ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে গুমের চেষ্টা হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ফাইল ছবি

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নৃশংস এক সামরিক অভ্যুত্থানে খুন হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ডের পর তার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহটি গুম করেন বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তারা।

৪৫ বছর আগের সেই দিনটিতে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করেছিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার গঠিত এক কমিশন। সেই কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত কপি হাতে পেয়েছে ডেইলি স্টার।

সেই প্রতিবেদন অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুলিবিদ্ধ মরদেহের ময়নাতদন্তে শরীরে পৃথক ২০টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি সংযুক্ত রয়েছে, যেখানে ক্ষতগুলোর ধরন ও ব্যাপ্তি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির মুখে বেশ কয়েকটি গুলি লেগেছিল। তার নিচের চোয়ালের হাড় টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল এবং ঘাড়ের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির কারণে এমনটি হয়েছিল। তার বুক ও পেটে প্রায় ১০টি গুলির ক্ষত, ডান হাতে দুটি, নাভির নিচে একটি এবং দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ছোট ক্ষত ছিল।

১৯৮১ সালের ৩০ মে সকালে এমন ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মরদেহ সার্কিট হাউসের ৪ নম্বর কক্ষের সামনে পড়ে ছিল। বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারসহ সেখানে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সবাই ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। মরদেহ পাহারায় রেখে যাওয়া হয় এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে তারা উদ্বিগ্ন ও বিভ্রান্ত ছিলেন। ঘটনাটি স্থানীয় সেনাবাহিনীর একটি অংশ ঘটিয়েছে এবং সেনাসদস্যরা টহলে রয়েছেন—এমন আশঙ্কায় তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি এবং নিজেদের ক্ষমতা ও বিবেচনাবোধ প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতির মরদেহের নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও ব্যর্থ হন। ওইদিন কমিশনারকে ডিভিশন সদর দপ্তরে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর।

সকাল সাড়ে ৮টায় দুটি সামরিক জিপ ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসজ্জিত একটি সেনা ভ্যান সার্কিট হাউসে পৌঁছায়। সেখান থেকে তিনজন মেজর ও ১০-১৫ জন সিপাহী নেমে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার মুখোমুখি হন। তারা আব্দুস সাত্তার ও আবুল কালাম নামে ওই দুই কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে দোতলায় নিয়ে যান। এরপর তারা রাষ্ট্রপতির কক্ষে ঢুকে তাদের কাছে ‘গোপন নথিপত্রের’ বিষয়ে জানতে চান এবং নিজেরাই কক্ষটিতে তল্লাশি শুরু করেন।

এনএসআইয়ের ওই দুই কর্মকর্তার একজন উপসহকারী পরিচালক আব্দুস সাত্তারের সাক্ষ্য নিয়েছিল তদন্ত কমিশন।

তার বক্তব্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এভাবে, ‘তারা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে একটি স্যুটকেসে রাখেন। স্যুটকেস ও আরও কিছু জিনিস নিচতলায় নামিয়ে আনা হয়। মেজররা আবুল কালামকে সেগুলো পাহারা দিতে বলেন এবং আব্দুস সাত্তারকে তাদের সঙ্গে দোতলায় যেতে বলেন। মেজররা অন্য কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালান এবং সেই সময় আব্দুস সাত্তার একজন মেজরের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মরদেহ পাহারা দিচ্ছিলেন।’

আরও পড়ুন

প্রতিবেদনের এই অংশেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়, তাদের একজন আরেকজনকে ‘মেজর মোজাফফর’ বলে সম্বোধন করে রাষ্ট্রপতির বিছানার চাদর নিয়ে আসতে বলেন। একটি সাদা চাদর দিয়ে মরদেহটি ঢেকে দেওয়া হয় এবং আরেকটি চাদর দিয়ে মরদেহটি মুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপর কয়েকজন সিপাহীর সহায়তায় তারা রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিচে নামিয়ে আনেন। একইসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের মরদেহও নিচে নামিয়ে তিনটি মরদেহই ভ্যানে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) ও কয়েকজন সিপাহী একটি সামরিক জিপে সার্কিট হাউসে প্রবেশ করেন এবং জিয়াউর রহমানের স্যুটকেসটি নিয়ে যান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউর রহমানের মরদেহটি নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না যে সেটি কোথায় নেওয়া হয়েছে বা কোথায় সমাহিত করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ১ জুন বিদ্রোহী সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ডিং অফিসার ব্রিগেডিয়ার আজিজুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির মরদেহের সন্ধান শুরু করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি জানতে পারেন কাপ্তাই সড়কের কোথাও মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এডিসি ক্যাপ্টেন মাজহারুল হক ও ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান, ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খালেক, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ, পুলিশ ও এনএসআই সদস্যরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা কাপ্তাই সড়কের পাশে পাথরঘাটা গ্রামের একটি পাহাড়ের ঢালে কবরটির সন্ধান পান।

জিয়াউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঈনুল আহসান ও ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খানের মরদেহ একটি গণকবরে দাফন করা হয়েছিল। মরদেহগুলো কবর থেকে তুলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখা এবং বিদ্রোহীরা যাতে সেটি নিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহীরা প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সরিয়ে নেয়ার আগে সেটি সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশ বা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে প্রতীয়মান হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবেননি।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান ও দুই প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান জানান, সকালে রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি তার মাথায় এসেছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম গ্যারিসন বিদ্রোহ করেছে—এ বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত তথ্য থাকায় এবং বিদ্রোহ দমন না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ সুরক্ষিত করার বিষয়টি বিবেচনার বাইরে ছিল।

ভোরে সার্কিট হাউসে যাওয়া নৌবাহিনী প্রধান জানান, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ তার কাছে কোনো সহায়তা চাননি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি শুধু সামরিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না বলে তার মরদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরও জানান, ওই মুহূর্তে তার কাছে সবচেয়ে জরুরি কাজ মনে হয়েছিল জাহাজগুলোকে সতর্ক করা এবং বন্দর ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রাখা। কারণ, নদীতে নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে ছিল।

ওই রাতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সার্কিট হাউসে থাকা জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মহিবুল হাসান জানান, তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে অবিলম্বে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। উত্তরে তাকে বলা হয়েছিল, মাহফুজ ওয়্যারলেসে সামরিক সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তারা হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের আশঙ্কা হয়, সেনাবাহিনী নিজেই হয়তো এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাই তিনি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান। কারণ, তাদের মনে হয়েছিল সেখানে আর অবস্থান করা সমীচীন হবে না।

ঘটনার দিন সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সার্কিট হাউসে ঢোকেন তৎকালীন বিদ্যুৎ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এল কে সিদ্দিকী। তিনি কমিশনকে জানান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ তাকে বলেছিলেন, ঢাকায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাকে সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যেতেও বলা হয়েছিল।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শামসুল হুদা চৌধুরী কমিশনকে জানান, ঢাকায় মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান কমিশনকে জানান, রাষ্ট্রপতির মরদেহ উদ্ধার করার বিষয়ে ঢাকায় মন্ত্রিসভা কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তার মনে পড়ে না।

তিনি বলেন, এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে (চট্টগ্রামে) স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজেদের উদ্যোগে কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশিত ছিল। তারা ব্যবস্থা নিতে পারতেন এবং পরে আলোচনা করে সেটার অনুমোদন দেয়া যেত।

স্থানীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে কী করতে পারতেন— কমিশন এমন প্রশ্ন করলে তিনি জবাবে বলেন, তারা মরদেহটি কোথাও লুকিয়ে রাখতে পারতেন। তার মতে, চট্টগ্রামের বাইরে মরদেহটি নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতো।

কমিশনের কাছে এই কথাটি হাস্যকর মনে হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী, স্থানীয় কর্মকর্তারা কীভাবে মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লুকিয়ে রাখতে পারতেন, সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। তারা সেটি কোথায় লুকিয়ে রাখতেন? এমন পরিস্থিতিতে ওই সকালে তাদের কাছ থেকে এমন একটি পদক্ষেপের কথা ভাবা আদৌ কি স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা করা যায়?

কমিশন আরও বলেছে, ওই সময় সার্কিট হাউসে উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের—অর্থাৎ দুই প্রতিমন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধানের—কেউই প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কোনো পরামর্শ বা নির্দেশ দেয়ার কথাও ভাবেননি।

কমিশনের মন্তব্য, আমরা দেখেছি, জাতীয় সংকটের সেই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়ার কথা মন্ত্রিসভার মাথায়ও আসেনি। মন্ত্রীরা স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেয়ার প্রত্যাশা করলেও কমিশন তাদের বিষয়টি তুলনামূলক সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করেছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে সকালে মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে বৈঠকের সময় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি তুলেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে তাকে বলা হয়েছিল, সেনাবাহিনী মরদেহটির দেখভাল করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে সকাল থেকে ১ জুন ভোররাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।

কমিশনের ভাষ্য, ৩০ মে সকালে বিরাজমান অস্বাভাবিক ও গুরুতর পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কারও পক্ষেই সার্কিট হাউস থেকে রাষ্ট্রপতির মরদেহ সরিয়ে নেয়া বাস্তবসম্মত ছিল না। বিশেষ করে ৩০ মে সকাল থেকেই সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে সেনাবাহিনীর একটি অভ্যুত্থান ঘটেছে, স্থানীয় সেনাবাহিনী চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং বেতার কেন্দ্র, টিঅ্যান্ডটি (টেলিফোন লাইন) ও বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনা ইউনিটগুলো অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশনা বা সাড়া না পাওয়ায় তাদের (স্থানীয় কর্মকর্তাদের) অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তারা ‘অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখার নীতি’ গ্রহণ করেছিলেন এবং এ জন্য তাদের দোষ দেওয়া যায় না।

প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করে, সার্কিট হাউসে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখতে না পারার জন্য পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সদস্যেরই আমরা কোনো দোষ খুঁজে পাইনি।

ময়নাতদন্তের পর জিয়াউর রহমানের মরদেহ বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজে ঢাকায় আনা হয় এবং প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতি ভবন’ ও পরে জাতীয় সংসদে নেওয়া হয়। ১৯৮১ সালের ২ জুন তার জানাজার জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশাল জনসমাগম হয়। এরপর মরদেহটি ক্রিসেন্ট লেকের পাশে দাফন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি কবরে নামানোর সময় তিন বাহিনীর তিনটি কন্টিনজেন্ট সশ্রদ্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল, সেনাবাহিনীর বিউগলবাদকেরা ‘লাস্ট পোস্ট’ বাজান, তিন বাহিনীর প্রধানরা নেতাকে স্যালুট জানান এবং সেখানে সমবেত বিপুল সংখ্যক জনতা আবেগ ও অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে হত্যার এক সপ্তাহের মাথায়; অর্থাৎ ৬ জুন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠন করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ আফজাল (যিনি পরে প্রধান বিচারপতি হন) এবং খুলনার জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ সিরাজউদ্দিন আহমেদ।

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ মোট ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয় সেই তদন্ত কমিশন।

কমিশনের তদন্তে যা উঠে এসেছে তার মূল কথা হলো, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই শিথিল ছিল যে সার্কিট হাউসে ব্যাপক অস্ত্রসজ্জা থাকা সত্ত্বেও হত্যাকারীরা প্রায় বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়ে তোলা হয়নি; তাদের জন্য যেন পুরো ঘটনাটি ছিল ‘ভিনি, ভিডি, ভিচি’।

কথাটি জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তি। যার অর্থ, ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।’

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কক্সবাজার থেকে আসা একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে।
ঢাকায় বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি এবং গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করেন। এর সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। গবেষকরা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। গবেষকদের দাবি, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। আরটিভি/টিআর
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ সরকারের
কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানী নিশ্চিতে সারাদেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী ও ৪০ শতাংশ পুরুষ রাখা হয়েছে। সম্ভাবনাময় কৃষি খাত এগিয়ে নিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতেই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্র্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরেমশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপ এন্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’- (ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং বা ডিএএম) প্রকেল্পর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ২০৮টি উপজেলায় ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের আওতায় কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বীজ, নার্সারি, মাশররুম, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন উপখাতে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের জন্য ভ্যালুচেইনভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রকেল্পর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পাওয়া উদ্যোক্তাদের অন দ্যা জব প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ইনকিউবেশন সাপোর্টের মাধ্যমে পাঁচটি কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি নিশ্চিতে কাজ করেছ। প্রকল্প থেকে পাঁচটি কৃষিপণ্য যেমন— আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো ও সুগন্ধি চালের ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি গঠন করা হবে। ইতোমধ্যেই ভ্যালুচেইন প্রমোশনাল বডির নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে বলে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের ম্যাচিং প্রান্ট সহায়তা করা হবে। ম্যাচিং প্রান্ট হিসেবে গৃহ পর্যায়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি দেয়া হবে। এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রকল্প হতে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়া হবে। বাকি ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তারা নিজে বহন করেব। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার-ডিএএম অঙ্গের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, মাশরুম, নার্সারি, ভার্মিকম্পোস্ট, পাটজাত পণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক খাতে উদ্যোক্তা তৈরির কাজ চলেছ। তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭৫ জনেক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৭ হাজার উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, সারাদেশের ৬৪ জেলা ও ২০৮টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলেছ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তা তৈরি নয়, তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান ও বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের ইনকিউবেশন সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য যে সকল বাধা রয়েছে, তা দূর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইনকিউবেশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ডিএএমের আওতায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকায় এ ধরেনর ৭৬৭টি স্কুল গঠন করা হয়েছে। এ প্রসেঙ্গ ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘যে এলাকায় যে পণ্যের উৎপাদন বেশি, সেখানে সেই পণ্যকে কেন্দ্র করে মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে। আলুর ক্ষেত্রে ২২৭টি স্কুল করা হয়েছে। এ বছর আরও ৩৩৫টি স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এসব স্কুলের মাধ্যমে কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, হিমাগার মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য বাজার-অংশীজনকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের পুরো বাজারব্যবস্থার সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা সহজ হবে। উদ্যোক্তাদের দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির কান্ডারি উল্লেখ পার্টনার প্রকেল্পর কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, উদ্যোক্তারা শুধু নিজে স্বাবলম্বী হয় না, তারা সমাজের আরও দশজনকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হতে হলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও বিভিন্ন নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা নিয়ে কাজ করে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিক ও সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণ নেয়া উদ্যোক্তারা তাদের পপ্রাণচাঞ্চল্য, কর্মস্পৃহা ও জীবনী শক্তি দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেবন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১২ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক দক্ষতা অর্জন করেছেন গাজীপুরের তামিমা আক্তার ন্যান্সি। জেলার সদর থানার পিরুজালী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের ন্যান্সী পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেতন। অল্প সময়ের মধ্যেই শুররু করেন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, এতে সফলতা ও পপ্রশংসা পেয়ে জ্যাম, জেলি, আচার, কাঁঠাল ও মাছের চিপস তৈরি করে স্থানীয় বাজারে স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে ন্যান্সির সঠিকভাবে পণ্য উৎপাদন, নির্বাচন ও সংরক্ষণে কিছু সমস্যা হলেও, পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। গাজীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য সনদসহ প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স সংগ্রহ করেন ন্যান্সী। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যান্সি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড’—এ বর্তমানে চারজন কাজ করেছন।   শুধু ন্যান্সিই নন, উদ্যমী ও তরুণদের আয়বর্ধন কাজে নিয়োজিত করতে দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরি করার এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষিখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষি খাত দেশের সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু এ খাতে বাস্তবধর্মী ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব, কাঙ্ক্ষিত আধুনিকায়ন না হওয়া এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে না ওঠায় পিছিয়ে পড়ে কৃষি খাত। অথচ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাড়াতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে কৃষি খাত। আর এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা তৈরীর এমন উদ্যোগ নিয়েছে। আরটিভি/টিআর
২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ সরকারের
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ, তিনজন আটক
ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে এবং অপরটি উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ, তিনজন আটক
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: হুমায়ুন কবির
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল ও পেশাদার অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শনিবার (১০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ বিষয়ক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। ইসলামের পুণ্যভূমি মক্কা ও মদিনা শরিফের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের কোনো ধরনের আপস নেই। পবিত্র এই ভূমি যদি কখনো আক্রান্ত বা হুমকির মুখে পড়ে, তবে প্রয়োজনীয় যে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা দিতে ঢাকা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল ও পেশাদার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রমবাজার। দেশটিতে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে বিশ্বাস ও আস্থা। বাংলাদেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না, বরং বিনিয়োগের অংশীদার হতে চায়। দেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে ঢাকা। শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলে মক্কায় যোগ দেয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আরটিভি/টিআর
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: হুমায়ুন কবির
আরও পড়ুন
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে
রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে মিলল কিশোরীর মরদেহ
রাতে নিখোঁজ, সকালে সড়কের পাশে মিলল যুবকের মরদেহ
উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর, পরে মিলল মেয়ের মরদেহ