
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা স্বাধীনতা রক্ষা ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। জাতীয় জীবনের এই ঐতিহাসিক দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে জাতীয় স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একদলীয় ব্যবস্থা গঠন করে দুঃশাসন চালু করা হয়। দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে, একটি মাত্র রাজনৈতিক দল বাকশাল গঠন করা হয়। ভিন্নমতাবলম্বী সংবাদপত্রও নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে দেশে চরম অশান্তি ও নৈরাজ্য নেমে আসে।
তিনি আরও বলেন, মাতৃভূমির এমন সংকটকালে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর চক্রান্তকারীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। এ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষায় অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার ঢলে রাজপথে এক অনন্য সংহতির স্ফুরণ ঘটে এবং জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, এই পটপরিবর্তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয় এবং জনগণ নাগরিক স্বাধীনতা ফিরে পায়। এ দিন থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। দেশে উৎপাদন ও সমৃদ্ধির প্রবাহ শুরু হয়। স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির ভিত রচিত হয় এবং দেশ স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এ দেশীয় অনুচররা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনের পথে কাঁটা মনে করে ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। তিনি শাহাদাতবরণ করলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষায় এখনও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চিরতরে উচ্ছেদ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্দয়ভাবে ব্যবহার করে। গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। তাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের পাশাপাশি লাখ লাখ নেতাকর্মীসহ ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিরোধের মুখে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে। জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত শক্তিই ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। তাই আজও ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের গুরুত্ব অপরিসীম।
আরটিভি/আইএম


