সপ্তাহখানেক ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে চরম গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বাসা-বাড়িতে রান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালকরা। গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
চালকরা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস নিতে পারছেন না। চালকরা বলছেন, এই অবস্থা চলমান থাকলে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাবে তাদের।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি সিএনজি পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মগবাজারের সিএনজি পাম্পের দীর্ঘ সারি। পাম্প থেকে দূরে ইস্কাটন রোডের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে সিএনজির দীর্ঘ সারি। এছাড়া, মগবাজার রেলগেট এলাকায় সিএনজি পাম্পে গাড়ির সারি মগবাজার মোড় পর্যন্ত চলে এসেছে।
চালকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে গ্যাস নিতে। এতে দৈনিক আয় কমেছে তাদের। দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান না হলে সংসার চালিয়ে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।
সিএনজিচালক মনিরুল বলেন, আজকে ৩ ঘণ্টা হলো দাঁড়িয়ে আছি। এখনও গ্যাস নিতে পারলাম না। গতকাল প্রায় ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়েছে। দিনের বেশি সময় চলে যাচ্ছে গ্যাস নিতেই।
আরেক সিএনজিচালক রুবেল বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে গ্যাসের এই সমস্যা চলছে। আমরাও ভোগান্তিতে আছি। আয় কমে যাচ্ছে আমাদের। জমার টাকা দিয়ে এখন আর কিছু থাকে না।
বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।
এদিকে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এলএনজি ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌ. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এফএসআরইউ কবে নাগাদ ঠিক হচ্ছে সেটি এখনও বলতে পারছি না। বিদেশি প্রকৌশলীরা এসেছেন, তারা কাজ করছেন। আগামীকাল নাগাদ প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হতে পারে। এই মুহূর্তে ঠিকঠাক করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
আরটিভি/ এসকেডি




