ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধদিনে বাঙালির সঙ্গী বিশ্ব গণমাধ্যম

শাহেদ জাহিদী

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬, ০১:৪৩ পিএম

কম কথাতো না! কত রক্ত আর সম্ভ্রম, কত ত্যাগের বিনিময়েই না বিজয় অর্জিত হয়েছে একাত্তরে।

টাইম ম্যাগাজিনের ভাষায়-Bloody Birth of Bangladesh.

মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার সেই শুরু থেকেই বিশ্ব মিডিয়ার ভূমিকা ছিল পেশাদারিত্ব আর দায়িত্বশীলতা পূর্ণ।

সব গণমাধ্যমেই ১৯৭১ মূর্ত হয়েছে বস্তুনিষ্ঠভাবে। বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যার খবর চেপে রাখতে চেয়েছে বিদেশি সাংবাদিকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে, দেশ থেকে বের করে দিয়ে।

কিন্তু হত্যাসহ যাবতীয় পৈশাচিকতার খলনায়কেরা হত্যা করতে পারেনি সত্যকে। সংবাদকর্মীরা অকুতোভয়ে নিষ্ঠার সঙ্গেই আক্রান্ত পূর্ব বাংলার প্রকৃত খবর জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। আর তাতেই গড়ে ওঠে বিশ্বজনমত, যা সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ে।

২৫ মার্চ, ১৯৭১। নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম আক্রমণ চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের বর্বর এ অভিযান সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অন্ধকারে রাখার অপচেষ্টা চালায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।

২৫ মার্চ রাতে ও পরদিন সকালে ঢাকায় হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে থাকা বিদেশি সাংবাদিকদের মেরে ফেলার ভয়-ভীতি দেখানো হয়। আটকে রাখা হয় সবাইকে। পরে ঢাকা থেকে তাদের করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। এবং পাকিস্তানের বাইরে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু কিছু হোটেলকর্মীর সহযোগিতায় সে রাতে হোটেলেই লুকিয়ে থাকেন লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ রিপোর্টার সাইমন ড্রিং এবং ফটো সাংবাদিক মাইকেল লরেন্ট।

তারা দু’জন হোটেলের ছাদে উঠে যদ্দুর সম্ভব চারদিকের অবস্থা দেখে নেন। পরে কারফিউ তুলে নেয়া হলে শহর ঘুরে অপারেশনের আলামত লক্ষ্য করেন, ছবি তোলেন।

শেষ পর্যন্ত প্লেনে করাচি হয়ে ব্যাংকক পৌঁছে সব ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন কাগজে পাঠান ছাপার জন্য। ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনই ছিল পাকিস্তানের সামরিক অপারেশনের প্রথম তথ্যনির্ভর বিবরণ-যা পড়ে বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল-Tanks Crush Revolt in Pakistan, 7000 Slaughtered, Homes burned. অর্থাৎ ট্যাঙ্ক নামিয়ে পাকিস্তানে বিদ্রোহ দমন, ৭০০০ মানুষ হত্যা, বাড়ি ঘর পুড়ে ছাই

দেশে তখন আরোপিত ছিল ‘প্রেস সেন্সরশীপ’। খবর প্রকাশের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। সে অবস্থায় বিদেশি সাংবাদিকদের কলম কিংবা কণ্ঠরোধ করার সামরিক বুদ্ধি অসার প্রমাণিত হয়।

সাইমনের প্রতিবেদন সুবাদে বিশ্ববাসী ঠিকই জেনে ফেলে-কী ভয়াবহ পৈশাচিকতা চলছে পূর্ব বাংলায়!

এপ্রিলে পাকিস্তান সামরিক সরকার ৮ জন সাংবাদিককে ঢাকায় এনে হাজির করে। উদ্দেশ্য-ঢাকার ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা বিশ্ববাসীকে জানান দেয়া। কিন্তু আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের মধ্যে খোদ করাচির সাংবাদিক অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সহযোগিতার বদলে তুলে ধরেন আসল চিত্র।

পূর্ব বাংলায় ১০ দিন থেকে তিনি প্রতিবেদন করলেন যুদ্ধাপরাধের নানা তথ্য নিয়ে। ‘জেনোসাইড’ শিরোনামে সেটি ছাপা হয় দ্য সানডে টাইমসে। ৭১ এর ১৩ জুন প্রকাশিত সেই লেখা বিরাট ভূমিকা রাখে ইতিহাস বদলে দিতে।

আর করাচির ‘মর্নিং নিউজ’র সাবেক সহকারি সম্পাদক অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস তার জেনোসাইড’এ বয়ান দিয়েছেন যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার। পাকিস্তান বাহিনীর বর্বরতার পাশাপাশি গোলাম আজমের মতো দালাল-রাজাকারদের ন্যাক্কারজনক কার্যকলাপের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে আছে অ্যান্থনির এ লেখা। এতে উঠে এসেছে কুমিল্লায় হিন্দু হত্যায় মেতে ওঠার চিত্র। পাকিস্তানের ‘কিল অ্যান্ড বার্ন’ বা হত্যা ও জ্বালাও পোড়াও তাণ্ডবে জড়িত সেনাকর্তাদের আলাপেরও উদ্ধৃতি মেলে তার প্রতিবেদনে।

‘২০ লাখ মানুষ মেরে হলেও পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিমুক্ত করা হবে’-সিনিয়র সেনা ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের এমন দম্ভোক্তিরও উল্লেখ আছে অ্যান্থনির লেখায়।

পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন আদায়ে কীভাবে দ্রুততম সময়ে প্লেনে করে ২৫ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যকে বাংলাদেশে আনা হয়, সেটিরও বিশদ বর্ণনা মেলে। লিখেছেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের দালালদের সমর্থন পেতে কয়েক সপ্তাহ ধরে লেগে থেকেছেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান।

মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবচে’ তাৎপর্যপূর্ণ লেখাগুলোর একটি এই জেনোসাইড এমন এক সময় প্রকাশিত হয়, যখন পূর্ব বাংলা বিচ্ছিন্ন-অবরুদ্ধ। সেক্ষেত্রে আসল অবস্থা জানতে পেরে সোচ্চার হয়ে ওঠে সারাবিশ্বের মানুষ। দিকে দিকে উচ্চারিত হতে থাকে ‘স্টপ জেনোসাইড’-গণহত্যা বন্ধ কর

ঢাকা থেকে তাড়ানো বিদেশি সাংবাদিকদের অন্যতম মার্টিন অ্যাডনি। ২৬ মার্চ গার্ডিয়ান পত্রিকায় তিনটি প্রতিবেদন ছাপা হয় তার। এসব লেখায় উঠে আসে পাকিসেনাদের নানা বর্বরতার ছবি।

মার্টিন এক প্রতিবেদনে বলেন, অখণ্ড পাকিস্তানের নামে নিরস্ত্র জনতার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চলছে সামরিক সরকারের। আর তাতে নিশ্চিত হলো-পাকিস্তান আর এক থাকতে পারে না। দু’বছর, পাঁচ বছর বা ১০ বছর-যত দিনই লাগুক না কেনো, দেশটা ভাগ হবেই।

বাংলার এমন পরিস্থিতিতেও পাকিস্তানের ‘পোড়া মাটি’ নীতি বহাল রাখার বিরুদ্ধে পশ্চিমা রাষ্ট্রনায়কেরা কোন পদক্ষেপ নেননি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনের নীতি ছিল বাঙালির আকাঙ্খা বিরোধী। কিন্তু সে সব দেশের গণমাধ্যমের সুবাদে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুতই গড়ে ওঠে জনমত।

বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিলেও মিডিয়া ঠিকই সরব থেকেছে মানবতার এ বিপর্যয়ে। কথা বলেছে মুক্তিকামী বাঙালির পক্ষে, পাকিস্তানের বর্বরতার বিরুদ্ধে।

পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম কেউ দ্রুত, কেউ ধীরে হলেও তুলে ধরেছে ৭১-র সত্য। নিষ্ঠুরতা-বর্বরতা ধরা পড়েছে বিদেশি সাংবাদিকের ক্যামেরায়, তা ভাষা পেয়েছে কাগজে।

পাকিস্তান বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনায় মুখর থেকেছে সেদেশেরই নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজ উইক, ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইম এবং নামি-দামি আরো সব কাগজ।

পাকিস্তানি সেনাদের পৈশাচিকতা আর বাঙালির অবাক প্রতিরোধ যুদ্ধের খবর দুনিয়ার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে যায় বেতার মাধ্যমে। আর তাতে আরো উদ্বুদ্ধ-প্রাণিত হয়েছে রণাঙ্গণের যোদ্ধারা।

প্রতিবেশি দেশ ভারতের সংবাদপত্রের পাশাপাশি বাঙালির মুক্তির আকাঙ্খাকে দারুণভাবে তুলে ধরে আকাশবাণী। এ বেতার কেন্দ্রের দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবদন্তি হয়ে আছেন মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য।

বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও অস্ট্রেলিয়া, রেডিও জাপান। বিবিসি হয়ে ওঠে যুদ্ধ সংবাদের নির্ভরযোগ্য ও প্রিয়তম মাধ্যম।

নানা দেশে নানা ভাষায় যুদ্ধ খবর পরিবেশন করেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখেন মুক্তিযুদ্ধে। আনেকেই আবার সরাসরি অংশ নেন যুদ্ধে।

৭০ পেরুনো ফরাসী দার্শনিক আন্দ্রে মালরো খবরের জন্ম দিলেন বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার ঘোষণা দিয়ে। বিশ্বমিডিয়া এ খবর ফলাও করে তুলে ধরে। সবার নজর তখন বাংলারই দিকে।

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে সাড়া জাগানো ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’এ কবি-গায়ক জর্জ হ্যারিসন আর বব ডিলানের সঙ্গে অংশ নেন ভারতের পণ্ডিত রবি শঙ্করও।

অনুষ্ঠানে উঠে আসা অর্থ বাঙালি শিশুদের জন্য পাঠানো হয়। এটি দেখে এগিয়ে আসে মার্কিন নাগরিক সমাজ।

কলিন জ্যাকসনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিচিত্র পেশার ১০ সদস্যের দল-ওমেগা। এর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঙালি শরণার্থীদের জন্য ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।

পাকি সরকারের মতিগতি আঁচ করে শুরু থেকেই পেশাগত অনমনীয়তা ও দৃঢ়তার অবস্থান নেয় বিশ্ব মিডিয়া। উদ্যোগী হয় সত্য উদঘাটনে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশনে। লন্ডনের গার্ডিয়ান বলতে দ্বিধা করেনি, UNITY CAN NEVER COME THROUGH MURDER অর্থাৎ, হত্যার মধ্য দিয়ে কখনোই একতা গড়া সম্ভব না।

মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচনা করে নিউইয়র্ক টাইমসের ঝাঁঝাঁলো ‍শিরোনাম-BULLETS OR BREAD! অর্থাৎ বুলেট না রুটি!

বিশ্ববিবেককে তুমুল নাড়া দেয় এ সব শিরোনাম। দূরদর্শী, বুদ্ধিদীপ্ত ও অর্থপূর্ণ স্টোরি ছাপা হয়েছিল মার্কিন সাময়িকী নিউজ উইকে। তাতে বলা হয়-PAKISTAN DIES THE DAY THE ARMY ENTERED IN THE EASTERN REGION অর্থাৎ পূর্ববাংলায় ঢোকার দিনেই নিজের মৃত্যু ডেকে এনেছে পাকিস্তান।

কি প্রিন্ট, কি ইলেকট্রনিক-সব মাধ্যমই এমনিভাবে মূর্ত করেছে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম। পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের স্বার্থের অঙ্ক উপেক্ষা করে মিডিয়া কথা বলেছে পাকিস্তানের বর্বরতার বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের এ অবদান বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে, থাকবে।

এ ঋণ কখনোই শোধ হবার না। সত্যসন্ধানী অবদান সুবাদে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন মুক্তিযুদ্ধের সুহৃদ এসব সাংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজ।

এসজেড/কে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।   আজ শনিবার শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’ তিনি বলেন, তাদের হত্যার রাজনীতির পথ ধরেই তারা নির্বাচিত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া আজ খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এ মাহমুদকে হত্যার জন্য গুলি করা হয়েছে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে একজন পথচারী নিহত হন। প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে খুনিদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং স্থানীয় জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। জেএইচ
হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
শনিবারের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ
নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের হাতে গুলিবিদ্ধ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন রংপুর মেডিক্যালে মারা গেছেন। লিটন হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জন আটক। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর শোক; অবিলম্বে খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়াতেই এমপি লিটনকে হত্যা করা হয়েছে। বললেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  মাহবুব উল আলম হানিফ। বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম এবং ডট বাংলা ডোমেইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের পালিত হচ্ছে ইংরেজি নববর্ষ-২০১৭। দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হলেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ট্রাফিক সার্জেন্ট ও বিআরটি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হয়রানি বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে রাত ১২ থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শিগগিরই ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়ন করা হবে : আইনমন্ত্রী। গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে টালবাহানা করবে না সরকার। বললেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর। রোববার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নৈশ কোচ-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত।  লক্ষীপুরে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত, ৩ পুলিশ সদস্য আহত।     গাজীপুরের তারাগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌকাডুবিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নতুন সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন। নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ : শিলিগুড়িতে ভারতে সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।     নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাংলাদেশ দল ঘোষণা; ফিরেছেন শুভাগত হোম ও তাইজুল। নেলসনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ৩-০তে সিরিজ জিতলো নিউজিল্যান্ড; বাংলাদেশ ২৩৬/৯ ও নিউজিল্যান্ড ২৩৯/২।                                   জেএইচ     
শনিবারের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ
৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করবে বিএনপি
৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা ও ভোট অধিকার হরণ দিবস হিসেবে পালন করবে বিএনপি। বললেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররাফ হোসেন। শনিবার সকালে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা বলেন তিনি। এদিকে, দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেকোনো মূল্যে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচি সফল করা হবে। নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, যারা অগণতান্ত্রিক শক্তি তারা জনগণের মিছিল দেখলে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, ভয় পেয়ে ওঠে।একদলীয় বাকশাল হচ্ছে মধ্যযুগের অচলতার প্রতীক। জেএইচ
৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করবে বিএনপি
সাম্প্রদায়িক শক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে
সাম্প্রদায়িক শক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে যুবসমাজকে সোচ্চার থাকতে হবে। বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় যুবলীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল হতে যাচ্ছে ঠিক তখনই বিএনপি আবারো ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলাপরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন কাদের। জেএইচ
সাম্প্রদায়িক শক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে
বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক ডট বাংলা
ডট বাংলা শুধুই ডোমেইন নয়, বাঙালি আত্মপরিচয়ের প্রতীক। বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ডট বাংলা (.বাংলা) ডোমেইনের  উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এরমধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলো। এখন থেকে বাংলা ভাষায় ওয়েবের ঠিকানা নিবন্ধন করা যাবে। এটি ডট বিডির মতো বাংলাদেশের নিজস্ব দ্বিতীয় ডোমেইন সিস্টেম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য আরো দু’টি দেশ ডট বাংলা’র আবেদন করেছিল। পেয়েছে বাংলাদেশ।এ বিজয় ভাষা শহীদদের, এ বিজয় মহান মুক্তিযুদ্ধের, এটি সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের বিজয়।’ প্রাথমিকভাবে ডট বাংলা ডোমেইন সাবস্কাইপশন চার্জ এক বছরের জন্য এর মূল্য ধরা হয়েছে ৫শ’ টাকা এবং বিশেষ শব্দের ডোমেইন নাম ১০ হাজার টাকা। জেএইচ      
বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক ডট বাংলা