ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ইতিহাস ও বঞ্চনার এক মূর্ত সাক্ষী

ফয়সাল আরেফিন (জবি সংবাদদাতা), আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০৮ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

একটি সাধারণ পাঠশালা থেকে দেশের প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার এক নাটকীয় গল্পের সাক্ষী দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম আদর্শ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। জবির এই গল্পটা আদতে সিনেমার গল্পের মতোই। গল্পের শুরুটা জগন্নাথ রায় চৌধুরী ১৮৫৮ সালে তৈরি করে গেলেও; গল্পটা আজও লিখে যাচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নানা প্রতিবন্ধকতার পরও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য ও একাডেমিক শৃঙ্খলা এখন নতুন সৃষ্টি হওয়া যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রোল মডেল।

ক্ষুদ্র পাঠশালা থেকে স্কুল, স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে আবারও স্কুলে অবনমন, এরপর আবারও কলেজ এবং তা থেকে বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়া ইতিহাস শুধু এদেশেই আছে তা নয় বরং পৃথিবীর জন্যেও এ এক বিরল ঘটনা। সময়ের বিবর্তনে মাত্র সাড়ে ৭ একরের ছোট্ট একটি ক্যাম্পাসে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে রূপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই এত অল্প সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চ আসনে বসতে পারেনি। একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষক ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঞ্চিত গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ঝুড়ি সমৃদ্ধ শতাধিক পিএইচডি ডিগ্রিধারী অধ্যাপকের পদভারে মুখরিত এই বিদ্যাপীঠ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের পছন্দের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। তাই প্রতিবছরই বাড়ছে ভর্তি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। প্রতিযোগিতার শতকরা হারে গত কয়েক বছর ধরে যা হার মানাচ্ছে দেশের অন্যসব নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও।

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সময়টা তেমন বড় না হলেও এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বয়স দেড়শ বছরেরও অধিক। মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরী ১৮৫৮ সালে পুরান ঢাকায় কলেজিয়েট স্কুল ও পোগোজ স্কুলের পাশেই স্বল্প পরিসরে শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘জগন্নাথ পাঠশালা’, সেই থেকেই পথচলা শুরু।

তবে পাঠশালা থেকে দুই বছরের মাথায় ‘জগন্নাথ স্কুল’ শুরু হয়। মাঝে কিছুদিনের জন্য রাখা হয়েছিল ব্রাহ্ম স্কুল। পুনরায় ১৮৭৮ সালে জগন্নাথ স্কুল, ১৮৮৪ সালে জগন্নাথ কলেজ, ১৯২১ সালে জগন্নাথ ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, ১৯৬৮ সালে সরকারি জগন্নাথ কলেজ, সর্বশেষ ২০০৫ সালে নতুন নাম হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৮৪ সালে কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর ১৯১০ সালে ঢাকার কমিশনার স্যার রবার্ট নাথন কলেজটিকে নগদ ৮০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকন খ্যাত মূল প্রশাসনিক ভবনটি ঐ টাকায়ই নির্মিত। ১৯৮৩ সালের মধ্যে মোট ১৫টি হল তৈরি করে মোটামুটি আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। এসময় শুধু পূর্ববঙ্গ নয়, সমগ্র ভারতবর্ষে সবচেয়ে বড় আবাসিক সুবিধাসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল জগন্নাথ কলেজ।

দেশের অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার পেছনেও ছিল জগন্নাথ কলেজের অগ্রণী ভূমিকা। ১৯২১ সালে ঢাবি প্রতিষ্ঠার পর জগন্নাথ কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক চলে যান নবগঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের প্রায় ৫০ শতাংশ দুর্লভ ও মূল্যবান বই দিয়ে দেওয়া হয় ঢাবি গ্রন্থাগারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিল জগন্নাথ ও ঢাকা কলেজের। মূলত এ দুই কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা যে যে বর্ষে পড়ত তারা একই বর্ষে ঢাবির শিক্ষার্থী হয়ে যায়।
জবিকে এখন অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লজ্জা বহন করতে হয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কিছুদিন পর পর হলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামতে হয়। যে একমাত্র হলটি বর্তমানে তৈরি করা হচ্ছে, সেই শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল তৈরিতেও দফায় দফায় সময় পেছানো হয়েছে। যা আগামী ২০ অক্টোবর উদ্বোধন হওয়ার কথা।

শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও বাঙালির প্রতিটি আন্দোলন এবং সংগ্রামের বিজয়ে শামিল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-তে সামরিক সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ’৬৬-এর ছয়দফা দাবি, ’৬৮-এর এগারো দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মোটকথা নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে জ্যামিতিক হারে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাট্টা হয়ে জগন্নাথের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বরাবরের মতোই ছিলো উল্লেখ করার মতো। মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই আন্দোলনে সর্বপ্রথম শহীদ হন জগন্নাথের ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমদ। তখন তিনি হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫২ সালে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের (জকসু) তৎকালীন জিএস শফিউদ্দিন আহমদকে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার মূল্য হিসেবে কারাবরণ করতে হয়। ভাষাসৈনিক অজিত কুমার গুহ'কে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য শিক্ষকরা এখান থেকেই ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনে উৎসাহিত করতেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথের অবদানের প্রমাণ পাওয়ায় যায়।

বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষিত হলে তার সমর্থনে সফল হরতাল পালনে ভূমিকা পালন করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ১৭ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের উদ্যোগেই প্রথম প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জগন্নাথ কলেজে পাকিস্তানি হানাদাররা হামলা চালায়। মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথের বহু ছাত্র ও শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের অগণিত ছাত্র পাক হানাদারদের নৃশংসতায় শহীদ হন।

স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর সংঘটিত অবর্ননীয় নির্যাতন এবং গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে শহীদদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ নির্মাণ করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য’। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত যা দেশের একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্য।

ক্রীড়াক্ষেত্রেও একসময় খ্যাতি ছিলো এই বিদ্যাপীঠের। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তঃকলেজে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন ছাড়াও শিক্ষার্থীরা জয় করেছিল রোনাল্ডসে শিল্ড, স্যার এএফ রহমান শিল্ড, ফিরোজ নূন কাপ প্রভৃতি। এই বিদ্যাপীঠেরই শিক্ষার্থী ব্রজেন দাস ৬ বার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই জানে না ক্রীড়ায় তাদের এই গৌরবের কথা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াজগৎ আজ অনেকটাই মলিন। ক্রীড়াচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় বড় পর্যায়ে সাফল্য দেখাতে পারছেনা জবিয়ানরা। ২০১৯ এসএ গেমস এ বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ী মারজান আকতার প্রিয়া এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী।

আবাসন ও যানবাহন সমস্যায় জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোবল, সাহস ও পরিশ্রমী মানসিকতা অবাক করে অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। ব্যয়বহুল ঢাকা শহরের মেস-বাসা-বাড়িতে কষ্টে দিন পার করা সত্ত্বেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সর্বদা মাতিয়ে রাখে।

শুধু আন্দোলন আর সংগ্রামেই থেমে নেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নানা সংকটময় এই পথচলায় জবি দেখিয়ে যাচ্ছে তার সামর্থ্য। এছাড়া অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক ক্যারিয়ারেও ঈর্ষনীয় ফলাফল করছেন জবির শিক্ষার্থীরা। অনেক আগেই ইউজিসির প্রতিবেদনে এ-গ্রেড ভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

ভর্তি পরীক্ষায় গোপন বার-কোড পদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে জালিয়াতি রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও নতুন রাস্তা দেখিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাংলাদেশের জন্ম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ইতিহাস কখনোই ভুলবে না লাল-সবুজের বাংলাদেশ। তবেই সার্থকতা লাভ করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
পি


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
শুভ জন্মদিন এম এম বাদশাহ
বাংলা টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর এম এম বাদশাহ’র আজ জন্মদিন। ১৯৭৮ সালের পয়লা জানুয়ারি ঢাকার মান্ডায় তার জন্ম। বাবা সামছুল হক মোল্লা ও মা মমতাজ বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। পুরো নাম মো. বাদশাহ্ মিয়া। শৈশব থেকেই বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন বিভিন্ন জেলায়। দাদাবাড়ি উজিরপুরের শোলক ইউনিয়নের যুগিহাটি গ্রামে। শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। এম এম বাদশাহ্ বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমী থেকে এসএসসি, মাদারীপুরের খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ থেকে এইচএসসি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তার দ্বিতীয় মাস্টার্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ে। স্কুলে পড়া অবস্থাই লেখালেখি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার ঝোঁক। বাদশাহ্ ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক আবদার রহমান সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা (বর্তমানে সাপ্তাহিক) ‘শিক্ষা বিচিত্রা’র মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এর পর কাজের ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে দৈনিক মানবজমিনে নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০০৪ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে দীর্ঘমেয়াদী টেলিভিশন সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৫ সালে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এস’র ঢাকা অফিসে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইসলামিক টিভিতে নিজস্ব প্রতিবেদক(ক্রাইম), ২০০৮ সালের ১ আগস্ট বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভিতে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক (ক্রাইম), পাশাপাশি ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেডিও তেহরান ইরানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি, জাপানের প্রবাসী ম্যাগাজিন ‘দশদিক’র বিশেষ প্রতিনিধি ও ২০১৩ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টেলিভিশনে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে অপরাধ বিষয়ক বিটে যোগ দেন। সেখানে তিনি একইসঙ্গে ক্রাইম চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে এসএ টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে এসএ টেলিভিশনের এ্যাসাইনমেন্ট এডিটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন।   এম এম বাদশাহ্ তার আলোচিত কিছু প্রতিবেদনের জন্য বেশকিছু স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ২০০৮ সালে টঙ্গীর নিরপরাধ ট্যাক্সি ড্রাইভার সুজনের জেল খাটার বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য হিউম্যান রাইটস এ্যাওয়ার্ড-২০০৮, অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য এ্যাডকোয়েস্ট সম্মাননা স্মারক-২০০৮, লেবাননে মহিলা শ্রমিক পাঠানোর নামে নারী পাচার শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য ‘মানবাধিকার শাইনিং এ্যাওয়ার্ড-২০০৯, দৃষ্টিহীন শিশুদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘অন্তরদৃষ্টি কথা বলে’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য সিএসএফ জার্নালিস্ট ফেলোশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১০, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রজ্ঞা এ্যাওয়ার্ড-২০১১, তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য যাত্রী-টিএফকে ফেলোশিপ-২০১২, ২০১৫ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে সরকারের গড়িমসির পেছনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রজ্ঞা টোব্যাকো কন্ট্রোল জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড-২০১২ পেয়েছেন। একই বছর প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন রিপোর্টের জন্য সিএসএফ-ফ্রেড হলোজ জার্নালিস্ট ফেলোশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১২ পান। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মাদক পাচারসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্ট (আইসিএফজে–ইউএসএ) ফেলোশিপ-২০১৩ নির্বাচিত হন তিনি। নেপালের কাঠমান্ডুতে অংশ নেন দক্ষিণ এশীয় ইয়ুথ জার্নালিস্ট কনফারেন্সে। ২০১৪, ২০১৫ সালে পেয়েছেন ‘লেপরোসি মিশন জার্নালিজম ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড’। ২০১৭ সালে তিনি বন্ধু মিডিয়া ফেলোশীপ ও ২০১৯ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন মিডিয়া ফেলোশীপ অ্যাওয়ার্ড।  ২০১৮ সালে তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে তুরস্ক’র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটিতে নিউ মিডিয়া ও ডিজিটাল জার্নালিজম কোর্সে অংশ নেন। ২০১৯ সালে জার্মান সংস্থা কনরাডের আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়া মোবাইল জার্নালিজম মোজো এশিয়া ২০১৯ এ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রায় ৩৩ দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে স্পীকার হিসেবে অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও মোবাইল জার্নালিজম ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন তিনি।এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসেএফজের ফেলো।   পেশাগত কারণে সফর করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ভুটান, ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল। সেসব দেশের নানা তথ্য তুলে এনেছেন তার প্রতিবেদনে। এম এম বাদশাহ্ ২০০৩ সালের ৩ জুলাই নাজনীন খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির যমজ সন্তান নাবিদ রহমান তুর্য্য ও নওশিন তাবাসসুম তৃণা। স্ত্রীর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতার নিত্যনতুন অনুসন্ধানী পথে এগিয়ে চলছেন। সামাজিক সংগঠন মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাব’র প্রতিষ্ঠাতা। Film Viewrs Society এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। মিডিয়া মিউজিয়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির আদান প্রদান ও চলচ্চিত্র ডকুমেন্টারি তৈরি প্রদর্শনের কাজও করছেন তারা। সংগঠনপ্রিয় বাদশাহ্ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ২০১৭ সেশনে সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সেশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে ক্র্যাবের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচিত পরিচালক হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জার্নালিস্ট ফোরাম ফর মাইগ্রেশন - জেএফএম'র প্রচার সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স এ্যাগেইনস্ট করাপশন – র‍্যাকের স্থায়ী সদস্য। তার পছন্দের রং নীল ও প্রিয় ফুল গোলাপ। আর খেতে ভালোবাসেন রুটি পিঠা ও গরুর মাংস। আর অবসর সময়ে এই সাংবাদিক ইয়ুথ ক্লাবকেন্দ্রিক কাজ করতে, গান শুনতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে পল্লী ভাটিয়ালী আর ভাবতত্ত্বের গান তার খুবই পছন্দের। বিশ্বাস করেন, ‘বিশ্বাস রেখো বুকের ভেতর প্রত্যয় অনুভবে, স্বপ্ন জয়ের যুদ্ধে এবার সফল তুমি হবেই। জিএ
শুভ জন্মদিন এম এম বাদশাহ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক ইলিয়াস
জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রথম নারী সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন ইলিয়াস খান। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। ভোটগণনা শেষে রাতে নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরামের প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৩৯৩ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ৪১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন হাসান হাফিজ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া ৩৬৭ ও রাশেদ চৌধুরী ১৭৯ ভোট পান। সহ-সভাপতি পদে ৬১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রেজোয়ানুল হক রাজা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার হাসনাত করিম পেয়েছেন ৩৪০ ভোট। যুগ্ম সম্পাদকের দুটি পদে ৫৭৭ ভোট পেয়ে মাইনুল আলম ও আশরাফ আলী ৩৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমুল আহসান ৩১৫ ভোট, কল্যাণ সাহা ২৫২ ভোট এবং সৈয়দ আলী আসফার ২১০ ভোট পান। কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। ১০টি সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- আইয়ুব ভুঁইয়া (৫৪৪), রেজানুর রহমান (৪৭৪), কাজী রওনাক হোসেন (৪৫৫), জাহিদুজ্জামান ফারুক (৪৪৩), শাহনাজ বেগম পলি (৪৩০), সৈয়দ আবদাল আহমেদ (৪২১), শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা (৪২০), ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী (৪১১), রহমান মোস্তাফিজ (৩৭৯) এবং বখতিয়ার রানা (৩৬৮)। জাতীয় প্রেসক্লাবে মোট ভোটার এক হাজার ১৫১ জন। যার মধ্যে ১ হাজার জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ৮৬ দশমিক ৮৮ ভাগ ভোট পড়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত। নির্বাচনে ফরিদা ইয়াসমিন-ওমর ফারুক পরিষদ ও সবুজ-ইলিয়াস পরিষদ নামে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মোট ৩৪ জন ১৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া কয়েকটি পদে প্যানেলের বাইরে আরও সাতজন প্রার্থী ছিলেন। কেএফ/এফএ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক ইলিয়াস
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো। আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য আবেদনের সময় বাড়িয়েছে।  জানা গেছে, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের বয়স জটিলতায় অনেকে আবেদন করতে পারেনি, তারা ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। উচ্চ আদালতে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনের সময় বাড়িয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে স্থগিত হওয়া ভর্তির লটারি হবে ১১ জানুয়ারি। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ছয় বছরের বেশি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ১১ বছর। কিন্তু এবার বয়স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারেনি। কিন্তু এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ডিজিটাল লটারি কার্যক্রম’ স্থগিত করে এখন আবেদন ও লটারির নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে আজ থেকেই আবেদন করা যাবে। আগামী ৭ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আবেদনের জন্য সফটওয়্যার চলমান থাকবে।  এর আগে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর ৩০ ডিসেম্বর অনলাইন লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের কথা ছিল। এফএ
মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো
আরও পড়ুন
‘ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা নিয়ে খরগোশ এখন সচেতন’
ইতিহাসের স্মরণীয় ভয়ঙ্কর বছরগুলো
স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করাই বিএনপির গণতন্ত্র: কাদের
সরকার স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করছে: ফখরুল