
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার। যদিও পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকের কাছে কোনো চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে কিংবা স্তনের বোঁটায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ড. তেজাস প্রকাশ ভিসপুটে জানান, পুরুষদের স্তন ক্যানসার বিরল হলেও অনেকেই এ বিষয়ে সচেতন নন। ফলে বুকের কাছে কোনো পিণ্ড বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। এতে রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে।
তিনি বলেন, পুরুষদের শরীরেও স্তনের টিস্যু থাকে। আর এই টিস্যু থেকেই ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। তবে সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক সংকোচের কারণে অনেক পুরুষ প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করেন।
পুরুষদের স্তন ক্যানসারের যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ অনেকটাই নারীদের মতো। এর মধ্যে রয়েছে—
* স্তনে শক্ত পিণ্ড বা চাকা দেখা দেওয়া, বিশেষ করে বোঁটার আশপাশে।
* স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
* স্তনের ত্বকে লালচে ভাব বা চামড়া ওঠার মতো পরিবর্তন।
* স্তনের বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক তরল নির্গত হওয়া, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত তরল।
* বগলের নিচে ফোলা বা পিণ্ড দেখা দেওয়া।
এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে স্তনে পিণ্ড দেখা দিলেই তা ক্যানসার, এমন নয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে গাইনেকোমাস্টিয়া নামের একটি সমস্যা দেখা যায়, যেখানে স্তনের টিস্যু বড় হয়ে যায়। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি নয়
পুরুষদের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হতে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সামাজিক সংকোচ ও সচেতনতার অভাব। অনেকেই বিষয়টিকে হরমোনজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। আবার কেউ কেউ পিণ্ডটি নিজে থেকেই মিলিয়ে যাবে—এমন আশায় অপেক্ষা করেন।
ড. ভিসপুটের মতে, বুকের কোনো পরিবর্তন নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে লজ্জা পাওয়ার কারণ নেই। স্তন ক্যানসার শুধু নারীদের রোগ নয়; পুরুষদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, পুরুষদের স্তন ক্যানসারের অনেক ক্ষেত্রেই হরমোন-রিসেপ্টর পজিটিভ হয়ে থাকে। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। তাই দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়।
সচেতনতাই পারে ঝুঁকি মোকাবিলায় সাহায্য করতে
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বুকের ত্বক বা স্তনের টিস্যুতে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে কিংবা কোনো পিণ্ড দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অবহেলা করা যাবে না। নিজে থেকে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
পুরুষদের স্তন ক্যানসার বিরল হলেও এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
আরটিভি/এসকে


