
সন্তান না হলে অনেক সময় এর দায় নারীর ওপর চাপানো হয়। তবে বন্ধ্যত্ব শুধু নারীর সমস্যা নয়, পুরুষেরও হতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান বা চলাচলের সক্ষমতায় সমস্যা থাকলে পুরুষের সন্তান জন্মদানে জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে পুরুষ বন্ধ্যত্ব বলা হয়।
তবে পুরুষ বন্ধ্যত্ব মানেই বাবা হওয়ার আশা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সমস্যার ধরন ও কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান লাভের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও আধুনিক প্রজননপ্রযুক্তি এই চার উপায়ে পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করা যায়।
১. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধূমপান ও মাদক পরিহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেই বন্ধ্যত্বের সমাধান হয় না।
২. ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণের কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে গেলে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে সব ধরনের পুরুষ বন্ধ্যত্বে ওষুধ কার্যকর নয়। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা জরুরি। নিজে থেকে ওষুধ খেলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।
৩. অস্ত্রোপচার
কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে পুরুষের বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে, যার চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। যেমন, অণ্ডকোষের শিরা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার সমস্যা ভেরিকোসিল এবং শুক্রাণু পরিবহনের পথে বাধা। রোগীর অবস্থা ও পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
৪. আধুনিক প্রজননপ্রযুক্তি
স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান ধারণ সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রজননপ্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে-
আইইউআই (IUI): প্রক্রিয়াজাত শুক্রাণু সরাসরি জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়। নির্দিষ্ট ধরনের বন্ধ্যত্বে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ): পরীক্ষাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।
ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (আইসিএসআই): একটি শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। শুক্রাণুর সংখ্যা বা কার্যকারিতা গুরুতরভাবে কম থাকলে এ পদ্ধতি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।
টোটকা নয়, প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমস্যা দেখা দিলে অনেকে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা তথাকথিত টোটকার আশ্রয় নেন। এতে কার্যকর চিকিৎসা নিতে দেরি হতে পারে এবং অর্থের অপচয়ও ঘটে। তাই সমস্যা দেখা দিলে ইউরোলজিস্ট, অ্যান্ড্রোলজিস্ট বা বন্ধ্যত্ব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক দম্পতির সন্তান লাভের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই পুরুষ বন্ধ্যত্ব নিয়ে সংকোচ বা হতাশায় না ভুগে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার পথে এগিয়ে যাওয়াই জরুরি।
আরটিভি/এসকে


