
তিলের ছোট ছোট দানা রান্নাঘরে খুব পরিচিত। কিন্তু এই ছোট দানাতেই রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি। বিশেষ করে কালো তিলে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, উদ্ভিজ্জ আমিষ, খাদ্যআঁশ এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও দস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ।
ভারতীয় খাদ্য উপাদান তালিকা অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কালো তিলে প্রায় ৫০৬ ক্যালরি, ১৯ দশমিক ২ গ্রাম আমিষ এবং ১৭ দশমিক ২ গ্রাম খাদ্যআঁশ থাকে। তবে পুষ্টিগুণ বেশি হলেও তিল ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার। তাই উপকার পেতে হলে পরিমাণ বুঝে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
কালো তিলে কী আছে?
কালো তিলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর জারণজনিত চাপ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।
এছাড়া এতে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি খাদ্যতালিকায় তুলনামূলক কম স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিবর্তে খাওয়া হলে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। খাদ্যআঁশ হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং খাবারের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
কালো তিলে লিগন্যান নামের উদ্ভিজ্জ উপাদানও রয়েছে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ আছে।
কালো তিলের ৬ উপকার
১. হৃদযন্ত্রের যত্নে
কালো তিলে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি ও লিগন্যান স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে।
২. কোষকে সুরক্ষায়
তিলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে জারণজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে সামগ্রিক কোষীয় সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।
৩. হজম ভালো রাখতে
কালো তিলের খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
৪. হাড় ও পেশির জন্য
কালো তিলে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
খাদ্যআঁশ, আমিষ ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৬. ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে
কালো তিলে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, দস্তা, লোহা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনে কতটা তিল খাবেন?
প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ, অর্থাৎ প্রায় ১০ থেকে ২০ গ্রাম কালো তিল খাওয়া যেতে পারে।
দই, সালাদ, চাটনি, পানীয় বা বিভিন্ন দেশীয় খাবারের সঙ্গে সহজেই তিল মিশিয়ে খাওয়া যায়। অল্প পরিমাণে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখাই যথেষ্ট।
বেশি খেলেই কি বেশি উপকার?
একেবারেই নয়। কালো তিলে পুষ্টি থাকলেও এতে ক্যালরির পরিমাণও বেশি। তাই বেশি পরিমাণে খেলেই যে বেশি উপকার পাওয়া যাবে, এমন নয়। বিশেষ করে যারা প্রতিদিনের মোট ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের পরিমাণের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো একটি খাবারই শরীরের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। কালো তিলের উপকার পেতে হলে এটিকে সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত খেতে হবে।
আরটিভি/জেএমএ



