ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিকে রাখতে হবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রে 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অপুষ্টি মোকাবেলায় দেশের স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও উন্নয়ন কর্মসূচির কেন্দ্রে পুষ্টিকে স্থান দেওয়ার এবং বহু-খাতভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকায় আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ: ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা এবং জলবায়ুজনিত ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরেোধে পুষ্টির ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ আহ্বান জানান তারা।

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন), দৈনিক সমকাল এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন। প্রসঙ্গত, ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।

গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক ডা. মো. রিজওয়ানুর রহমান বলেন, পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও অপুষ্টি একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে এবং শিশুদের একটি বড় অংশ এখনও খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে।

তার মতে, অপুষ্টি রোগমুক্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, কারণ এতে শরীরে ওষুধ শোষণের এবং অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার ক্ষমতা কমে যায়। চলমান উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার জাতীয় পুষ্টি নীতি হালনাগাদ করছে এবং একটি রিয়েল-টাইম, সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টাসহ বহু-খাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার করার জন্য কাজ করছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন আইপিএইচএন-এর পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী এবং উপ-পরিচালক ডা. রওশন জাহান আখতার আলো। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের সাবেক কর্মী পরামর্শক ড. এএফএম ইকবাল কবির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

পুষ্টিকে উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করে ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও উন্নয়ন কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে পুষ্টিকে রাখতে হবে।

তিনি জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুষ্টি-সম্পর্কিত কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মূল অংশীজনদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিগুলো যদি সঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও অনেক উন্নতি হতো।

আইপিএইচএন পরিচালক পুষ্টি সমস্যা মোকাবেলার প্রচেষ্টায় সম্পদের সীমাবদ্ধতার ওপর আলোকপাত করেন এবং উন্নত পুষ্টি সেবার জন্য অধিক অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানান।

ডা. রওশন জাহান আখতার আলো পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে জনবলের, বিশেষ করে ‘সুপ্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের’ অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, দক্ষ জনবলের অভাব পুষ্টি কার্যক্রমগুলোকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, “কিছু জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের পুষ্টি কর্নারে মাত্র একজন কাজ করেন।”

তিনি নির্বিঘ্ন সেবা প্রদানের জন্য উন্নত অবকাঠামো এবং তৃণমূল পর্যায়ের পুষ্টি কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মূল বক্তব্য প্রদানকালে এএফএম ইকবাল কবির জোর দিয়ে বলেন, পুষ্টি কোনও বিচ্ছিন্ন খাত নয়, বরং এটি নানা খাত ও ব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট একটি সমাধান।

তিনি পুষ্টি, সংক্রমণ ও জলবায়ুর মধ্যকার সম্পর্কের উপর আলোকপাত করে বলেন, অপুষ্টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং সংক্রমণ পুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। তার মতে, বন্যা এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো জলবায়ুগত অভিঘাত খাদ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করে।

ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. তারিকুল ইসলাম বলেন, অপুষ্টি মোকাবেলায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করতে হবে কারণ দাতারা যখন সাহায্য থেকে বাণিজ্য-ভিত্তিক কৌশলে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশ তার পুষ্টি কর্মসূচির জন্য অনুদানের উপর নির্ভর করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করবে এবং আমাদের উচিত বেসরকারি খাতের মানসম্পন্ন পুষ্টি পণ্য ও সেবার জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা এবং কার্যকর সাশ্রয়ী মূল্যের বাজার-ভিত্তিক সমাধান বের করা। তিনি বলেন, “মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর আমাদের পুষ্টি কিনতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং সঞ্চালনা করেন সহযোগী সম্পাদক শেখ রোকন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, পুষ্টি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

আইসিডিডিআর,বি-এর পুষ্টি ও গবেষণা বিভাগের বিজ্ঞানী ডা. মো. মুনীরুল ইসলাম, কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনালের যোগাযোগ উপদেষ্টা বেলাল উদ্দিন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস মো. খোরশেদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজ খান, কেয়ার বাংলাদেশের পুষ্টি টিম লিডার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের উপ-পরিচালক (শিক্ষা ও গবেষণা) ড. সানথিয়া আইরিন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আবুল বাশার চৌধুরী, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. আফসানা হাবিব শিউলি, ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মিথুন গুপ্তা, ব্র্যাকের হেড অব ফান্ড সেক্রেটারিয়েট (ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড) সাইকা সিরাজ এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ ও ব্যাগ নিয়ে যাত্রীদের আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সম্প্রতি দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল। তবে জাপান থেকে ফেরার পথে উড়োজাহাজের ডানার পেছনের অংশে থাকা ফ্ল্যাপে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি উড়োজাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক নয়। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে জাপানের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বর্তমান টার্মিনাল ১ ও ২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করা হবে। তবে টার্মিনাল দুটি পরিত্যক্ত রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পুরোনো দুটি টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া সরকার নতুন একটি বাজেট এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে। এর কার্যক্রমও টার্মিনাল ১ ও ২-কে কেন্দ্র করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় প্রয়োজন। আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। তাই আপাতত বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার উন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। আরটিভি/এসকে
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তারা যেন সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। শ্রমিক নেতাদেরও নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে না। হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস দেন। তি‌নি ব‌লেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে এই সংকটকালীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ সময় ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তি‌নি ব‌লেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের ম‌নোভাব বা সমর্থ‌নে আমরা খু‌শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে জালিল রাহিমি ব‌লেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার মা‌নে আত্মসমর্পণ। এটা কখ‌নো মে‌নে নে‌বে না ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পূর্ণ শক্তিতে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান কখনোই কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি এ অঞ্চলে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তি‌নি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে।  ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। পরে তাকে পরিবর্তন করে সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এ দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলন কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক শ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কথা তুলে ধরে আসছে। আরটিভি/টিআর
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
তার সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ রাজিব ঘোষকেও। বর্তমানে তারা ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
আরও পড়ুন
বর্ষায় পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশীয় ফল গাব, জানুন উপকারিতা
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
পটল না খেলে যেসব পুষ্টিগুণ থেকে হবেন বঞ্চিত 
এয়ার ফ্রায়ারে রান্না কী খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় রাখে?