ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় কোনদিন মিলবে কোন তারিখের ট্রেনের টিকিট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের অগ্রিম ও ফিরতি টিকিট বিক্রির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, আগামী ১৩ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে, যা সম্পূর্ণভাবে অনলাইনের মাধ্যমে করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রেলের ওয়েবসাইটে টিকিট পাওয়া যাবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট একবারে কিনতে পারবেন। তবে ঈদের টিকিট রিফান্ড বা ফেরত দেওয়া হবে না।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। একইভাবে ১৪, ১৫ ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকিট পাওয়া যাবে।

ঈদ শেষে ট্রেনের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে। ওইদিন ৩১ মের ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে। এছাড়া ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ মে একাধারে ১, ২, ৩ ও ৪ জুনের ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে।

পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা): সকাল ৮টা, পূর্বাঞ্চল (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ): দুপুর ২টা বিশেষ ব্যবস্থা।

ঈদ উপলক্ষে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’।

এছাড়া ২২ ও ২৩ মে ঢাকা-জামালপুর রুটে দুটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য।

আরও পড়ুন

রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, যাত্রার দিন ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট হিসেবে বিক্রি করা হবে। তবে এসব টিকিট দিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে ভ্রমণ করা যাবে না।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ পর্যন্তও বিশেষ ট্রেন চলবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ ডেপুটি স্পিকারের
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ ডেপুটি স্পিকারের
সাবেক এমপি আব্দুল হাইয়ের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাই সিকদারের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সাবেক এমপি আব্দুল হাইয়ের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫,৭৭৯ যাত্রী
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার জেরে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০৩টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪২টি সরাসরি এবং ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি ফ্লাইট। এ ছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এ ছাড়াও ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে ইন্ডিগোর। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, সালামএয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব হয়ে সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানপন্থী ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি অজ্ঞাত বস্তু টার্মিনাল-৪-এ আঘাত হানলে আগুন ধরে যায় এবং ১১ জন আহত হন। এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বিমানবন্দরের কাছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। আরটিভি/এসআর
বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫,৭৭৯ যাত্রী
দুর্গাপূজায় প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস, প্রস্তুত ২০০ বাস
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
দুর্গাপূজায় প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস, প্রস্তুত ২০০ বাস
সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর ঘোষণা বাংলাদেশের
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হলো মালয়েশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে জনবল নেওয়া বন্ধ রাখলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর পুনরায় শ্রমবাজার চালু করেছে দেশটি। এবার মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।  মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।  মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিপুলসংখ্যক কর্মী সেখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাই আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।  আজ পুরো বিষয়টি আপনাদের সামনে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো। আগে কী ব্যবস্থা ছিল, বর্তমান সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের কী সমঝোতা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা অতিরিক্ত কী সুযোগ নিশ্চিত করেছি এবং সামনে এই নিয়োগ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে। আগে যে ব্যবস্থা ছিল ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেই সমঝোতা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।  এ ধরনের যোগ্যতার মানদণ্ড শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। মালয়েশিয়া যেসব উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে, তাদের ক্ষেত্রেও দেশটির নিজস্ব নীতিমালা ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আলোচনার একপর্যায়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখায়, কারণ প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত আমাদের অনেক রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে পূরণ করা কঠিন ছিল। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ও সহায়ক দলিলসহ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এই অবস্থায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কী করেছে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু এবং সম্প্রসারণের বিষয়টিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়াকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।  মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের গুরুত্ব বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন। সেই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন।  আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা নয়। আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক বৈধ ও যোগ্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পাবে এবং একইসঙ্গে আমাদের কর্মীদের স্বার্থ ও অভিবাসন ব্যয় সুরক্ষিত থাকবে। এই নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যায়। একদিকে আমরা মালয়েশিয়ার আইন, তাদের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড এবং বিদ্যমান সমঝোতার প্রতি সম্মান রেখেছি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ যতটা সম্ভব বিস্তৃত করার বিষয়টি আমরা প্রতিটি আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছি। মালয়েশিয়া কী বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং বাংলাদেশ কী অতিরিক্ত সুযোগ নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়া তাদের নিজস্ব যোগ্যতার ভিত্তিতে যে এজেন্সিগুলো তালিকাভুক্ত করবে, আমরা সেটিকে সম্মান জানাই। একই সঙ্গে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিও যেন এই শ্রমবাজারে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজন্সি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি অর্থাৎ মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।  এটি মালয়েশিয়ার নিজস্ব নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের উদ্যোগে নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে; নিজেদের জব ওর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে; বাংলাদেশে নিজেদের কর্মী নির্বাচন করতে পারবে; এবং নিয়ম অনুযায়ী সেই কর্মীদের নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া একটি বড় মাইলফলক হলো, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো কস্ট) নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। আমরা মনে করি, এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে একটি আরও উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। পুরো নিয়োগ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে প্রথম ধাপ: জব ওর্ডার সংগ্রহ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে Job Order বা Demand সংগ্রহ করতে পারবে। দ্বিতীয় ধাপ: কর্মী নির্বাচন যে এজেন্সি জব ওর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে। তৃতীয় ধাপ: মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসিসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। চতুর্থ ধাপ: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, জব ওর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে। কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের কর্মীদের স্বার্থ। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জন্য একজন কর্মীকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই একজন কর্মী যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা ব্যবসা করবেন, নতুন জব ওর্ডার  সংগ্রহ করবেন এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন; কিন্তু সবকিছু করতে হবে দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিদ্যমান এমওইউ অনুযায়ী, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব। শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে, সেহেতু এই প্রক্রিয়ায় সময়ের প্রয়োজন।  তাই মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদ ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টার বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।  মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সেগুলোকে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করবে। আমরা নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়াও যথাসময়ে এই তালিকায় আরও কিছু নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ও সবার জন্য সেই তালিকা ঘোষণা করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর তালিকা নিশ্চিত করবো। আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বৈধ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সর্বোপরি আমাদের কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। এটি শুধু একটি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নয়। আমরা এটিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রম সহযোগিতার একটি নতুন এবং আরও অংশগ্রহণমূলক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই। নিয়োগের জন্য ঘোষণা মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ভাই-বোনদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।  এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা চাই, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনও ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান। এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের সহযোগিতা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন সবার দায়িত্ব সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কর্মী একসঙ্গে এই সুযোগকে সফল করা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুশৃঙ্খল ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলা। আরটিভি/এসআর
সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর ঘোষণা বাংলাদেশের
আরও পড়ুন
ঈদযাত্রার ১৩ দিনে দুর্ঘটনায় ৩০৬ জনের মৃত্যু
ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরে গেছে ২৮১ প্রাণ, বেশি প্রাণহানি মোটরসাইকেলে
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড়
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শত কিলোমিটার যানজট