
তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের অসমাপ্ত রায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো পড়া শুরু হয়েছে।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, সাজা বাতিলে আসামিপক্ষের আপিল এবং আসামিদের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর রায় দেবেন হাইকোর্ট।
আজ (সোমবার) সকালে অসমাপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে রায়ের পর্যবেক্ষণ দিচ্ছেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। তার পড়া শেষে রায়ের মূল অংশ পড়বেন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন।
বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত হত্যা মামলাটির রায় দেবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।
এর আগে রোববার (২৬ নভেম্বর) প্রথম দিনের মতো রায় পড়া শেষ হয়।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ওই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।
এই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় দিয়েছিলেন।
হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হতে যাচ্ছে।
এই মামলায় আসামি ছিলেন ৮৪৬ জন। সাজা হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন।
এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিতরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। আর ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।
এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। এদিন রায় পড়া শেষ না হওয়ায় আজ (২৭ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো রায় পড়া শুরু করেন আদালত।
জেএইচ




