ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার চারা বিতরণ করবে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার কৃষকদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, জৈব সার, বাঁশের খুঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হবে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে চারা বাবদ ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জৈব সার (গোবর) বাবদ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাঁশের খুঁটি বাবদ ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৭ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ ৫ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চারার প্রজাতি অনুযায়ী কৃষি সহায়তাকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি চারার সঙ্গে কৃষক ৩০ কেজি জৈব সার ও একটি করে বাঁশের খুঁটি বিনামূল্যে পাবেন।

ক্যাটাগরি-১ : প্রতিটি নারিকেল চারার জন্য চারা বাবদ ১৬০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকাসহ মোট ৪১০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ক্যাটাগরি-২ : আম, লিচু, সফেদা, শরিফা, তাল, কাঁঠাল, আতা, তেঁতুল, বাতাবি লেবুসহ এ শ্রেণির চারার জন্য মোট ব্যয় ৩১০ টাকা। এর মধ্যে চারা ৬০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

ক্যাটাগরি-৩ : মাল্টা, জলপাই, করমচাসহ এ শ্রেণির চারার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ টাকা। এর মধ্যে চারা বাবদ ৪০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

ক্যাটাগরি-৪ : অর্জুন, মেহগনি, সুপারি, আমড়া, আমলকী, নিম, ঘোড়া নিম, জাম, বহেরা, বেল, রেনট্রি কড়ই, খেজুর, কাঠবাদামসহ এ জাতীয় চারার জন্য মোট ব্যয় করা হবে ২৪০ টাকা। এর মধ্যে চারা বাবদ ৩০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

সারাদেশে এ কর্মসূচির আওতায় ১৬ লাখ ২৮ হাজার বাঁশের খুঁটি এবং ৪৮ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন জৈব সার বিতরণ করা হবে।

কর্মসূচির শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রজ্ঞাপনে বেশকিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘পিপিএ-২০০৬’ ও ‘পিপিআর-২০০৮’ অনুসরণসহ সব আর্থিক বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

আরও পড়ুন

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি কর্র্তৃক বরাদ্দ করা অর্থ উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ছাড় করা হবে। কারা এবং কোন প্রতিষ্ঠান এসব চারা পাবেন তার তালিকা প্রস্তুত করবেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন কৃষক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন। বসতবাড়ি, পতিত জমি, খালপাড়, সড়কের পাশের ফাঁকা স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব চারা রোপণ করা যাবে।

তারা আরও জানান, তালিকাভুক্ত কৃষকদের ছবিযুক্ত ‘কৃষক কার্ড’ যাচাই করে মাস্টাররোলের মাধ্যমে উপকরণ বিতরণ করতে হবে। কার্ড না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর মাস্টাররোলে সংযুক্ত করতে হবে। প্রকৃত তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধান ছাড়া অন্য কাউকে উপকরণ দেওয়া যাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, চারা, জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই চারা বিতরণ শুরু করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিন দেশের সব জেলা ও উপজেলায় চারা বিতরণ শুরু করা হবে।

কৃষি সচিব আরও বলেন, ‘আমরা ধারাবহিকভাবে ৫ বছরে মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপনের সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে তা নির্ধারিত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পূরণ করব।’

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপজেলা ও জেলা কমিটির মাধ্যমে কৃষক তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্ধারিত ‘কৃষক তথ্য ছক’ পূরণ করে উপকরণ বিতরণ শুরুর আগেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) বরাবর নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য অর্জনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ সমন্বয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ
তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ
ড. ইউনূসকে হয়রানি, নিন্দা জানালেন ১২ সাবেক উপদেষ্টা
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার, হয়রানি ও ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা। তারা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও অনলাইন হয়রানির মাধ্যমে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার ভেঙে দেয়া যাবে না।
ড. ইউনূসকে হয়রানি, নিন্দা জানালেন ১২ সাবেক উপদেষ্টা
বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে তারা অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী
দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী
‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই গুরুত্বপূর্ণ’
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই গুরুত্বপূর্ণ’
আরও পড়ুন
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআইইউ ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে ১৭ ব্যাংক
কৃষি প্রণোদনা পেলেন ৩ হাজার ২২০ কৃষক
বৃক্ষরোপণে দেশ সাজানোর উদ্যোগ, ইনফিনিটি এসএসসি-২০০১ বাংলাদেশের