ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঘিনীদের ফুটবল ইতিহাস এবং স্বপ্নবাজদের সাফ জয়

কামরুল ইসলাম ইমন

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৮ পিএম
ছবি : আরটিভি নিউজ

‘যে পা রাঙা আলতা মাখে, সে পা ফুটবলও খেলে’- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে নারীদের ফুটবলের সূচনার পরের বছর তাদের নিয়ে এভাবেই লিখেছিলেন পাক্ষিক ক্রীড়াজগতের ক্রীড়া সাংবাদিক সালমা রফিক। সেই থেকে বাংলাদেশে নারীদের ফুটবলের জাগরণের সর্বোচ্চ চূড়া খুঁজে পেতে সময় লেগেছে ৪০ বছরেরও বেশি সময়।
অবশেষে বিদায়ী ২০২২ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে সাবিনা খাতুন, সানজিদা ইসলাম, রুপনা চাকমাদের হাত ধরে প্রথম কোনো বড় শিরোপা নিজেদের করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। যা নারীদের জন্য এবং সমসাময়িক বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যই সবচেয়ে বড় সাফল্যের ঘটনা। নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে পুরো দেশের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল প্রয়াত কোচ সাহেব আলীর হাত ধরে। ১৯৭৭ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের মেয়েদের নিয়ে তিনি গঠন করেছিলেন ফুটবল দল। যাদের নিয়ে অনুশীলনও করেছিলেন তিনি। তবে বড় কোনো স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। এরপর লম্বা সময় আবারও ঝিমিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের নারীদের ফুটবল যাত্রা।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ২০০৪ সালে বয়সভিত্তিক দল দিয়ে আবারও বাংলাদেশের নারী ফুটবলের যাত্রা দেখা যায়। এই চেষ্টায় অবশ্য সফলতার সঙ্গেই উতরাতে থাকে বাংলাদেশের নারী ফুটবল। বয়সভিত্তিক দলের আত্মপ্রকাশের ৫ বছর পর ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো নারীদের জাতীয় ফুটবল দলের জন্য পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এরপর বছর না পেরোতেই ২০১০ সালের ২৯ জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলাঙ্গনে পা রাখতে পারে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখলেও সাফল্য যেন ধরা দিচ্ছিল না নারীদের জাতীয় দলে। তবে কোনোদিনও কোনো মুহূর্তের জন্যও আশা হারাননি নারী দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। তার এই চেষ্টা চলতে থাকে জাতীয় দল থেকে শুরু করে নারীদের বয়সভিত্তিক দলগুলো ঘিরেও। আশার আলো হয়ে মাঝে মাঝেই বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্য কোচ ছোটনকে সামনে এগোনোর রসদ জোগাতে থাকে।
এরমধ্যে নারী ফুটবল দলকে আরও সুসংহত করে গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী ফুটবলার খুঁজতে থাকেন গোলাম রাব্বানী ছোটন। তখনই প্রথমবারের মতো আলো কেড়ে নেয় ময়মনসিংহের বন্ধুর পথ পেরোনো কলসিন্দুর গ্রাম। যেখান থেকে উঠে আসে এক ঝাঁক ফুটবলার। যারা আশা দেখাতে থাকে বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে।
২০১৫ সাল থেকে বয়সভিত্তিক দলকে বিভিন্ন অঙ্গনে সাফল্য এনে দিতে থাকে ফুটবলাররা। ২০১৫ সালে নেপালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যার শুরু। একই দল পরের বছর তাজিকিস্তানেও একই শিরোপা নিজেদের করে নেয়। বয়সের সঙ্গে দলটির ফুটবলাররা যখন পরবর্তী পর্যায়ে যেতে থাকে তখনই বয়সভিত্তিক দলের ক্ষেত্রেও নতুন করে সাফল্যের পালক যুক্ত হতে থাকে।
একে একে বয়সভিত্তিক দলের সব পর্যায়ে সাফল্যের গল্প লিখতে থাকে নারীদের ফুটবল দল। যেখানে বয়সভিত্তিক সাফ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু জাতীয় দলের সাফল্যের খেরো খাতাই যেন খোলা যাচ্ছিল না কোনোভাবেই। তবুও সকল বাধা-বিপত্তির মধ্যেই ২০১৬ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স আপ হয়ে জাতীয় দলও সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলোর রেখার ইঙ্গিত দিয়েছিল বটে।
তবে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তের আলো খুঁজে পেতে বাংলাদেশের নারী জাতীয় ফুটবল দলকে অপেক্ষা করতে হয় পাক্কা ৬ বছর। সেই একই টুর্নামেন্ট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে। এই টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসর খেলতে বাংলাদেশসহ মোট ৭ দল নেপালে অবস্থান করে। যেখানে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকে ভারত, পাকিস্তান এবং মালদ্বীপ।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের বাঘিনীরা রীতিমতো উড়তে থাকে। তিন ম্যাচে মাঠে নেমে তিনটিতেই জয়ে শেষ করে। এরমধ্যে তিন ম্যাচে গোল দেয় মোট ১২টি। বিনিময়ে একটি গোলও হজম করতে রাজি হয়নি বাঘিনীরা। এরমধ্যে আসরের ফেভারিট ভারতের জালেও তিনটি গোল দেয় বাঘিনীরা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ভোগায় পাকিস্তানকে। তাদের জালে অর্ধ ডজন গোলের উৎসবে কাঁপিয়ে দেয় পাকিস্তানকে।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে প্রতিপক্ষ ভূটানকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে ওঠেন বাংলার বাঘিনীরা। অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে আরও চার ফুটবলারের গোলে সেমিফাইনালে ভূটানকে ৮-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় বাঘিনীরা। রেড হট ফর্ম নিয়েই ফাইনালে জায়গা করে নেয় ছোটনের শিষ্যরা।
যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে আসে স্বাগতিক নেপাল। তবে আগুনে ফর্মে থাকা বাঘিনীদের সামনে ফাইনালে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি নেপালিজ নারী ফুটবলাররা। দলটির সাফল্য বলতে পুরো আসরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জালে একটি গোল দিতে পারা।
খেলার ৭০তম মিনিটে নেপালের পক্ষে সেই গোলটি করে আনিতা বাসনেট। তবে তার আগেই খেলার ১৪ এবং ৪৪তম মিনিটে দুই গোল দিয়েই এগিয়ে যায় বাঘিনীরা। বাংলাদেশের পক্ষে সেই গোল দুটি করেন যথাক্রমে শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং কৃষ্ণা রাণী। এদিকে নেপাল এক গোল দেওয়ার ৭ মিনিট পর খেলার ৭৭তম মিনিটে আরেক গোল করে বাংলাদেশের বুকে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ে ফেলেন গোলাম রাব্বানী ছোটনের প্রিয় বাঘিনীরা।
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জনে আবেগের বন্যা বইয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বুকে সাফল্য উদযাপন করতে বাইরের দেশের মতো ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করা হয়। যা এয়ারপোর্ট থেকে বাঘিনীদের নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসা নিয়ে যায় বাফুফে ভবনে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই আনন্দ উদযাপনের সময় রাস্তার পাশে ব্যানারের সঙ্গে আঘাত পেয়ে চোটে পড়েন ঋতুপর্ণা।
বাঘিনীদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে খুশি হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সমাজের উঁচু শ্রেণী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কেবল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয় ভাগ্য বদলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে বাঘিনীরা জিততে থাকেন বড় অঙ্কের টাকাও।
তবে সেই আনন্দের মুহূর্তেই পড়ে থাকতে চান না নারী ফুটবলাররা। বাঘিনীদের লক্ষ্য এখন আরও বিশাল। আর তাইতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার আনন্দ পাশে রেখে সপ্তাহ না পেরোতেই আবারও অনুশীলনে মত্ত হয়ে পড়েন কৃষ্ণা রাণী, সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, রুপনা চাকমারা। নারী ফুটবলের যে জাগরণে দেশ পেয়েছে আনন্দের সেরা উপলক্ষ্য, সেই জাগরণের গানে ভেসে নারী ফুটবলাররা যেতে চায় বহুদূর। যে স্বপ্নের সীমানা নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের স্বপ্নবাজ বাঘিনীরা।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সালতামামি ২০২২ / প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে বিদায়ী বছরে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢালিউড। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র মতো সিনেমার সাফল্যে জোয়ার ওঠে বাংলা সিনেমায়। একের পর এক প্রশংসনীয় সিনেমার কারণে হলমুখী হয়েছেন দর্শকরা। চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত কিছু সিনেমা প্রসঙ্গে- হাওয়া : মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত ছিলো সিনেমাটি। বিশেষ করে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মেতেছিলেন শ্রোতারা। মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল গেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে অগ্রিম টিকিটও। সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। তারকাবহুল এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস। অপারেশন সুন্দরবন : এক সময় সুন্দরবন ছিলো ডাকাতদের একতরফা দাপট। তাদের নির্যাতনে সবসময় তটস্থ থাকত জেলেরা। অপহরণ, মুক্তিপণ দিতে না পারলে হত্যা- সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমক্ত করার জন্য র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। ভিন্ন ধারার এই সিনেমা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, মনোজ প্রামাণিক, দর্শনা বণিক, তাসকিন আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ অনেকে। শান : সত্য ঘটনা অবলম্বনে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩মে। এম রাহিমের পরিচালনায় এতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গী হয়েছেন পূজা চেরি। ঈদুল ফিতরে দেশের সব বড় বড় হলে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকায় ‘শান’ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। দামাল : গত ২৮ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সিনেমা ‘দামাল’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। মূলত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি প্রমুখ। গলুই : গত ৩ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ঢাকাই কিং শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। ‘গলুই’-তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক এবং প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরি। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন আজিজুল হাকিম, ফজলুর রহমান বাবু, সুচরিতা, আলী রাজ, ঝুনা চৌধুরী, সমু চৌধুরী, পুষ্পসহ আরও অনেকেই।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক বিভাগ ও সেন্টার নেই। শিক্ষাকে দেশ ও বিদেশের কাছে অর্থবহ করার জন্য আউটকাম বেইজড এডুকেশন বা ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তবে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে প্রফেসর সংখ্যা বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেন।  ‘রাষ্ট্রনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউজিসি সদস্য ও ইআরডিএফবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। দেশের কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র, অভিভাবকসহ সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এখন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসময় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার এবং গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এখন ঘরে ঘরে জিপিএ ফাইভ বা টপার আছে। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমার সময়ে মাত্র ১/২ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পেতো।
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রথম ধাপের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। এর আগে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথম ধাপের ফল জানা যাচ্ছে। এ বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজের ৭০ লাখ ২০ হাজারের বেশি আসন চয়েস দিয়েছে। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরামের প্রার্থী ছিলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল। ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। একইসঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ (৫৫৯ ভোট), সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা (৫৮৩ ভোট), যুগ্ম-সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া (৫৪০ ভোট) ও আশরাফ আলী (৪৯১ ভোট) ও কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী (৫৭৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত ১০ সদস্য হলেন- ফরিদ হোসেন (৪৯৫ ভোট), কাজনী রওনক হোসেন (৪২২ ভোট), শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা (৩৯০ ভোট), কল্যাণ সাহা (৩৮২ ভোট), শাহনাজ বেগম পলি (৩৬০ ভোট), সৈয়দ আবদাল আহমদ (৩৪৭ ভোট), জুলহাস আলম (৩৪৫ ভোট), বখতিয়ার রানা (৩৩০ ভোট) মোহাম্মদ মমিন হোসেন (৩৩০) ও সীমান্ত খোকন (২৮৯ ভোট)। নির্বাচিতরা আগামী দুইবছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১০২ জন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
আরও পড়ুন
বছরজুড়েই ছিল অপ্রত্যাশিত আর্থিক টানাপোড়েন
নশ্বর পৃথিবীতে অবিনশ্বর মেসি
প্রাপ্তির ঝুলিতে সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মা সেতু
ঘর গোছাতেই বছর পার আওয়ামী লীগের