ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদ অধিবেশনেও সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর

বাসস

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
অধিবেশন কক্ষে বসে দৈনিক পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলাকালেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি নিজের সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অধিবেশন কক্ষে বসেই তাকে দেখা গেল দৈনিক পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাতে। সেই মুহূর্তের একটি ছবি শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। ছবিতে দেখা যায়, সংসদের কার্যক্রম চলমান থাকলেও প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো পর্যালোচনা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ দৃশ্য নয়, বরং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট থাকার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন।

রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার মধ্যেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, জনমত এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কের পরিচায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন, সংসদ অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও পত্রিকার ওপর নজর রাখা সরকারের নীতি নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত বহন করে।

গণমাধ্যমে উঠে আসা নানা সমস্যা, জনদুর্ভোগ কিংবা নীতিগত প্রশ্নগুলো দ্রুত অনুধাবনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এটিকে প্রধানমন্ত্রীর কর্মনিষ্ঠা ও তথ্য নির্ভর নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ততার মাঝেও এভাবে সংবাদপত্রে চোখ রাখা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মপদ্ধতির একটি মানবিক ও বাস্তবধর্মী দিকই যেন ফুটে উঠেছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা হবে পরিবার ও কমিউনিটি থেকে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা হবে পরিবার ও কমিউনিটি থেকে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাচ্ছে। এ ব্যবস্থায় নারী ও শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা বিনিয়োগ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনশক্তি এবং মানুষের উন্নত জীবনে রূপ নেয়। এ কারণেই ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।' তিনি বলেন, ‘সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে করেছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী সকল পরিবারকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবেন, শুরুতেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করবেন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাদার মিডওয়াইফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ মিডওয়াইফ শুধু প্রসবসেবা প্রদানকারী নন; গর্ভধারণের পূর্বপর্যায় থেকে শুরু করে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত তিনি একজন নারীর আস্থাভাজন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’ বাংলাদেশ সরকার সারা দেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব মিডওয়াইফ বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিডওয়াইফরা প্রয়োজনীয় প্রজননস্বাস্থ্য সেবা প্রদান, গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রসব নিশ্চিতকরণ, জটিলতা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রেফার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি মা ও নবজাতকের সেবা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান এবং শিশুর সুস্থ বিকাশেও তারা সহায়তা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পেশাদার মিডওয়াইফারি শিক্ষা চালু, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে এ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।’ বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ২২টি জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারণ করেছে। সেখানে দক্ষ মিডওয়াইফরা এক লাখ ৫৪ হাজারেরও বেশি প্রসবে সহায়তা করেছেন এবং মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়া মায়েদের গল্প এবং আশার আলো নিয়ে জীবনের পথে যাত্রা শুরু করা নবজাতকদের ভবিষ্যৎ।’ বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এর আওতায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি হেলথ কার্ড থাকবে, যা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।’ ‘এর ফলে একজন গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যসেবার তথ্য বাড়ির কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত থাকবে। তাকে উচ্চতর পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যও তার সঙ্গে যাবে।’ নারীর স্বাস্থ্যসেবা শুধু গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নারীর স্বাস্থ্যসেবার বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হতে হবে মিডওয়াইফারিকে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় মালিকানা ও টেকসই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক নারী যেন তাদের বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান, এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে দেশব্যাপী মিডওয়াইফদের নিয়োগ ও সেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা প্রয়োজন।’ প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে আমাদের একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এভাবেই আমরা প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাব।’ আরটিভি/ এসকেডি
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা হবে পরিবার ও কমিউনিটি থেকে: প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ওআইসির সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার আইনি তহবিল ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ওআইসির সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে বাংলাদেশের ৬ প্রস্তাব
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়ন ও উত্তরণ প্রক্রিয়া জোরদারে ছয়টি অগ্রাধিকার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে এলডিসি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে বাংলাদেশের ৬ প্রস্তাব
জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ৫ প্রস্তাব 
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ৫ প্রস্তাব 
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চ ভাড়া, প্রজ্ঞাপন জারি
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চ ভাড়াও। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চ ভাড়া বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চ ভাড়া, প্রজ্ঞাপন জারি
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা হবে পরিবার ও কমিউনিটি থেকে: প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ৫ প্রস্তাব 
মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ