ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জেনে নিন পুরুষের ৩ গোপন রোগ ও চিকিৎসা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পুরুষদের কিছু শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, যা নিয়ে অনেকেই লজ্জা বা সংকোচের কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। তবে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে কিছু ক্ষেত্রে এসব সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অণ্ডকোষের নানা সমস্যা

অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে হাইড্রোসিল, হার্নিয়া, টেস্টিকুলার টরশন, ভেরিকোসিল ও টেস্টিকুলার সিস্ট উল্লেখযোগ্য।

হাইড্রোসিলে অণ্ডকোষের চারপাশে তরল জমে ফুলে যেতে পারে। হার্নিয়ার ক্ষেত্রে হাঁচি, কাশি বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় পেটের ভেতরের অংশ অণ্ডথলির দিকে নেমে আসার মতো অনুভূতি হতে পারে। ভেরিকোসিলে অণ্ডকোষের শিরাগুলো ফুলে কৃমির মতো দেখাতে পারে।

অন্যদিকে, টেস্টিকুলার টরশন হলে অণ্ডকোষের সঙ্গে যুক্ত রক্তনালি ও অন্যান্য অংশ পেঁচিয়ে যেতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়। অণ্ডকোষে হঠাৎ তীব্র ব্যথা বা দ্রুত ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

অণ্ডকোষে নতুন কোনো গাঁট, আকার বা অনুভূতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও অবহেলা করা উচিত নয়। এসব পরিবর্তনের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

গাইনোকোমেশিয়া: পুরুষদের স্তন বৃদ্ধি

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ছেলেদের স্তনের টিস্যু কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকে গাইনোকোমেশিয়া বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়।

তবে স্তন অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া, ব্যথা, শক্ত গাঁট বা দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন পরীক্ষা, ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও দ্রুত বীর্যপাত

পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্যের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED) ও প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন (PE)। ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে যৌনমিলনের জন্য প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা অর্জন বা ধরে রাখতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে, প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশনে প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বীর্যপাত ঘটে এবং এতে দাম্পত্য জীবনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

সাময়িক মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

পুরুষদের শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই সমস্যা লুকিয়ে রাখেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উপহাস বা বুলিংয়ের আশঙ্কায় চিকিৎসা নিতেও দেরি করেন। অথচ দীর্ঘদিন সমস্যা গোপন রাখলে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়তে পারে।

এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য ও জীবনসঙ্গীর সহানুভূতিশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বিদ্রূপ না করে প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন দেওয়া উচিত।

কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

অণ্ডকোষের সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে সার্জন এবং হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, এসব সমস্যাকে লজ্জার বিষয় হিসেবে না দেখে অন্যান্য রোগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী