়মিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তবে এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই এর মাধ্যমে ঘুমের নিয়মিততার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কমার সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করা যায় না।

ঘুমের সময় বদলালে শরীরের ঘড়িও এলোমেলো হয়

এর একটি কারণ হতে পারে শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি। এই স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে ঘুম ও জাগরণ ছাড়াও রক্তচাপ, হরমোন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ জড়িত।

প্রতিদিন ঘুমানোর ও জাগার সময় বারবার বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হতে পারে। ফলে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের এই ছন্দ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ঘুমের রুটিন ঠিক রাখবেন যেভাবে

নির্দিষ্ট সময়ে উঠুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। কোনো দিন খুব ক্লান্ত থাকলে বেশি সময় বিছানায় পড়ে না থেকে রাতে একটু আগে ঘুমাতে পারেন। প্রয়োজন হলে দুপুরের শুরুতে অল্প সময় ঘুমানো যেতে পারে।

ঘুমের আগে মোবাইল দূরে রাখুন

ঘুমানোর আগের এক ঘণ্টায় মোবাইল, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং উজ্জ্বল আলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক ঘণ্টা সম্ভব না হলে শুরুতে ১৫ মিনিট করে সময় কমানোর অভ্যাস করা যেতে পারে। কারণ উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে জেগে থাকার সংকেত দেয় এবং শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ছুটির দিনেও সময়টা ধরে রাখুন

সপ্তাহের ছুটির দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। তাই ছুটির দিনেও ঘুমানো ও ওঠার সময় স্বাভাবিক রুটিনের চেয়ে এক ঘণ্টার বেশি এদিক-ওদিক না করার চেষ্টা করা ভালো।

সকালের আলোয় বের হন

ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা সময় বাইরে সকালের প্রাকৃতিক আলোয় কাটানো ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। সকালের উজ্জ্বল আলো মন-মেজাজ ও মনোযোগের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এক দিন রুটিন নষ্ট হলে চিন্তার কিছু নেই

এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটার মতো জীবনযাপন করতে হবে। অসুস্থ সন্তান, কাজের চাপ কিংবা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে কোনো কোনো রাতে ঘুমের সময় বদলে যেতেই পারে।

এমন হলে তা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত রুটিন তৈরি করা নয়, বরং যতটা সম্ভব নিয়মিত থাকা।

ভালো ঘুমের শুরু দিনের অভ্যাসে

ভালো ঘুমের জন্য শুধু রাতের হিসাব করলেই হবে না। দিনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো, একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা এবং সকালে কিছুটা সময় প্রাকৃতিক আলোয় কাটানোর মতো ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

তাই আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি কখন ঘুমাচ্ছেন এবং কখন উঠছেন—সেদিকেও নজর দিন। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসই হতে পারে ভালো ঘুম ও সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী