
বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রতিবন্ধীর শিকার। এদের মাত্র শতকরা ৫ শতাংশ পুনর্বাসনের সুযোগ পায়। প্রতিবন্ধী বলতে শুধু জন্মগত অক্ষম ব্যক্তি নয়, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় হওয়া ব্যক্তিকেও বোঝায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ফিজিওলজিস্টের সংকটকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের গ্যালারি-১ এ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বক্তারা।
আলোচকরা বলেন, সারাবিশ্বে মোট জনগোষ্ঠীর ১৫ শতাংশ মানুষ শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। এর মধ্যে শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে বসবাস করে। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রতিবন্ধী। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ পুনর্বাসনের আওতায় আসেন। এ প্রক্রিয়া ফিজিওলজিস্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অথচ আমাদের দেশে ফিজিওলজিস্টের সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে কম।
তবে দেশে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে। সারাদেশের ৩০ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে ১৪টিতে রিহেবিলিটেশন বিভাগ রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুই শতাধিক এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ১০৩ সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু রয়েছে। এর বাইরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে তাদের সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া ছয়টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আটটি বেসরকারি হাসপাতাল, ৪০টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৬৪ উপজেলায় রিহেবিলিটেশন সার্ভিস চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সেবার পরিধি বাড়ছে।
প্রতিবন্ধী মানেই অটিস্টিক না জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী রশিদুজ্জামান বলেন, যে কোনো ডিজেবল ব্যক্তিই প্রতিবন্ধী। তাই এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। যে কোনো সময়, যে কোনো মানুষ ডিজেবল হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চলাচলের ক্ষমতা ও চোখের দৃষ্টি কমে আসতে পারে। আমি-আপনি সবাই হতে পারি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা লেনিন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আহমেদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. হাসান মাসুদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম, নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মনিরুল ইসলাম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. এহসানুল হক খান এবং অধ্যাপক ডা. খুরশীদ মাহবুব।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এমআইএস) ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।




