ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে সয়াবিন তেলে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলে দূষণের এই মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার কাছাকাছি অবস্থান এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের কারণে এমন দূষণ ঘটছে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে তেলের এসব নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বে এবারই প্রথম কোনো গবেষণায় উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশ বা ফাইবারজাতীয়। পাশাপাশি ৫৬.২৯ শতাংশ কণা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং ৩৫.৮৪ শতাংশ কণার আকার ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি প্রাক্কলনও তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণায়। এতে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তবে কম ওজনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। একটি শিশু তার জীবনদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষণা দলটির প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহে প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোজ্যতেলের এই দূষণের আগে দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরব্যাপী পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) প্লাস্টিক কণা রয়েছে।

ইএসডিওর ওই গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা ছিল মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়। এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই এই দূষক পাওয়া যায়। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন অ্যাপ ‘ভূমিদৃষ্টি’, যেভাবে মিলবে সুবিধা
মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অ্যাপ ‘ভূমিদৃষ্টি’ চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন অ্যাপ ‘ভূমিদৃষ্টি’, যেভাবে মিলবে সুবিধা
সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার
দেশের সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় টেকসই জ্বালানি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যখন বেতন-ভাতা বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখন বাংলা নববর্ষ ভাতায় পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। নতুন বেতন কাঠামোয় বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সামষ্টিক কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের জোরালো সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।
সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর থেকে বাড়ি উপহার পেলেন সেই গোলাপি বেগম 
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।  মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।  প্রায় এক বছর তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করা হয়। পরবর্তীতে তার স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ‎ আরটিভি/এসআর
প্রধানমন্ত্রীর থেকে বাড়ি উপহার পেলেন সেই গোলাপি বেগম 
আরও পড়ুন
কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট
এবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামে বড় লাফ
৫১৯ কোটি টাকার চিনি, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কিনছে সরকার
ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক