ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কক্ষে ঢুকে পড়ে হত্যাকারীরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল সেসময়; তবে কখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি সেই কমিশনের প্রতিবেদন।

সেই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত কপি হাতে পেয়েছে ডেইলি স্টার। কী ছিল ৪৫ বছর আগের সেই প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনটিতে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ইউসুফ মো. মাহফুজুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার আগেই সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন মাহফুজুর রহমান এবং পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় তার।

প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মুজিবুর রহমান এবং রাষ্ট্রপতির এইড-ডি-ক্যাম্প (এডিসি) ক্যাপ্টেন মাজহারুল হকের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। মেজর মুজিবুর রহমানকেও ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসি দেয় সামরিক আদালত।

৪৫ বছর আগের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত স্টাফদের একজন বা একাধিক সদস্যের কারণে তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল।

ঘটনার রাতে সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের কক্ষের পূর্ব পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান। কমিশনকে দেওয়া বক্তব্যে ক্যাপ্টেন মাজহারুল হক জানান, গুলিবর্ষণ পুরোপুরি থেমে যাওয়ার পর তিনি রুম থেকে বের হন। এরপর তিনি ৪ নম্বর রুমের দিকে অগ্রসর হন, এই রুমেই ছিলেন জিয়াউর রহমান। এসময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুরকে বারান্দার অন্য পাশ থেকে আসতে দেখেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান ক্যাপ্টেন মাজহারুল হককে জানান যে, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তারা ৪ নম্বর রুমের সামনে রাষ্ট্রপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। তার দেহ বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল এবং খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ার কারণে তার মুখের একাংশ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন

ক্যাপ্টেন মাজহারুল জানান, তারা রাষ্ট্রপতির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএফএম মইনুল আহসান এবং প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খানের মরদেহও দেখতে পান। আহসানের মরদেহ করিডোরে এবং হাফিজ খানের মরদেহ সার্কিট হাউসের প্রথম তলার উত্তর বারান্দার পূর্ব দিকে পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে— অভিযানের সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মইনুল আহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজ তাদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হামলাকারীদের একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য, অন্য দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ কীভাবে শরীরে সামান্য আঁচড়ও না লেগে বেঁচে গেলেন, তা চিরকালই এক রহস্য হয়ে থেকে যাবে।’

কমিশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজের ঘরের ভেতরের দেয়ালে গুলির চিহ্নগুলো পরীক্ষা করে, যেগুলো সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন যে দরজার বাইরে থেকে ছোড়া গুলিতে সেগুলো হয়েছে। কমিশন বলেছে, ওই ঘরটি পরীক্ষা করার সময় আমরা পুলিশের দেয়া কিছু বিশেষজ্ঞ মতামত পেয়েছি। এটা খুবই অসম্ভব বলে মনে হয়েছে যে ওই গুলির চিহ্নগুলো বাইরে থেকে হতে পারে। চিহ্নগুলোর অবস্থান ও ধরন এমন যে, পরবর্তীতে সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

প্রতিবেদনে পরবর্তীতে উঠে আসে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও ক্যাপ্টেন মাজহার কেউই তাদের ঘর থেকে বের হননি যতক্ষণ না তাদের দরজায় টোকা দেওয়া হয় এবং হত্যাকারীরা চলে যাওয়ার অনেক পরে একজন ওয়্যারলেস অপারেটর তাদের ডেকে বাইরে আনেন।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, কমিশন দেখতে পেয়েছে এই দুই সেনা কর্মকর্তা নিজেদের কক্ষের ভেতরে টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে আসার কোনো চেষ্টাই করেননি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির প্রতি তাদের অনুরাগ ও দায়িত্বের কথা বিবেচনা করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই আচরণ তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিক আচরণের সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

ক্যাপ্টেন মাজহারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তার কক্ষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কক্ষের একটি সংযোগ দরজা ছিল, কিন্তু গোলাগুলির সময় তিনি সেটি খোলার চেষ্টা করেননি। মাজহার তাদের জানান যে, তিনি রাষ্ট্রপতির কক্ষে টেলিফোন করার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কক্ষ দুটির মাঝে একটি সংযোগ দরজা রয়েছে। ঘটনার সময় ওই দরজা দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছানো, অথবা অন্তত সেই চেষ্টা করাই ছিল এডিসির জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ। হত্যাকারীরা যখন রাষ্ট্রপতির কক্ষের দরজায় আঘাত করছিল, তখন তার পালানোর সম্ভাব্য পথগুলোর একটি ছিল এডিসির কক্ষ। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সংযোগ দরজাটি অন্য পাশ থেকে বন্ধ থাকলেও এডিসি তাতে জোরে আঘাত করে আসন্ন বিপদের মুখে থাকা রাষ্ট্রপতিকে তার কক্ষে নিয়ে আসার তাগিদ দিতেন। এতে শেষ পর্যন্ত নিস্তার না পেলেও রাষ্ট্রপতি অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও একঝাঁক গুলি থেকে রক্ষা পেতে পারতেন। ওই দরজা খোলা থাকলে কী ঘটত, সেটা আমরা জানি না। এডিসির কাছ থেকে শুনে আমরা বিস্মিত হয়েছি যে, তার কক্ষ ও রাষ্ট্রপতির কক্ষের মধ্যে একটি সংযোগ দরজা থাকার বিষয়টি নাকি তিনি জানতেনই না।’

তারা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে সন্দেহ করার আরও কয়েকটি কারণও উল্লেখ করেছেন। প্রমাণে দেখা গেছে যে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ বেশ অস্বাভাবিকভাবে সকালে এনডিসি নাসিরউদ্দিনকে (সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা) সার্কিট হাউসের কোন কক্ষে কে থাকছেন, তার তালিকার টাইপ করা কপি সরবরাহ করতে বলেন। কক্ষ বণ্টন এনডিসি দ্বারা করা হয় এবং কক্ষ বিন্যাস দেখানোর জন্য একটি তালিকা কেবল বোর্ডে টাঙিয়ে রাখা হয়, এবং এর কোনো অনুলিপি কাউকে সরবরাহ করার জন্য তিনি বাধ্য নন। আমাদের জানানো হয়েছে যে, এর আগেও যখন রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউসে থেকেছেন, তখন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ কখনও কক্ষ বরাদ্দের তালিকা চাননি।

তদন্তে আরও অনেক তথ্য খুঁজে পেয়েছে কমিশন। হাউস গার্ডের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ তার সাক্ষ্যে বলেন, রাত ১০টায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ তাকে রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে নিয়োজিত দুই হাউস গার্ডকে সরিয়ে নিতে বলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওই দুই প্রহরীর কারণে রাষ্ট্রপতির অসুবিধা হবে।’ ফলে রাষ্ট্রপতির কক্ষের বাইরে কোনো প্রহরী ছিল না।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজের প্রচেষ্টার অভাব ছিল বলে মনে করেছে কমিশন। এ কারণেও তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ পর বিদ্রোহী সেনাদের একটি দল জিয়াউর রহমানের মরদেহ নিয়ে যায় এবং অজ্ঞাত স্থানে দাফন করে। পরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেই স্থানটির সন্ধান পাওয়া যায়। নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের মরদেহ ঘটনাস্থলে কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে সেনা সদর দপ্তরে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যাতে রাষ্ট্রপতির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।

তিনি খুব ভালো করেই জানতেন যে রাষ্ট্রপতির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কারও উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্থানীয় বেস কমান্ডারের কাছ থেকে একটি হেলিকপ্টার চাইতে তার কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাহফুজ সার্কিট হাউস থেকে ডিভিশনাল কমিশনারের বাসভবনে রাষ্ট্রপতির রোভার সেট (ওয়্যারলেস) বহন করে নিয়ে যান এবং ৩০ মে সকাল ১১টার পর মেজর লাজদানি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও অন্যদের ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেটটি এবং ওয়্যারলেস অপারেটর নায়েক আবুল বাশার সেখানেই ছিলেন। এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ সেই সময়ে সেনা সদরদপ্তর থেকে কোনো তথ্য জানানোর বা কোনো নির্দেশনা চাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ, তার কাছে সব উপায়ই ছিল।

মেজর রওশন ইয়াজদানি ভূঁইয়া বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম এবং ৬৫তম পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর ছিলেন। সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) স্থানীয় কর্মকর্তা-ইন-চার্জ মেজর মুজিবুর রহমান দিনের বেলায় সার্কিট হাউস পরিদর্শন করেন এবং নিচতলায় রাষ্ট্রপতির সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রতিবেদনে কমিশন বলে, সেখানে তার (মেজর মুজিবুর রহমান) থাকার কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছিল না। আমরা এটা মানতে রাজি নই যে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এবং স্থানীয় জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি)-এর মধ্যকার সম্পর্কের প্রেক্ষাপট, সেইসঙ্গে মেজর জেনারেল মনজুরের কমান্ডাধীন ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এবং স্থানীয় এফআইইউ-এর মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও ক্যাপ্টেন মাজহার অবগত ছিলেন না।

তারা এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করছিলেন যে, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিদ্রোহী সরকার গঠনকারী ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আবুল মনজুর প্রয়াত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করছিলেন।

কমিশন জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী আশা করা হয়েছিল যে, সার্কিট হাউসে মেজর মুজিবের অনাকাঙ্ক্ষিত সফরটি কোনো গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রেকি করার জন্য ছিল—এ বিষয়ে একটি তীক্ষ্ণ সন্দেহ তৈরি হবে। এটা বেশ অদ্ভুত যে, তাদের কেউই সার্কিট হাউসে মেজর মুজিবের এই সফরকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি; এমনকি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও না।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে হত্যার এক সপ্তাহের মাথায়; অর্থাৎ ৬ জুন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠন করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ আফজাল (যিনি পরে প্রধান বিচারপতি হন) এবং খুলনার জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ সিরাজউদ্দিন আহমেদ।

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ মোট ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয় সেই তদন্ত কমিশন।

কমিশনের তদন্তে যা উঠে এসেছে তার মূল কথা হলো, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই শিথিল ছিল যে সার্কিট হাউসে ব্যাপক অস্ত্রসজ্জা থাকা সত্ত্বেও হত্যাকারীরা প্রায় বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়ে তোলা হয়নি; তাদের জন্য যেন পুরো ঘটনাটি ছিল ‘ভিনি, ভিডি, ভিচি’।

কথাটি জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তি। যার অর্থ, ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।’

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রস্তুতিমূলক সভা ডেকেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এদিন বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক নোটিশে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নোটিশ অনুযায়ী, প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা দেবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। গ্রাম পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দফাদার ও মহল্লাদার পদে দায়িত্ব পালনকারী এ বাহিনীর সদস্যরা গ্রামীণ এলাকায় পাহারা ও টহল দেওয়া, অপরাধ দমনে থানা পুলিশকে সহায়তা করা, অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি কাজে সহযোগিতা করেন। তবে দায়িত্বের তুলনায় বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কম থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, বেতন গ্রেড পুনর্নির্ধারণ, রেশন, চিকিৎসা ও ঝুঁকি ভাতা এবং অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।  এ ছাড়া বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং চাকরির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আরটিভি/এসআর ‎  
৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা বনানীতে, দাফন মিরপুরে
শনিবার (৯ অক্টোবর) সকালে লন্ডন থেকে তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা বনানীতে, দাফন মিরপুরে
ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্রুত ঢাকার বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন (সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা) বাস্তবায়নেরও নির্দেশ নিয়েছেন তিনি। এ পদ্ধতিতে একটি রুটে একাধিক নয়; মাত্র একটি কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্টদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  এ নির্দেশ দেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাস রুট রেশনালাইজেশনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক সমিতিকে। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। গাড়ির ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকিটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সমীক্ষায় বর্তমানে সচল ৯৮টি রুট ও ৬৬টি কোম্পানিকে পুনর্গঠন করে ৩২টি ক্লাস্টার রুটে একীভূত করা হবে। বিআরটিএ এবং মালিক সমিতির সমন্বয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রথম দুটি অগ্রাধিকার রুট চূড়ান্ত করা হবে। একই দিনে পৃথক আরেকটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো জোরদারে প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি স্টেডিয়াম ও খেলার মাঠ গড়ে তোলার কঠোর নির্দেশ দেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি ২-৩টি ওয়ার্ডের বিপরীতে ন্যূনতম একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ক্রীড়া কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পিতা বরকত উল্লাহসহ তার পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাতকালে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচারকার্য সম্পন্ন করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে আবরারের পরিবারকে সব ধরনের আইনগত ও নৈতিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গিয়াস উদ্দিন রিমন
ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমনকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গিয়াস উদ্দিন রিমন
ইউপি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে সোমবার: ইসি সানাউল্লাহ
কমিশন সভায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ সোমবার (১২ অক্টোবর) চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। 
ইউপি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে সোমবার: ইসি সানাউল্লাহ
আরও পড়ুন
বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’
শ্রমজীবী নারীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার: শ্রমমন্ত্রী
জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের নতুন উদ্যোগ, মহাপরিকল্পনা