
চায়ের সঙ্গে গরম গরম শিঙাড়া খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। রাস্তার পাশের দোকান থেকে অফিসের নাশতার টেবিল—সবখানেই জনপ্রিয় এই মুখরোচক খাবার। তবে খালি পেটে শিঙাড়া খাওয়ার পর কারও কারও পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, ঢেকুর কিংবা পেট ভার হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই বদহজম বা পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
শিঙাড়া সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলা ভরে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা হয়। এতে চর্বি ও ক্যালরি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তাই খাওয়ার পরিমাণ ও নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।
খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যে ৪ সমস্যা হতে পারে
১. বুকজ্বালা ও টক ঢেকুর
তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কিছু মানুষের পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা বাড়াতে পারে। ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর কিংবা গলায় অস্বস্তি হতে পারে। আগে থেকেই এ ধরনের সমস্যা থাকলে শিঙাড়া খাওয়ার পর অস্বস্তি বেশি অনুভূত হতে পারে।
২. পেট ভার ও বমিভাব
ডুবো তেলে ভাজা খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নিতে পারে। একসঙ্গে অনেকগুলো শিঙাড়া খেলে পেট ভার লাগা, পেট ফাঁপা কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এমন অস্বস্তি বেশি হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ
শিঙাড়ায় কত ক্যালরি রয়েছে, তা এর আকার, পুর ও ভাজার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে শিঙাড়া খেলে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের অভ্যাস ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
৪. দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি
মাঝেমধ্যে শিঙাড়া খাওয়াই উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি কিংবা হৃদ্রোগের কারণ—এমন নয়। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও বেশি ক্যালরির খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই খাবারের পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
শিঙাড়া খাওয়ার পর বুকজ্বালা হলে কী করবেন
পানি পান করুন
স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করতে পারেন। তবে পানি পাকস্থলীর তেল দূর করে বা অ্যাসিডিটি নিশ্চিতভাবে কমিয়ে দেয়—এমন প্রমাণ নেই। অস্বস্তি হলে একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে পান করুন।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না
শিঙাড়া খাওয়ার পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা শুয়ে না থেকে সোজা হয়ে বসে থাকুন। শরীর ভালো থাকলে ধীরে ধীরে হালকা হাঁটাচলাও করতে পারেন। এতে কিছু মানুষের অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা কমতে পারে।
জোয়ান ও মৌরি খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন
জোয়ান বা মৌরি খেলে কারও কারও পেটের অস্বস্তি কম মনে হতে পারে। তবে এগুলো খেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বা বুকজ্বালা সেরে যায় কিংবা পাকস্থলীর অ্যাসিডের ভারসাম্য ঠিক হয়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। জোয়ানের সঙ্গে বিট লবণ মিশিয়ে খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ, বিট লবণেও সোডিয়াম থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়তে পারে।
দুধ, কলা বা দই খেলেই কি আরাম মিলবে
দুধ, কলা বা দই খেলে সবার বুকজ্বালা কমে না। বেশি চর্বিযুক্ত দুধ কিছু মানুষের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। আবার দুধ বা দই খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও তা অ্যাসিডিটির চিকিৎসা নয়। যে খাবার খেলে নিজের অস্বস্তি বাড়ে, সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
শিঙাড়া খাওয়ার সময় যে সতর্কতা মানবেন
খালি পেটে শিঙাড়া খেলেই সবার সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে যাদের তৈলাক্ত খাবার খেলে অস্বস্তি হয়, তারা আগে হালকা ও সুষম খাবার খেতে পারেন। একসঙ্গে অনেকগুলো শিঙাড়া না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অতিরিক্ত ঝাল চাটনি বা কোমল পানীয় খেলে অস্বস্তি বাড়লে সেগুলোও এড়িয়ে চলুন।
বারবার বুকজ্বালা বা বদহজম হলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর বুকের তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে শুধু অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা করবেন না। এসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
শিঙাড়া পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন সবার ক্ষেত্রে নেই। তবে পরিমাণ বুঝে খাওয়া, নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল রাখাই সুস্থ থাকার ভালো উপায়।
আরটিভি/জেএমএ


