ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে প্রায় ৮ হাজার শিশুর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
কাল্পনিক ছবি

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপার ও রাস্তায় হাঁটার সময় এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবেও প্রাণ হারিয়েছে বিপুলসংখ্যক শিশু।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ জন (৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ) মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিল। পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপার ও রাস্তায় হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু (৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ)। এ ছাড়া বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ১৯৩ শিশু (২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ)।

পথচারী শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভারী যান ও থ্রি-হুইলার

পথচারী হিসেবে নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়। সিএনজি, অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটির মতো যানবাহনের ধাক্কায় মারা গেছে ১ হাজার ২৭১ শিশু। এ সংখ্যা পথচারী হিসেবে নিহত শিশুদের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ১২৬ শিশু (৪০ দশমিক ৪ শতাংশ)। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপায় বা ধাক্কায় ৩১৭ শিশু এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

গ্রামীণ সড়কে বেশি প্রাণহানি

শিশু মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে গ্রামীণ সড়কে। এসব সড়কে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৭১৩ শিশু, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির কাছ দিয়ে যানবাহন চলাচলের পথ চলে যাওয়া, যানবাহনের নিয়মনীতি না মানা এবং সড়ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির ঘাটতি শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে শিশুদের অজ্ঞতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

বিকেলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেশি

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিকেলে সবচেয়ে বেশি শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সকালে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৬৮ শিশু, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩, রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ এবং ভোরে ২০৪ শিশু।

নিহতদের বড় অংশ ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী

বয়সভিত্তিক হিসাবে, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ শিশু এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু। বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৬২ শিশু।

শিশু মৃত্যুর পেছনে যেসব কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুবান্ধব সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থার অভাব, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের অসচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের যানবাহন চালানো এবং দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়া।

এ ছাড়া আহত শিশুদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতাকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুদের নিরাপত্তায় একাধিক সুপারিশ

শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা নিরাপদ করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বাড়ানো, চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অব্যবস্থাপনার কারণে নীরবে প্রাণ হারাচ্ছে বহু শিশু, অনেকে বরণ করছে পঙ্গুত্ব। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যৎ। তাই শিশুদের জীবন রক্ষায় নিরাপদ সড়ক ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজা-অর্চনা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলিতে চলছে দুর্গোৎসবের বিদায়পর্ব
পূজা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনপর্ব। 
পূজা-অর্চনা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলিতে চলছে দুর্গোৎসবের বিদায়পর্ব
নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন
অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ঝুলে থাকা অসম্পূর্ণ আবেদন নিষ্পত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন
রুপপুর পারমাণবিক বিদ‍্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের গাড়িবহর
ঢাকা থেকে কঠোর নিরাপত্তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছেছে রুপপুর পারমাণবিক বিদ‍্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান।
রুপপুর পারমাণবিক বিদ‍্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের গাড়িবহর
১৮ বছরের আগেই বাল্যবিয়ের শিকার দেশের অর্ধেক মেয়ে: ইউনিসেফ
বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।
১৮ বছরের আগেই বাল্যবিয়ের শিকার দেশের অর্ধেক মেয়ে: ইউনিসেফ
ছাদ, আঙিনা ও জলাশয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি
এই অধ্যাদেশে ছাদ, আঙিনা, পরিত্যক্ত জমি, চা বাগান, জলাশয় ও কৃষি-সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় প্রকল্প স্থাপন, ওপেক্স মডেলে অর্থায়ন, নেট-মিটারিং সুবিধা, সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন এবং প্রকল্প তদারকির বিধান রাখা হয়েছে।
ছাদ, আঙিনা ও জলাশয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি
আরও পড়ুন
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মরদেহ হস্তান্তর, তদন্ত কমিটি গঠন
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে জাজিরার ৫ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আজাদ, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক
পূজা দেখতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না দুই ভাই-বোনের