ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মাস্ক নিশ্চিতকরণ অভিযানের ফাঁকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ভেজালের ছড়াছড়ি

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩৫ পিএম
ফুটপাথ থেকে যেভাবে চাঁদাবাজি করা হয়

অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনকারী সংস্থাগুলোর কাছে এখন চ্যালেঞ্জ হয়েছে দাঁড়িয়েছে কী করে মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করা যায়। এরই অংশ হিসেবে মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে দেশের ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো সাধারণত ভেজালবিরোধী ও চাঁদাবাজি রোধে অভিযানে চালালেও অধিকাংশরা এখন মাস্ক পড়া নিশ্চিত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এই ফাঁকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গোটা চাঁদাবাজ চক্র ও ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা।

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও কিছুতে থামছে না চাঁদাবাজি। রাজধানীর ফুটপাথ থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পর্যন্ত হরদম চাঁদাবাজি চলছেই। অসাধু প্রভাবশালীদের আশকারায় চাঁদাবাজদের অবৈধ কর্মকাণ্ডও যেনো বৈধতা পেয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। যারা এ সংক্রান্ত দায়িত্বপালন করার কথা তাদের নাকের ডগায় বসেই চলছে এসব অপকর্ম।

চাঁদাবাজির বাইরে নেই বাস, টেম্পু, নিষিদ্ধ ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ডিশ, ইন্টারনেট প্রোভাইডার সেক্টর। এখন পুরো রাজধানীর পাড়া মহল্লায় রাস্তা দখল করে বসানো হচ্ছে ভ্যানগাড়ির দোকান। সেখান থেকেও প্রতিদিন তোলা হচ্ছে চাঁদা। একই ধাঁচে চলছে ভেজাল পণ্যের রমরমা বাণিজ্য। করোনা মহামারিতে চাঁদাবাজ চক্র ও ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা যেনো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুযোগের সৎ ব্যবহার করে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের মতে, চাঁদাবাজির ধরণ এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। আগে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি করতো। এখন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগীতায় যুক্ত হয়েছে কতিপয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। এ কাজে সহযোগিতা করছে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ পুলিশ। সন্ত্রাসীদের তৎপরতা একেবারে নেই তা নয়। তবে প্রভাবশালীদের চাঁদা না দিলে সন্ত্রাসীরাও টিকতে পারে না। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশও অসহায় রাজনীতিকদের কাছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররাও এ কাজে পিছিয়ে নেই। সরকারি জায়গা-জমি-বাড়ি, রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে কেউ কেউ চাঁদার রাজত্ব কায়েম করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলে না।

আজ বুধবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন সড়কে দেখা গেছে, ফুটপাথ দখল করে চলছে পোষাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রমরমা বাণিজ্য। যা সম্ভব হচ্ছে চাঁদাবাজ চক্রের হস্তক্ষেপে।

মতিঝিল শাপলা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সোনালী ব্যাংকের সামনে ফুটপাথ দখল করে ভাসমান কাপড় ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু সোনালী ব্যাংকের সামনে নয়, পুরো শাপলা চত্বরের চারপাশে ফুটপাথ দখল করেছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, দিনে ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করলেও রাতে তাদের ভ্যানগাড়ি ও মালামাল গোডাউনে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গোডাউন মালিকরা দিনে ৮০ টাকা ও রাতে ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন। একই অবস্থা দিলকুশা এলাকায়ও।

গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, জিপিও এর পশ্চিম পাশ ও সামনের ফুটপাথ দখল করে ভাসমান ব্যবসায়ীরা শীতের কাপড় বিক্রি করছেন। একই অবস্থা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনের ফুটপাথেও। সেই এলাকায় শুধু ফুটপাথ দখল করেই খ্যান্ত হয়নি দখলবাজরা। মূল সড়ক দখল করেও কাপড় ও ফলের ব্যবসা করতে দেখা গেছে তাদের।

সূত্র জানায়, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকা থেকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা আদায় করতে গিয়েও রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। তাদের মধ্যে পল্টনের বাসস অফিসের সামনের ফুটপাথ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেন আদালত থেকে নিষিদ্ধ হকার্স সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসেম কবির, তার সহযোগী মুকিদুল ইসলাম শিমুল ও হযরত আলী। বায়তুল মোকারম পূর্ব গেইটের বন্ধ রাস্তার হকার্সের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন পল্টন থানা পুলিশের ক্যাশিয়ার পরিচয়দানকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী দুলাল, সেকেন্দার হায়াত ও আরিফ চৌধুরী।

বায়তুল মোকারম পশ্চিম পাশের ফুটপাথ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেন অবৈধ সংগঠন হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতা চাট গাইয়া হারুন ওরফে বাটপার হারুন, হিন্দু খোকন মজুমদার, মিজান, মোস্তফা ও জাহাঙ্গীর। বায়তুল মোকারম উত্তর পাশের ফুটপাথ থেকে চাঁদা আদায় করেন সাজু, মন্টু, কালা নুরু, আব্দুল্লাহ খোকন ও সবুজ।

বঙ্গবন্ধু এক নম্বর গেটে বাবুল, তার দুই ছেলে আকাশ ও হৃদয়, ২ নম্বর গেট ও ভাষানী স্টেডিয়ামের পাশে চাঁদা সংগ্রহ করেন আলী, গফুর, বায়তুল মোকারম লিঙ্ক রোডে ছোটন, ফারুক, জিপিও এর দক্ষিণ পাশে বুড়া ছালাম, নজরুল মুক্তাঙ্গনের পাশে নাছির, আলমঙ্গীর, মনির, হাউজ বিল্ডিং এর পাশে ফলপট্টিতে ওসমান, আলমগীর, জাহাঙ্গীর, কমিউনিস্টপার্টি অফিসের সামনে হানিফ, কালাম, আবুল হোসাইন, এল মল্লিক বিল্ডিং এর সামনে পল্টন মোড়ে বিল্লাল, টিটু, আহাদ পুলিশ বক্সের দক্ষিণ পাশে সাইদের ছেলে রিপন, জনি, জয়নাল, আহাদ বক্সের উত্তর পাশে লম্বা হারুন ও ফোন বক্সের দোকান নামধারি শাহিন।

সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের পূর্ব পাশে সেলিম, জয়নাল, লম্বা বাবুল, ভোলা, সালেক, আবু সাইদ, রজ্জব, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার এর পশ্চিম পাশে বিমল, মিন্টু, হান্নান সিদ্দিকি, গুলিস্তান হলের সামনে টাকা ওয়ালা বাবুল, খোরশেদ ওরফে বড়মিয়া, কালাম, বাচ্চু, সুলতান, আহাদ বক্সের সামনে নয়ন মুন্সি হান্নান, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের সামনে লিপু, শহিদ, রমনা ভবনের পশ্চিম পাশে মনির, শফিক, খদ্দর মার্কেটের সামনে কাদের ও মো. আলী, রাজধানী হোটেলের সামনে কালানবী, রব, সেলিম, নাছির, পূর্ণিমা স্ন্যাক্স ও অগ্রণী ব্যাংকের সামনে আক্তার, জাহাঙ্গীর, দুলাল, শাহবুদ্দিন, সোনালী ব্যাংক ও খাবার দাবার হোটেলের সামনে জুয়ারী সালাম, রহিম, অপু।

বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে খলিল, তাজু, নবী, আনোয়ার, ওসমানী উদ্যানের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে গাউরা বাবুল, লম্বা শাহজাহান, হিন্দু শাহিন, মোহন, বাচ্চু, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে একাধিক মামলার আসামি সাইফুল মোল্লা, তার দুই ছেলে সিবলু, হোসাইন, মোহর আলী, শাহ জাহান, টিপু, বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্তর পাশে ইয়াবা ও গানজুট্টি হারুন শহীদ, মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের সামনে মকবুল, সাইদ, ফারুক, বক চত্ত্বরে মান্নান মোল্লা, নুরুল ইসলাম, কালা কাশেম, ইউসূফ, নিউ মার্কেটে জুতা সেলিম, চুন্নু, আলামিন, জয়কলি মন্দির এলাকায় মহসিন ও তার বৌ রিতা বেগম।

নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে, গাউছিয়া মার্কেটের এলাকায় ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। একই অবস্থা রাজধানীর ফার্মগেট এলাকাতেও। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ফার্মভিউ মার্কেট, তেজগাঁও কলেজের সামনে ফুটপাথ দখল করে কাপড় ও সবজি বিক্রি করছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা।

শুধু মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, নিউ মাকের্ট ও ফার্মগেট এলাকাই নয়, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাথের মধ্যে ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখলে ১০৯ কিলোমিটার। আর ২ হাজার ২৯০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫৭৩ কিলোমিটার সড়ক অবৈধ দখলে। আর এসব রাস্তা ও ফুটপাথ দখলের নেপথ্যে রয়েছে সরকারদলীয় কতিপয় অসাধু নেতাকর্মী ও পুলিশের বিশাল অর্থ বাণিজ্য। এ কারণে পর্যাপ্ত আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরেও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয় না।

সূত্রমতে, হকার উচ্ছেদের নামে চোর-পুলিশ খেলা চললেও তাদের প্রশ্রয়ে প্রতিদিন দোকান পেতে বসে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হকার। ফুটপাথ থেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা দৈনিক চাঁদা পায় প্রায় ৩ কোটি টাকা। যা কয়েক স্তরে বণ্টন হয়।

এদিকে, করোনা মহামারিতেও ফুটপাথ দখল করে চাঁদাবাজরা রামরমা বাণিজ্য চললেও নিরব সংশ্লিষ্টরা। তবে করোনার কারণে ফুটপাথে অভিযান বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার আরটিভি নিউজকে বলেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে র‌্যাবের অধিন ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের আরও কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের চাহিদা রয়েছে। মহামারি করোনার প্রেক্ষাপটে ভেজাল বিরোধী অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়েছে, তবে এ অভিযান বন্ধ হয়নি। গতকালও সিলেটে আমাদের ভেজাল বিরোধী অভিযান চলেছিল। ক্রমেই দেশের বিভিন্ন স্থানের এ অভিযান চালানো হবে। অন্যদিকে ফুটপাথ উচ্ছেদের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। তবে এটিকে কেন্দ্র করে যদি চাঁদাবাজি হয়ে থাকে, তা অবশ্যই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আমলে নেবো। পাশাপাশি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। চাঁদাবাজদের ধরতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা আমরা কামনা করছি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, করোনাকালীন সময়ে সবাইকে মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে যদি সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা পাওয়া যায়, তাহলে ফুটপাথ উচ্ছেদের অভিযান শুরু করা হবে।

ফুটপাথ উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. তারিক বিন ইউসুফ বলেন, উচ্ছেদের পর সুযোগ বুঝে হকাররা আবার ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে তাদের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এর সত্যতা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন ঢাকা শহরে ১৪ হাজার হতদরিদ্র আসছে, যাদের ঠিকানা হচ্ছে বস্তি ও ফুটপাতগুলোতে ব্যবসা করার জন্য।

চাঁদা আদায়ে কাউন্সিলররা জড়িত আছে কিনা? এমন প্রশ্নে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ ও কাউন্সিলর একে অপরের উপর পল্টাপাল্টি দোষারোপ করে। তবে খুব শিগগিরই একটা বোর্ড মিটিং ডাকা হচ্ছে, যেখানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই বোর্ড মিটিংয়ে পুলিশ কমিশনার, ওসি ও কাউন্সিলররা উপস্থিত থাকবেন। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।

কেএফ/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বাগতম ২০২১, বিদায় ২০২০
হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় কেটে গেলো একটি বছর। অনেক উত্থান-পতন পেরিয়ে অতীতের খাতায় জমা হলো ২০২০ সাল। বিগত সময়ে সকল দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, গ্লানি ও বেদনা ভুলে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করে নিলো ২০২১ সালকে।  বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, পদ্মা সেতু চালু, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে ২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। উন্নয়নে নেয়া নানা উদ্যোগ পূর্ণ হবে, অগ্রগতির পথে সব জটিলতা দূর হবে- আজ এটাই সবার প্রত্যাশা। মহামারির ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।  ইংরেজি নতুন বছর ২০২১-এ দেশের মানুষ নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেন। ফেলে আসা দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে চান সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাই আজ হৃদয়ে হৃদয়ে বেজে ওঠে একটাই প্রার্থনা- নতুন বছরটি যেন ভালো কাটে। নতুন বছর মানেই নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলা। পেছনে ফেলে আসা বছরের সকল গ্লানিকে দূরে ঠেলে নতুন উদ্যমে সাহস নিয়ে পথচলা। সভ্যতার ইতিহাস বলে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার এই স্পৃহাই মানুষকে নিয়ে এসেছে এতদূর। তাই নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে যাবে বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো বাঙালিরাও। এফএ
স্বাগতম ২০২১, বিদায় ২০২০
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তুর্কি মন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা হওয়ার দীর্ঘদিন পরেও স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে কিছু মানুষ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধকে তারা ‘ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ’ হিসেবে মিথ্যার করছেন। সম্প্রতি তুর্কির এক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তুর্কির মন্ত্রী বলেছিলেন- ভারতের প্রয়োচনায় বাঙালিরা পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছেন। তারা ভাবেন ইসলামকে ধ্বংস করেছি আমরা। সেই সুর আবারও গাইছে, যা ২৩ বছর শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে তর্কির ওই মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় আধাঘণ্টা ঝগড়া হয়েছিল বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গবেষণা গ্রন্থ ‘নৌ যুদ্ধ একাত্ত’-এর মোড়ক উন্মোচনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। স্বাধীনতাযুদ্ধের লিখিত ডকুমেন্টস আমাদের হাতে নেই বলে মিথ্যাচারের জবাব দিতে পারছি না। এজন্য একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আগামী দুই থেকে তিন মাসের ভেতর ‘বীরের কণ্ঠে বীর গাঁথা’ নামে একটি গল্প রেকর্ডিং করা হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা কি করেছেন এবং সহযোদ্ধারা কি দেখেছেন সেটি রেকর্ড করা হবে। এতে বিশ্ববাসী জানতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনাটা কি ছিল? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। এই যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে চালিয়ে ইসলামপন্থী দেশগুলোর মগজ ধোলাই করেছে, যেন বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে কিছুই করেনি। ভারত এসে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে লিখিত জবাব দিতে হবে। এসআর/এফএ  
স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তুর্কি মন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
আরও পড়ুন
এমপি হাজী সেলিমের মদিনা ফিলিং স্টেশন উচ্ছেদ
ধানমন্ডিতে মাস্ক না পরায় ২৫ জনকে জরিমানা
মাস্ক পরাতে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা
মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত