ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিটক্স পানি খেলেই কী শরীরের বিষ দূর হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
ফল, সবজি ও ভেষজ উপাদান পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা ডিটক্স পানি সতেজ পানীয় হিসেবে উপকারী হতে পারে, তবে এটি শরীরের বিষ দূর করার জাদুকরি উপায় নয়। ছবি: সংগৃহীত

শসা, লেবু, আদা কিংবা পুদিনা পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা পানীয় এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের পানি শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, ওজন কমায়, ত্বক ভালো রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। কিন্তু এসব দাবির কতটা সত্যি?

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান মিশিয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। তবে শুধু এ ধরনের পানি পান করলেই শরীরের স্বাভাবিক বিষমুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত বা আরও কার্যকর হয়ে যায়—এমন প্রমাণ নেই।

ডিটক্স পানি আসলে কী?

ডিটক্স পানি হলো পানিতে বিভিন্ন ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ভিজিয়ে তৈরি পানীয়। যেমন—লেবু ও আদা, শসা ও পুদিনা, তরমুজ ও পুদিনা, কমলা ও লেবু, স্ট্রবেরি ও তুলসী, আপেল ও দারুচিনি ইত্যাদি।

এতে ফলের রস বা পুরো ফল মিশিয়ে দেওয়া হয় না। ফলে সাধারণত এতে ক্যালরির পরিমাণও খুব কম থাকে। এ কারণে বেশি চিনি থাকা কোমল পানীয় বা ফলের রসের পরিবর্তে অনেকে ডিটক্স পানি পান করেন।

কীভাবে তৈরি করবেন?

ডিটক্স পানি তৈরি করা খুব সহজ। পছন্দের ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ছোট করে কেটে ঠান্ডা বা গরম পানিতে দিতে হবে।

উপাদানগুলো একটু চটকে দিলে পানিতে স্বাদ ও গন্ধ আরও ভালোভাবে মিশতে পারে। ঠান্ডা পানীয় তৈরি করলে এক থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে দেওয়া যায়। তবে এর বেশি সময় রেখে দেওয়া ঠিক নয়। নির্দিষ্ট সময় পর পানিতে থাকা উপাদানগুলো তুলে ফেলতে হবে।

ওজন কমাতে কি সাহায্য করে?

পানি পান করা ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ডিটক্স পানির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিছু সময়ের জন্য শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়তে পারে এবং ক্ষুধাও কিছুটা কমতে পারে।

খাওয়ার আগে পানি পান করলে কেউ কেউ তুলনামূলক কম খাবার খান। আবার বেশি ক্যালরিযুক্ত বা চিনি দেওয়া পানীয়ের বদলে ডিটক্স পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণও কমতে পারে।

শরীরে পানি পর্যাপ্ত থাকলে শরীরের বর্জ্য বের হতে এবং মল নরম রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময়ও পর্যাপ্ত পানি শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করে।

তবে এসব উপকার শুধু ডিটক্স পানির জন্য নয়—সাধারণ পানিও একই ধরনের উপকার দিতে পারে।

হজমের জন্য কেমন?

শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর ফলে পেট ফাঁপা ও অলস লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করলে খাবার অন্ত্রের ভেতর দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

মন-মেজাজ ও শক্তিতেও প্রভাব আছে

শরীরে সামান্য পানির ঘাটতিও মন-মেজাজ, মনোযোগ ও কর্মশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

যারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন, তারা পানির পরিমাণ বাড়ালে শরীর তুলনামূলক সতেজ অনুভব করতে পারেন। মনও ভালো থাকতে পারে এবং কর্মশক্তি বাড়তে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়?

ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে।

তবে ডিটক্স পানিতে ফল বা সবজি ভিজিয়ে রাখার ফলে যে পরিমাণ পুষ্টি পানিতে আসে, তা খুবই কম এবং উপাদানভেদে এর পরিমাণও আলাদা হতে পারে। তাই ডিটক্স পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে—এমন দাবি করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

শরীরের বিষ দূর করে—এ ধারণা কতটা সত্য?

ডিটক্স পানিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দাবি হলো, এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু ‘বিষ’ বলতে ঠিক কোন পদার্থকে বোঝানো হচ্ছে বা কীভাবে তা শরীর থেকে বের হয়—এ বিষয়ে এসব দাবিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকে না।

আসলে মানুষের শরীরের নিজস্ব বিষমুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে, যা শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে কাজ করে। ডিটক্স পানি পান করে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে দ্রুত বা আরও কার্যকর করা যায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

শরীরের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বদলায়?

আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, ডিটক্স পানি শরীরকে বেশি ক্ষারীয় করে। কিন্তু খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে রক্ত কিংবা শরীরের কোষের অম্ল-ক্ষার মাত্রা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায়—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ত্বক কি আরও সুন্দর হবে?

অনেকে মনে করেন, ডিটক্স পানি শরীরের বিষ দূর করে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। কিন্তু এ দাবির পক্ষেও যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের পানিশূন্যতা কমতে পারে। তবে সাধারণ পানির তুলনায় ডিটক্স পানি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি কার্যকর—এমন প্রমাণ নেই।

তাহলে ডিটক্স পানি কি খাবেন?

ডিটক্স পানি শরীরের বিষ দূর করার কোনো জাদুকরি পানীয় নয়। তবে এটি সতেজ ও কম ক্যালরিযুক্ত পানীয় হিসেবে ভালো বিকল্প হতে পারে।

অনেকের কাছে সাধারণ পানি একঘেয়ে মনে হয়। পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা, আদা বা অন্য উপাদান মেশালে স্বাদ বাড়ে। এর ফলে কেউ যদি প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করতে পারেন এবং চিনি দেওয়া পানীয় কমিয়ে দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ভালো অভ্যাস।

অর্থাৎ, ডিটক্স পানির আসল উপকার শরীর পরিষ্কার করার অলৌকিক ক্ষমতায় নয়; বরং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করাতেই এর বড় সুবিধা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, অনেকেই এই ডিম বাজার থেকে কিনে এনে ঠকছেন। শরীরেরও বারোটা বাজছে। তবে ডিমের মান যাচাইয়ে প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার বদলে খোসার অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ-চেহারা পরীক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নকল ডিম তৈরি হয় রাসায়নিক দিয়ে। সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে দেশের অনেক বাজারে। তবে আসল ডিমের সঙ্গে এই ডিমের তফাত বোঝা খুব একটা কঠিন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা। খুচরা বিক্রির জন্য ডিম কেনার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেভাবে বুঝবেন ‘আসল ডিম’ নাকি ‘প্লাস্টিকের’ ১. প্রথমেই নজর রাখতে হবে ডিমের খোলসের দিকে। আসল ডিমের খোলস হয় একটু এবড়ো-খেবড়ো। কিন্তু প্লাস্টিক ডিমের খোলস হবে একদম মসৃণ। তবে কেবল উপরিভাগ দেখে ডিমকে নকল বলে নির্ধারণ করা যায় না। ২. ডিম পরীক্ষা করার জন্য একে কানের কাছে ধরে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিমে সাধারণত শব্দ হয় না বা ভেতরে নড়াচড়া অনুভূত হয় না। পুরোনো ডিমে ভেতরের পরিবর্তনের কারণে হালকা শব্দ হতে পারে বা তরল পদার্থ নড়তে পারে। ৩. আসল ডিম আর নকলের মধ্যে ওজনের তফাত হবে। আসল ডিম হবে তার আকারের থেকে একটু ভারী। কিন্তু প্লাস্টিক ডিম ওজনে হালকা। ৪. আসল আর নকল ডিমের মধ্যে সব থেকে সহজ তফাত বুঝিয়ে দেয় আরেকটি পরীক্ষা। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে ডিম তাতে ফেলে দিন। আসল নকল হলে তা ডুবে যাবে। ৫. গন্ধ দ্বারা শনাক্ত করুন। একটি নষ্ট ডিমে অপ্রীতিকর বা তীব্র গন্ধ থাকতে পারে। কখনো কখনো, ডিম ভাঙার আগেও এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। যদি কোনও ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে, তবে সেটি না খাওয়াই ভালো। বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করাও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউএসডিএ-এর পরামর্শ হলো ডিম এমনভাবে রান্না করা, যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিমযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রেও নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বাজার থেকে ডিম কেনার সময় শুধু ‘আসল না নকল’ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে খোসা অক্ষত কি না, ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না এবং ব্যবহারের আগে এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না- এসব বিষয়ই আগে দেখুন। আরটিভি/টিআর
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের ধরন ও অভ্যাসে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব।
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল