ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্রের’ দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ছবি: সংগ্রহীত

দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারে নিবেদিত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিহাসচর্চাকেন্দ্রিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সংগ্রহশালা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উদযাপন করছে তার দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

২০১৬ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় জন্ম নেওয়া সংগ্রাহক, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা গিরিধর দের উদ্যোগে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার দুর্লভ আলোকচিত্র ও পেপার কাটিং নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। একটি নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে এটি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ইতিহাসভিত্তিক আর্কাইভে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ঐতিহ্য, লোকজ জীবন, প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দুর্লভ আলোকচিত্র, দলিল ও তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতিহাসচর্চাকে সহজলভ্য, তথ্যসমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গত এক দশকে প্ল্যাটফর্মটির সংগ্রহে যুক্ত হয়েছে ৮৫ হাজারেরও বেশি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, দলিল ও আর্কাইভ উপকরণ। এর মধ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি ছবি ও ঐতিহাসিক দলিল প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ শিক্ষার্থী, লেখক, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা এবং ইতিহাস-অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। প্রতি মাসে এর রিচ ও পাঠকসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের অতীতকে নতুনভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। গবেষণা, প্রকাশনা, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষিত উপকরণ নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগও পরিচালনা করে আসছে। সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে সহায়তার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিনামূল্যে দুষ্প্রাপ্য ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, দলিল ও তথ্য সরবরাহ, গবেষকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান, ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে সরাসরি রণাঙ্গণের বীরত্বগাথা প্রচার এবং হারিয়ে যাওয়া পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের খুঁজে দিতে ‘হারানো বন্ধুর খোঁজে’ শীর্ষক মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে কাজ করা বিভিন্ন সমমনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’। তথ্যবিকৃতি ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার এবং ইতিহাস-সম্পর্কিত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দেশে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে।

দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক গিরিধর দে বলেন,

গত ১০ বছরের এই ধারাবাহিক যাত্রা কোনো সহজ পথচলা ছিল না। এটি ছিল অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসা অমূল্য আলোকচিত্র, দলিল এবং সেগুলোর অন্তর্নিহিত ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক নিরলস প্রয়াস। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম যেখানে সময় কাটায়, সেই পরিসরেই তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এবং ইতিহাসচর্চার একটি উন্মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও ছিল আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

এই অর্জন এখন সমগ্র দেশ ও জাতির। এটি হাজারো শুভানুধ্যায়ী, সংগ্রাহক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক ও ইতিহাসপ্রেমী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মূল্যবান দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আমরা আগামী দিনেও এই কাজ আরও বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ তাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা দুর্লভ আলোকচিত্র ও দলিল আমাদের কাছে তুলে দিয়েছেন। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও আস্থার কারণেই আজ ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ একটি সমৃদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে।

দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে অবদান রাখা সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গবেষক, আলোকচিত্রী, সংগ্রাহক, স্বেচ্ছাসেবক, শুভানুধ্যায়ী এবং অনুসারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

এক দশকের এই অর্জনকে ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহত্তর পরিসরে ডিজিটাল সংরক্ষণ, গবেষণা সহযোগিতা, ঐতিহাসিক দলিল সংগ্রহ, তথ্যভিত্তিক ইতিহাসচর্চার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন।
৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস / বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
নয়াপল্টনে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’এমন নানা স্লোগানে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকা সেনানিবাস ও রাজধানীর রাজপথ। ব্যারাক ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকেরা।
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার একটু আগে সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। সমাবেশ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসছেন নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে রয়েছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা। শোভাযাত্রায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। কর্মসূচি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে ঢাকা ছাড়াও আজ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে একই কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। আরটিভি/এসকে
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস  / শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা