বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে মারা যান ১৮ হাজার মানুষ

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪২ এএম


বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে মারা যান ১৮ হাজার মানুষ
প্রতীকী ছবি

আজ ২৫ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু এখন বিশ্বজুড়ে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারান। এসব মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে। শিশু ও কিশোরদের অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণও এটি।

বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য। সচেতনতা, শিক্ষা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডব্লিউএইচও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এর ফলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশের তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার গড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঘানার রাজধানী আক্রায় আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে ডব্লিউএইচও ‘প্রটেক্ট’ (PROTECT) নামে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সাতটি প্রমাণভিত্তিক কৌশলসম্বলিত একটি নতুন কারিগরি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু শুধু জনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়; এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিরও বড় বাধা। তাই এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্ব সম্মেলনে ঘানার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবেনেজা ক্লুতে টেলাবি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের অকালমৃত্যুর শীর্ষ ১০টি প্রধান কারণের একটি হলো পানিতে ডুবে মৃত্যু। নদী, হ্রদ, পুকুর, উন্মুক্ত কূপ, গৃহস্থালির পানি সংরক্ষণের পাত্র এবং সুইমিংপুলে শিশুরা প্রতিদিন মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ায় এর ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিটি মৃত্যুই একেকটি হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি এবং এর বেশিরভাগই প্রতিরোধযোগ্য। ডব্লিউএইচওর সাতটি কৌশল দেশগুলোকে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। নৌযান নিরাপদ করা, শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং বন্যা ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করাই হতে পারে প্রধান হাতিয়ার।’

পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে,
১. শিশুরা যাতে পানির ধারে একা না যায়, তা নিশ্চিত করা।
২. পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা।
৩. সাঁতারের জন্য নিরাপদ স্থান নির্বাচন করা, যেখানে লাইফগার্ড বা নিরাপত্তাকর্মী থাকে।
৪. নদী, খাল বা পুকুরে যাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং লাইফজ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রশিক্ষিত ডুবুরি দলের সহায়তা গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঁতার শেখাকে প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ জলাধার তৈরি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission