
পুরুষদের কিছু শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, যা নিয়ে অনেকেই লজ্জা বা সংকোচের কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। তবে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে কিছু ক্ষেত্রে এসব সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অণ্ডকোষের নানা সমস্যা
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে হাইড্রোসিল, হার্নিয়া, টেস্টিকুলার টরশন, ভেরিকোসিল ও টেস্টিকুলার সিস্ট উল্লেখযোগ্য।
হাইড্রোসিলে অণ্ডকোষের চারপাশে তরল জমে ফুলে যেতে পারে। হার্নিয়ার ক্ষেত্রে হাঁচি, কাশি বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় পেটের ভেতরের অংশ অণ্ডথলির দিকে নেমে আসার মতো অনুভূতি হতে পারে। ভেরিকোসিলে অণ্ডকোষের শিরাগুলো ফুলে কৃমির মতো দেখাতে পারে।
অন্যদিকে, টেস্টিকুলার টরশন হলে অণ্ডকোষের সঙ্গে যুক্ত রক্তনালি ও অন্যান্য অংশ পেঁচিয়ে যেতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়। অণ্ডকোষে হঠাৎ তীব্র ব্যথা বা দ্রুত ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
অণ্ডকোষে নতুন কোনো গাঁট, আকার বা অনুভূতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও অবহেলা করা উচিত নয়। এসব পরিবর্তনের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
গাইনোকোমেশিয়া: পুরুষদের স্তন বৃদ্ধি
বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ছেলেদের স্তনের টিস্যু কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকে গাইনোকোমেশিয়া বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়।
তবে স্তন অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া, ব্যথা, শক্ত গাঁট বা দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন পরীক্ষা, ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও দ্রুত বীর্যপাত
পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্যের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED) ও প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন (PE)। ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে যৌনমিলনের জন্য প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা অর্জন বা ধরে রাখতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে, প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশনে প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বীর্যপাত ঘটে এবং এতে দাম্পত্য জীবনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
সাময়িক মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
পুরুষদের শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই সমস্যা লুকিয়ে রাখেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উপহাস বা বুলিংয়ের আশঙ্কায় চিকিৎসা নিতেও দেরি করেন। অথচ দীর্ঘদিন সমস্যা গোপন রাখলে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য ও জীবনসঙ্গীর সহানুভূতিশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বিদ্রূপ না করে প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন দেওয়া উচিত।
কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
অণ্ডকোষের সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে সার্জন এবং হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, এসব সমস্যাকে লজ্জার বিষয় হিসেবে না দেখে অন্যান্য রোগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
আরটিভি/এসকে


