ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

নারী পাশে থাকলে কম ব্যথা পায় পুরুষ: গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নারী পরীক্ষক।  ছবি: সংগৃহীত

ব্যথা সবার জন্যই কষ্টকর। তবে ব্যথার অনুভূতি কি আশপাশের মানুষের আচরণ বা পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে? সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, নারী পরীক্ষক শারীরিক ব্যথা সৃষ্টি করলে পুরুষেরা তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভব করেন। এমনকি অস্ত্রোপচারের পর নারী গবেষক ব্যথার কথা জানতে চাইলে পুরুষ রোগীরাও তুলনামূলক কম ব্যথার কথা জানান।

গবেষকেরা বলছেন, নারী ও পুরুষ পরীক্ষক একই ধরনের পোশাক পরেছিলেন এবং একই কথা বলেছিলেন। তারপরও পরীক্ষকের লিঙ্গের সঙ্গে ব্যথার অনুভূতিতে পার্থক্য দেখা গেছে।

পরীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ ফল

গবেষণার প্রথম ধাপে সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীদের পায়ের পাতার ওপরের অংশে লেজারের সংক্ষিপ্ত স্পন্দন প্রয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যথার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্নায়ুতন্তুর সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এ সময় গবেষকেরা লক্ষ করেন, কোনো পুরুষ অংশগ্রহণকারীর শরীরে ব্যথা সৃষ্টি করার দায়িত্বে নারী থাকলে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে তুলনামূলক বেশি তীব্র উদ্দীপনা প্রয়োগ করতে হতো।

এই ফলাফল থেকে উৎসাহ পেয়ে গবেষকেরা পরবর্তী পরীক্ষায় নারী ও পুরুষ পরীক্ষকের উপস্থিতিতে ব্যথার অনুভূতি তুলনা করেন।

এবার অংশগ্রহণকারীদের হাতে একটি ছোট যন্ত্র দেওয়া হয়। বোতাম চাপলে যন্ত্রটি মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করত। ব্যথা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বোতাম ছেড়ে দিতে বলা হয়। পরীক্ষাটি দুইবার করা হয়—একবার নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে, অন্যবার পুরুষ পরীক্ষকের উপস্থিতিতে।

পরীক্ষার ফলেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নারী ও পুরুষ উভয় অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রেই নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে বেশি তীব্র উদ্দীপনা প্রয়োজন হয়েছিল।

অস্ত্রোপচারের পরও দেখা গেল পার্থক্য

শুধু পরীক্ষাগারে নয়, বাস্তব চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য দেখা যায় কি না, তা জানতে গবেষকেরা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন এমন রোগীদের নিয়ে আরেকটি গবেষণা করেন।

সুইডেনের স্কোনে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী তিনটি ওয়ার্ডের মোট ২৪৫ জন রোগীর ওপর জরিপ চালানো হয়। অস্ত্রোপচারের অল্প সময় পর একজন নারী ও একজন পুরুষ গবেষক রোগীদের ব্যথার বিষয়ে জানতে চান।

এ ক্ষেত্রেও আগের ফলাফলের কিছুটা সমর্থন পাওয়া যায়। পুরুষ রোগীরা নারী গবেষকের কাছে ব্যথার কথা জানালে তাদের ব্যথার অনুভূতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে নারী রোগীদের ক্ষেত্রে এমন পার্থক্য দেখা যায়নি।

গবেষকেরা জানান, সামগ্রিকভাবে পার্থক্যটি খুব বেশি ছিল না। তবে ব্যক্তিগত রোগীর ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব থাকতে পারে। বিশেষ করে, ব্যথা এত বেশি হলে যে রোগী নিজেই ব্যথানাশক ওষুধ চাইতে শুরু করেন, তখন এই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।

কেন এমন হয়, নিশ্চিত নন গবেষকেরা

আগের কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, নারীদের সহমর্মিতা প্রকাশের ধরন তুলনামূলক আলাদা হতে পারে। বেশি হাসি বা সরাসরি চোখের দিকে তাকানোর মতো নীরব যোগাযোগের আচরণও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমান গবেষণায় দেখা পার্থক্যের পেছনে এসব কারণ কাজ করেছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক এবং অবেদনবিদ্যা ও নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের পরামর্শক আনা সেলগ্রেন ইংস্কভ বলেন, পরীক্ষায় নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেই নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে বেশি তীব্র উদ্দীপনা প্রয়োজন হয়েছে।

গবেষণাটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এবং মালমোর এসইউএস হাসপাতালের অবেদনবিদ্যা ও নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অধ্যাপক ইয়োনাস ওকেসন বলেন, সুস্থ ব্যক্তিদের ওপর পরীক্ষামূলক গবেষণা এবং অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের নিয়ে করা চিকিৎসাভিত্তিক গবেষণা—উভয় ক্ষেত্রেই এমন ফলাফলের পক্ষে এটি প্রথম নিশ্চিত প্রমাণ।

তার মতে, ব্যথা মূল্যায়নের সময় এ ধরনের পার্থক্য বিবেচনায় নিলে ভবিষ্যতে রোগীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়া এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ‘ব্যথার অনুভূতি: ব্যথা সৃষ্টি, মূল্যায়ন ও লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’। গবেষণার ফলাফল ব্যথা সম্পর্কে মানুষের অনুভূতি ও তা প্রকাশের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তবে কেন এমন পার্থক্য দেখা যায়, তা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্ট, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
মুখের ব্রণ বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি দ্রুত শুকাতে অনেকেই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, টুথপেস্টের কিছু উপাদান ব্রণ শুকিয়ে দিতে সাহায্য করে।
এবার ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্ট, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
চোয়ালে অস্ত্রোপচারের পর যে বার্তা দিলেন মার্টিনেজ
পোপ লিওর সফল অস্ত্রোপচার
হাসপাতালে ভর্তি পোপ
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?