ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ করে টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যা ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

এ বিষয়ে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, যে দেশে একসময় টেলিকম আইনের নিবর্তনমূলক ধারার অপব্যবহার করে বেআইনি নজরদারি চালানো হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, এবং যার পরিণতিতে অসংখ্য গুম ও প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে- সেই দেশে টেলিযোগাযোগ আইনের এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সংশোধন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ফেসবুক পোস্টে লিখেন:

নতুন যাত্রা: ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ আইনে ঐতিহাসিক সংশোধন

পর্বতসম দৃঢ়তা, অটল সংকল্প, অবিচল নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ অঙ্গীকারের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ আইনে এক মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করেছে। এই সংশোধন কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়- এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে দাঁড় করানোর এক সাহসী পদক্ষেপ।

আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে-

১। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা: পূর্ববর্তী আইনে হেইট স্পিচকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। সংশোধিত আইনে সেটি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। এখন কেবল তখনই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যখন বক্তব্যের সাথে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সরাসরি সম্পর্ক থাকবে। নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

২। নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা প্রায় শতভাগ পুনর্বহাল: মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ঘনঘন প্রদত্ত লাইসেন্স, পারমিট, এনলিস্টমেন্ট, ট্যারিফ পরিবর্তন, মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্টসহ অধিকাংশ কার্যকরী ক্ষমতা পুনরায় বিটিআরসি-র নিকট ন্যস্ত করা হয়েছে।

শুধুমাত্র জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘ওয়ান্স ইন এ টাইম’ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে- স্বাধীন ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া যৌথ গবেষণার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার শর্ত রাখা হয়েছে।

৩। বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর এই খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সকল জরিমানা এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত বিনিয়োগকারীদের ডিউ-ডিলিজেন্স ও ফিজিবিলিটি মূল্যায়নে আর নেতিবাচক সংকেত দেবে না।
৪। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ: মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি’র কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোয়াসি-জুডিশিয়াল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ করবে।

৫। সংসদীয় জবাবদিহি: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটির নিকট নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।

৬। ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ: এ আইনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিক- বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষমতা আইনি কাঠামো থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নাগরিকদের অধিকার ও সংযোগ, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অর্থনীতির ধারাবাহিকতা এখন আইনি সুরক্ষা পেয়েছে।

৭। আন্তর্জাতিক মানের আইনসম্মত নজরদারি ব্যবস্থা: পূর্ববর্তী অস্বচ্ছ ও নিকৃষ্ট নজরদারি কাঠামোর পরিবর্তে (আর্টিকেল ৯৭ সংশোধন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত ল’ফুল ইন্টারসেপশন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।

নজরদারিকে ‘জরুরি’ ও ‘অ-জরুরি’- এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রি-অ্যাপ্রুভাল ও পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ, কেস-বাই-কেস স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর, সময়সীমা নির্ধারণ, ইভেন্ট লগিং, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল- এই সবকিছু স্পষ্টভাবে কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

যে দেশে এক সময় টেলিকম আইনের নিবর্তনমূলক ধারার অপব্যবহার করে বেআইনি নজরদারি চালানো হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, এবং যার পরিণতিতে অসংখ্য গুম ও প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে- সেই দেশে টেলিযোগাযোগ আইনের এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সংশোধন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই মৌলিক সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে। এটি শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়- এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সাহসী পদক্ষেপ। এই মৌলিক সংস্কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনূস, আপনাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর টপ ম্যানেজমেন্টকে, যারা আন্তরিক সহযোগিতা না করলে এ মাইলফলক অর্জন সম্ভব হতো না।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রথম দিনেই তিনি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। আরটিভি/টিআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশ আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একইসঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিমান ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাওয়ায় তিনি উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিট। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয়পক্ষের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠেয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি অপেক্ষায় রয়েছেন। বিমান কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার অতিরিক্ত হিসেবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে। তবে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়নের শর্ত এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, বিমান আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পৃথক একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। আরটিভি/টিআর
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী