বাংলাদেশ-নেপাল মৎস্য খাতে ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) নেপালের চিতওয়ানে অনুষ্ঠিত নেপাল ফিশারিজ (মৎস্য) ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এনএফডিএ-এর প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা ও সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপাল সরকারের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা কুমারী চৌধুরী।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মৎস্য খাতের ব্যাপক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং লাখো মৎস্যচাষি ও জেলেদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মৎস্য উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক হ্যাচারি উন্নয়ন, জলজ চাষের সম্প্রসারণ, উন্মুক্ত জলাশয়ের কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ, উন্নত খাদ্য ও রোগ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সরকার, একাডেমিয়া ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাই বাংলাদেশের এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত রহমান বলেন, হিমালয় থেকে উৎসারিত অভিন্ন নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশ একটি যৌথ পরিবেশগত পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ। ফলে মৎস্য ও জলজ চাষ খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা বিদ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় দেশের নতুন গনতান্ত্রিক নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ-নেপাল অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে— নেপালের জলাভূমি ও জলাধারে বাংলাদেশের সফল উন্মুক্ত জলাশয়ভিত্তিক মৎস্য উন্নয়ন মডেলের অভিযোজন, মাছের আহরণ-পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন, কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, গবেষক ও বিজ্ঞানী মাঝে সংযোগবৃদ্ধি, মৎস্য বিশেষজ্ঞদের পারস্পরিক সহযোগিতা, বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মৎস্য সংগঠনসমূহের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জলজ প্রতিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই জলজ চাষ প্রসারে গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাবে নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র সম্পর্কে তার মতামতের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের সমাপ্তিতে নেপাল মৎস্য (ফিশারিজ) ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের ঐতিহাসিক প্রথম সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতের সকল কার্যক্রমের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
আরটিভি/টিআর



