
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকমিশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় ইতিহাস, কূটনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্ব’ শীর্ষক এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। এতে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন এবং মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা খলিলুর রহমান।
আলোচনায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এই দিনের গুরুত্ব এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রগঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংহতি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে অবদানের কারণে দুই দেশের বন্ধুত্ব আজ পাঁচ দশকে পা দিয়েছে। ১৯৭৮ সালে তার সময়ে গড়ে ওঠা সেই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তিই আজ দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান শক্তি।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা শিক্ষাকূটনীতি, যৌথ একাডেমিক গবেষণা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা করেন।
বক্তারা আরও জানান, মালদ্বীপে কর্মরত প্রায় ১ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা তার বৈদেশিক নীতির সুফল আজও প্রত্যক্ষ করছি। ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া কূটনৈতিক পথচলা আজ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতার জন্য মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের প্রাপ্ত বাণী পাঠ এবং বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সেমিনার ও আলোচনা পর্ব শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আরটিভি/আইএম


