ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রীকে নিয়ে লোকায়ন জাদুঘরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, মুগ্ধ বাংলার ঐতিহ্যে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন । ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার আকচা এলাকায় অবস্থিত জাদুঘরটি পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় তার স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন।

জাদুঘরে পৌঁছালে রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।

পরিদর্শনের শুরুতে ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান রাষ্ট্রদূতকে লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানান। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, জীববৈচিত্র্য, লোকজ সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা, নদী ও পরিবেশ, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে জাদুঘরের বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন

এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, লোকজ পুতুল ও খেলনা, নদী, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, বাদ্যযন্ত্র, তৃণমূলের লোকজ, বিজ্ঞান, বৃক্ষ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি পরিদর্শন করেন তারা।

গ্যালারিগুলোতে সংরক্ষিত গ্রামীণ জীবনের পুরোনো নানা উপকরণ, লোকজ সংস্কৃতির নিদর্শন, দেশীয় বাদ্যযন্ত্র ও প্রকৃতিনির্ভর বিভিন্ন সংগ্রহ সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে জানতে চান রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন ঐতিহ্য একই জায়গায় সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ তাঁদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

জীবন্ত বৃক্ষও জাদুঘরের সংগ্রহ

পরিদর্শনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাদুঘরের বৃক্ষ গ্যালারি। এখানে শুধু বৃক্ষের নমুনা নয়, জীবন্ত বৃক্ষকেও সংগ্রহ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃক্ষপ্রজাতি পর্যায়ক্রমে এখানে রোপণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৫০ প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এসব বৃক্ষ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের উদ্ভিদবৈচিত্র্য সম্পর্কে জানানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও দেখলেন

রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারিতেও সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রহ তাঁদের দেখানো হয়।

প্রকৃতির নিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা জাদুঘরের সংগ্রহ ও উপস্থাপনা দেখে প্রশংসা করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন তিনি।

ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, কৃষিনির্ভর জীবন, নদী ও পরিবেশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, বৃক্ষসম্পদ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে।

প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘর দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী ও দর্শনার্থীদের কাছে উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও ঐতিহ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই স্থানীয় উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরের চেয়ারম্যান ও ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ জীবনধারা সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, আমরা শুধু নিদর্শন সংগ্রহ করে রাখছি না, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, সেটিও তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রীর পরিদর্শনকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই পরিদর্শন সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরে এসে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। গ্রামীণ জীবন, লোকজ ঐতিহ্য, বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর রহমানসহ অনেকে।

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে সমতলের চা-বাগান ও ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আমগাছ পরিদর্শন করেন মার্কিন এই কূটনীতিক। সেখানেও তিনি প্রশংসা করেন। এ সময় তার স্ত্রী ও কয়েকজন সফরসঙ্গী ছিলেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, তারেক রহমান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ এ অধিবেশনে যোগ দেন।  সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় বি আদ্যাক্ষরের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন পায়। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থায় তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন। আরটিভি/এসআর
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ) ১১-১৩ শতাংশ হারে মুনাফা দেবে সরকার। তহবিলে জমা অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী তিন স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি বা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ। জিপিএফের আদলে পরিচালিত প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা দিতে পারেন।  জিপিএফ ও সিপিএফ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীর জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অংশ অর্থ দেয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ এ তহবিলে দেয়। জমা করা অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পান অংশগ্রহণকারীরা। আরটিভি/এসআর  
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
বাসের পর এবার লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব
জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা (১০০ কিলোমিটারের মধ্যে) বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর এ প্রস্তাব দেন।  আর ১০০ কিলোমিটারের বাইরে ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। এতে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হলে বর্তমান ভাড়ার তুলনায় ৫১ শতাংশ বাড়বে। একই হারে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ভাড়া বাড়ালে তা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে বলে দাবি করেছে তারা। চিঠিতে আরও বলা হয়, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্থিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা ও নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও দাবি করেছে লঞ্চমালিকদের সংগঠনটি। চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীর ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন অথবা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা। আরটিভি/এসআর  
বাসের পর এবার লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব
আরও পড়ুন
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত, সিদ্ধান্ত পরে: রিজভী
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই
স্কুলছাত্রীর ‘সর্বনাশ’ করে বাড়ির সামনে ফেলে যান রুবেল, অতঃপর...
৩৬ ঘণ্টা পর বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ