ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত: পটুয়াখালী ইপিজেডে প্রস্তুত ৬০ প্লট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) থ্রিডি ছবি

নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতোমধ্যে ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। এখানে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরি করা হচ্ছে।

বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দের কাজ একইসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই কারখানা স্থাপন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারেন।

দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই পটুয়াখালী ইপিজেড গড়ে তোলা হচ্ছে।

১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল শুরুতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বেপজার মধ্যে জমির দখল ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইপিজেডটিতে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হবে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া ইপিজেডটিতে সরাসরি প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে আরও প্রায় ২ লাখ মানুষের।

ইপিজেডের অবকাঠামো উন্নয়নকাজও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে।

বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ভবন, আদর্শ কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ১১ কেভি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন এবং ৩৩/১১ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।

পুনর্বাসন এলাকায় পরিকল্পিত ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ।

প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা চারটি আদর্শ কারখানা ভবন, ১০ তলা তিনটি আবাসিক ভবন এবং তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একটি সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) নেটওয়ার্ক এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেডের ভেতরে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে।

এদিকে প্রস্তুত প্লটের খবর বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহী করে তুলছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শন করে সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনের আরও একটি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলও সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে বেপজা।

বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত শিল্প প্লট ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার মাধ্যমে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি রপ্তানি বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার রিকশা চালাতেও লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্স!
কিলোমিটার হিসাবে ই-রিকশার ভাড়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এবার রিকশা চালাতেও লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্স!
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
‘তিন মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার। এরমধ্যে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
‘তিন মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার’
মানামা ডায়ালগে অংশ নিতে বাহরাইনে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিদল
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন আইআইএসএস মানামা ডায়ালগ ২০২৬-এ অংশ নিতে বাহরাইন সফর করছেন বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল। ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন আইআইএসএস মানামা ডায়ালগ ২০২৬। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন। সম্মেলনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সফরে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশের এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন বাহরাইন (অনিবাসী) ও কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল করিম চৌধুরীসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাহরাইন সফরের অংশ হিসেবে গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাস, মানামা পরিদর্শন করেন সামরিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা প্রদান করা হয়। পরিদর্শনকালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান দূতাবাসের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এ সফর বাংলাদেশ ও বাহরাইনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সামরিক, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আরটিভি/টিআর
মানামা ডায়ালগে অংশ নিতে বাহরাইনে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিদল
পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু করছে সরকার
পরিবার পরিকল্পনা জোরদার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বছরব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ এই স্লোগান সামনে রেখে আগামী ১ ডিসেম্বর পরিচালিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানান গেছে, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ও প্রজনন পরিস্থিতি বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে এবং মাঠপর্যায়ে সেবা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা হবে। দেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।  অন্যদিকে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে বছরব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।’ তিনি বলেন, আমরা প্রাইমারি লেভেল থেকেই কার্যক্রম শুরু করব। জারি গান, সারি গান, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ নানা মাধ্যমে স্লোগান প্রচার করা হবে। তবে এ উদ্যোগ শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা ২ দশমিক ১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।  বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে বছরব্যাপী ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এর মধ্যে মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাট-বাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ততা, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা, ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর সেবা, ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতি কাউন্সেলিং এবং পুরুষদের সম্পৃক্তকরণ। বিনা মূল্যে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর প্রচার, পল্লিচিকিৎসক ও ধাত্রীদের রেফারেল অংশীদারি এবং এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র‌্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া এক বছরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন এবং ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ প্রায় ২৮ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রী কেনা বন্ধ থাকায় অনেক উপজেলা ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত নেই। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের (এসসিএমপি) মনিটরিং ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি উপজেলায় কনডমের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ৩৫৪টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ৪২৮টি উপজেলায় আইইউডির মজুত নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বাসস’কে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অপারেশনাল প্ল্যানের অসমাপ্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গর্ভনিরোধক সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।  ডিসেম্বর নাগাদ এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জিনাত রেহানা বলেন, আমাদের জিনিসপত্র হাতে আসছে। এখন জনগণকে জানাতে হবে যে, গর্ভনিরোধক সামগ্রী আবার পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে এ জন্যই জাতীয়ভাবে একটি ক্যাম্পেইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমাতে হবে এবং একটি সন্তানের পর পরবর্তী সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ বিরতি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ জনবল সংকট উল্লেখ করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া পরিবার কল্যাণ সহকারীদের (এফডব্লিউএ) বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।  আমাদের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ১৯-২০ হাজার কর্মী এখনো নেই, যা থাকার কথা ছিল। তবে জনবল সংকটের মধ্যেও বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু করছে সরকার
আরও পড়ুন
মোংলা ইপিজেডে ১৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান
সবুজের ছায়ায় স্বস্তির ঠিকানা: কর্ণফুলী ইপিজেডের লিড কারখানা
কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড, ২০ বছরে বেড়েছে ৪১২ গুণ
কর্ণফুলী ইপিজেড: দুই দশকে রপ্তানি ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার