ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাখাল ও শিক্ষকের পার্থক্য যোজন

আনিসুর রহমান এরশাদ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩৭ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তোমরা ভালোবাসা ও স্নেহের মাধ্যমে শিক্ষাদান ও সুষ্ঠু লালনপালন নিশ্চিত করো। কখনো নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নেবে না। কেননা একজন হৃদ্যতাপূর্ণ অভিজ্ঞ শিক্ষক একজন নিষ্ঠুর শিক্ষকের চেয়ে উত্তম।’ শারীরিক শাস্তি ব্যতীতই মানুষ করার উপায় জানে বলেই অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা শারীরিক প্রহার করে না। ইসলামে শিশুদের শাসনের জন্য বেত্রাঘাত করা, ঘুষি দেওয়া, লাথি মারা ইত্যাদি’র অনুমতি নেই। অন্যথায় শাসন পরিণত হবে শোষণে, শিক্ষক পরিণত হবেন জালেমে এবং শিক্ষার্থীরা পরিণত হবে মজলুমে।

কদিন আগে শুনলাম- জন্মদিন পালনের অপরাধে ৬ শিক্ষার্থীকে অমানুষিকভাবে পিটানো হয়েছে। একজন যৌনাঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এমন শিক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে কোনো অভিভাবকই সন্তানের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানাভাবে খুব বেশি পরিমাণে নির্যাতনের ঘটনায় গা শিউরে ওঠে। স্বপ্ন দেখি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, যেখানে কারো কোনো সন্তান কোনো রকম নির্যাতনের শিকার হবে না। সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত থাকবে। লালনপালনে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি একটা উপসর্গ হিসেবে চলে এলেও মানসিক বিকাশে এর অনেক নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।

নবী-রাসূলরা মানুষকে শেখাতে শাস্তি দেয়ার উপায় অবলম্বন করতেন না। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ ঘোষণা করলেও সাংস্কৃতিকভাবে এটা খুব বেশি সমাদৃত হয়নি। এখনো অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক শাস্তিকে অপরিহার্য মনে করেন। পুরো সমাজের মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় কাজ করা দরকার। কান ধরে হাঁটু গেড়ে দাঁড়াতে বলা বা ভীষণ মারার প্রতিবাদ হওয়া দরকার। আত্মার উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে ভয় দেখিয়ে শারীরিক-মানসিক ক্ষতি করে অধিকার সুরক্ষা হয় না। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে আক্রমণাত্মক হয়। রাষ্ট্রীয় বিধিব্যবস্থার বাইরে কখনো শাস্তি প্রয়োগ হয় না, যেটা হয় সেটা নির্যাতন।

শারীরিক ও মানসিক শাস্তি একটি কঠোর অপরাধ, কারণ এটি মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও বিকাশে খারাপ প্রভাব ফেলে। অবহেলা, নির্যাতন ও কটু ভাষার ব্যবহার বুদ্ধিবৃত্তি, আচরণ ও আবেগের জটিলতা সৃষ্টি করে। ভাষার ব্যবহারে নেতিবাচক শব্দ পরিত্যাগ করাও জরুরি। শাসন করতে হবে ইতিবাচক ভাষায়, মনোযোগকে ইতিবাচক কাজের দিকে সরিয়ে নিতে হবে। অন্যের সামনে অপমান, বকা ও শাসন করার ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুকে বেত্রাঘাত, কান মলে দেওয়া একধরনের নির্যাতন। বিকৃত মানসিকতার শিক্ষকেরা যৌন নির্যাতনও করেন। এ ধরনের অত্যাচারিতরা পরবর্তী জীবনে এ রকম অত্যাচারী হয়ে ওঠেন।

শিক্ষার্থীদের কোনো রকম নিপীড়ন না করে আনন্দের মধ্য দিয়ে অনুকূল পরিবেশে শেখাতে হবে। অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করতে হবে। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করায় উদ্বুদ্ধকরণে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ছোটবেলায় দেখা শাস্তির নানা ধরন- আঙুলের মধ্যে পেনসিল ঢুকিয়ে মোচড় দেওয়া, হাঁটু গেড়ে দাঁড়ানো, কয়েকটি বেত একত্র করে পেটানো, কানে ধরে উঠবস করানো। সেই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় পরিবর্তনটা আনেতে হবে। আগে গ্যাং বাহিনী, কিশোর ধর্ষণকারী ছিল না; মেয়েরা সমাজে নিরাপদ থাকত। এখনকার সমাজে সমবয়সীর কাছেও নির্যাতিত হচ্ছে। ফলে দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন খুব বেশি দরকার। শারীরিক ও মানসিক শাস্তি সামাজিক অপরাধ, এই বোধ জাগ্রত করা জরুরি।

সব বয়সী শিক্ষার্থীরাই মানুষ। তাদের ভয় দেখানো, আটকে রাখা এবং চাপ প্রয়োগ করা যাবে না; আবেগের মূল্য দিতে হবে। তাকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়া এবং অবজ্ঞা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিক্ষকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত হতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষার্থীর মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটানো খেয়াল রাখাই শিক্ষকের কাজ। শিক্ষকের শৃঙ্খলাবদ্ধ করার নামে শাস্তি দেয়া সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়। শারীরিক, মানসিক ও লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া অপরাধ; নির্যাতনের শিকারদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মৌখিক বা আকার-ইঙ্গিতে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা, ভীতি প্রদর্শন করা, আবেগের চাহিদার প্রতি নজর না দিয়ে অবজ্ঞা ও অবহেলা করা, আবেগের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা, কাঁদলে থামিয়ে দেওয়া, আবেগকে অবদমিত করে দেওয়াও মানসিক নির্যাতন। যা ধারণার জগতের পরিবর্তন ঘটায়, নৈতিক উন্নতিতে বাধা দেয় এবং আবেগের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার হয়, আচরণের পরিবর্তন ঘটে।

একজন ক্লাসমেট পায়ে ব্যথা পেয়েছে। কেটে রক্তও পড়ছে। আরেকজন ক্ষতস্থানে পানি দিতে তাকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে গেছে। দু’জন শিক্ষার্থীর ক্লাসের বাইরে যাওয়া দেখেনি শিক্ষিকা, কারণ মোবাইলের স্ক্রিনে মনোযোগী থাকা। ক্লাসে ফেরার পর কান ধরে উঠবস করিয়েছে বান্ধবীর কষ্টে সমব্যথী সহযোগী ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে। যা তার মানবিক মর্যাদা লাভের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।

ক্লাসের সময়টাতে বেঞ্চের ওপর পুরোপুরি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বই নিয়ে না যাওয়ায়। ফলাফল শিক্ষার্থীর কান্না, লজ্জা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্লাস করার ব্যাপারে অনাগ্রহ। শেখানোর কৌশল হিসেবে শাস্তি একটি অকার্যকর পদ্ধতি। কারণ উপলব্ধি না করে শুধু শাস্তি এড়ানোর জন্যই কোনো আচরণ করতে শিখলে পুনরায় একই আচরণ করে। শারীরিক-মানসিক কষ্ট দেয়া, শিক্ষার্থীর অধিকারের লঙ্ঘন। শারীরিক শাস্তির কোনো ইতিবাচক ফল নেই, এটি সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘমেয়াদে অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাথরুমে ছিটকিনি লাগিয়ে আটকে রাখায় শিক্ষার্থী সাংঘাতিক ভয় পেয়েছে। শাস্তি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিকাশ ও শিক্ষাকে প্রভাবিত করে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের বড় ক্ষতি করছে। বেশিরভাগ সময়ই শাস্তির ঘটনা ঘটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনের হতাশা থেকে। আসলে ইতিবাচকভাবে শিক্ষার্থীদের বড় করা ও শিক্ষাদান সম্পর্কে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

শৃঙ্খলার নামে শিক্ষার্থীদের আঘাত করাকে যারা যৌক্তিক মনে করেন তারা সামাজিক পরিবর্তনকে অস্বীকার করেন। নিয়ন্ত্রণের নামে পিটিয়ে আহত করে হাসপাতালে পাঠানোর কাজ পুলিশের হতে পারে, শিক্ষকের হতে পারে না। কারণ শিক্ষকের কাজ মনকে জাগানো, আত্মাকে আলোকিত করা- যা তার নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করবে; জোর-জবরদস্তি করে নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়। ভয়ের সংস্কৃতির বিকল্প সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব দূর করা গেলে শিক্ষকদের এমন নেতিবাচক আচরণ কমে যাবে।

অনেক সময় দেরিতে ক্লাসে আসায় বেত্রাঘাত করা হয়, কারণটা দেখা হয় না। অথচ এর পেছনে অভিভাবকেরও দায় থাকতে পারে। ফলাফল- লেখাপড়ার প্রতি ভয় জন্মানো, আনন্দ হারিয়ে যাওয়া, ভীতি সৃষ্টি হওয়া, বেত্রাঘাতকারী শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যায়। পড়া না পারায় বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত করা বা প্রশ্নের উত্তর লিখতে দেরি হওয়ায় মেরে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনা ঘটছে। বেত্রাঘাতে চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হবে, শিক্ষার্থীর পায়ে পচন ধরায় পায়ের একাংশের মাংস কেটে ফেলতে হবে- এমনটি পৈশাচিকতা।

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে যখন হাসপাতালে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে, অভিমানে আত্মহত্যা করে, ভয়ে পালিয়ে যায়- তখন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যহত হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থীর শরীরের যে স্থানে প্রহার করেন, তা জাহান্নামের জন্য হারাম হয়ে যায়, কথাটি সত্য নয়। আগে দুষ্টুমির কারণে শিক্ষকরা বেত দিয়ে পিটিয়েছেন বলেই এখনও পিটাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বিদ্যালয়ে দেরিতে যাওয়ায় জুতাপেটা করে আহত করার ঘটনাও ঘটে। যারা ভাবেন যে শারীরিক শাস্তি সামান্য মাত্রার ব্যথা দেয়, যতটুকু শারীরিক বল প্রয়োগে সামান্য অস্বস্তি হয়- তাতে সমস্যা নেই। অথচ নিষ্ঠুর ও অবমাননাকর আচরণ শিক্ষার্থীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে; বেড়ে ওঠা ও আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এগুলো প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতে প্রভাব রাখে যেমন দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্য, জ্ঞান বৃদ্ধিতে বাধা, পড়াশোনার ফল খারাপ হওয়া, নৈতিক দুর্বলতা, সহিংস কিংবা অসামাজিক আচরণ।

মিসরা ক্লাসে স্মার্টফোনে ইন্টারনেটে ইউটিউবের ভিডিও দেখায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন কনটেন্ট নিয়ে গল্প করে। ক্লাসে দেয়াল ঘড়ি বা হাত ঘড়ি না থাকায় সময় দেখার প্রয়োজন ক্লাসে স্মার্টফোন নেয়ার পেছনের যুক্তি দেয়। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, ক্লাসে এসে ঘুমিয়ে যান, ঘুম থেকে জেগে দেখেন দু’একজন শিক্ষার্থী সহপাঠীদের পড়াচ্ছেন- এমন শিক্ষক যদি বলেন, আল্লাহ এভাবেই সাহায্য করেন। এ থেকে শিক্ষার্থীরা কী ম্যাসেজ পাবে?

টয়লেটগুলো নোংরা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। আয়া-দারোয়ান একসাথে গল্প-গুজব করে সময় কাটায়। দারোয়ান মেয়েদের গায়ে টাচ করে, জড়ায়ে ধরে। গায়ে হাত দিয়ে বিরক্ত করে। ক্যান্টিনের লোক বাইরে যেতে দেয় না, নিজস্ব ক্যান্টিনে খেতে বাধ্য করে। প্রাইভেট পড়া- না পড়া, পারিবারিক আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে সুযোগ-সুবিধার কম-বেশি করার বৈষম্য জ্ঞানচর্চার অন্তরায়।

শিক্ষকের স্ক্রিন আসক্তি ভয়াবহ! স্ক্রিন আসক্ত একজন শিক্ষক স্ক্রিনে ডুবে থাকায় প্রকৃত ঘটনা না জেনে বা না দেখেই একজনকে পিটিয়ে এমনভাবে আহত করে ঠোঁট কেটে রক্ত পড়তে থাকে। যারা শিক্ষকদের দ্বারা মারধর ও অপমানের শিকার হচ্ছে, নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে; তাদের নীরব কান্না খুব কম জনই শুনতে পারছে! শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনে একটি শিক্ষার্থী–সংবেদনশীল শিক্ষকসমাজ গড়তে হবে। শারীরিক শাস্তি বিলোপ করা গেলে তা স্বাভাবিক বিকাশ, শিক্ষা ও কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ধমক ও বকাঝকা থেকে শুরু করে সকল প্রকার সহিংসতা থেকে মুক্তির অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে। কিছু শিক্ষকতো খুদে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে মর্যাদাই দেন না, শক্তির ব্যবহার বেশি করে ফেলেন। নিরাপদ আঘাত, মৃদু আঘাত, স্নেহময় আঘাত- যাই বলি না কেন; শারীরিক আক্রমণে মানবিক মর্যাদার প্রতি অসম্মানই দেখানো হয়। কোনো সময় অপরাধের কারণে অপরাধীকে শাস্তি দিলেও তা ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হয়।

এ কেমন শিক্ষক, যে একাধিক অভিভাবকের সাথে পরকীয়ায় জড়ায়। চরিত্রহীন, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক কাউকেই শিক্ষকতায় থাকতে দেয়া উচিত নয়। যাকে সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়, বকুনি খেতে হয়, মারধরের আতঙ্কে থাকতে হয়- তার কাছে পড়াশোনাতো নিরানন্দেরই হবে! শিক্ষক সহপাঠীদের সামনে অপমান করলে সে নিজেকে অপরাধী ও হীন মনে করে। অপমানবোধ তার মধ্যে বিদ্যালয়, শিক্ষক, পড়ালেখা ও সহপাঠীদের প্রতি অনীহা ও ঘৃণা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

আমরা চাই না, শিক্ষকের দেয়া শাস্তি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধিত্ব বা মৃত্যু ঘটাক; রোগের পেছনে দায়ী হোক। আচরণগত ও উদ্বেগ সংক্রান্ত ডিজঅর্ডার, বিষণ্নতা, হতাশা, নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করা বেড়ে যাক। ঘৃণা ও নিন্দার সংস্কৃতিতে কখনো কখনো আত্মহত্যার চেষ্টা বাড়ে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও দ্বন্দ্ব নিরসনে দক্ষতার ঘাটতি দেখা দেয়, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে; আগ্রাসী আচরণ, অপরাধ প্রবণতা, অন্যান্য ধরনের সহিংসতা বাড়ে এবং পারিবারিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হন, সে শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক। শাস্তি, রাগ ও ভয়ে শিশুর মস্তিষ্কে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ক্ষণিকের জন্য বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও আকৃতিতে স্থায়ী পরিবর্তন বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

আনন্দপ্রিয় শিক্ষার্থীরা আনন্দময় পরিবেশ থেকেই বেশি শিখে। শাস্তি, অপমান ও ভীতিকর বা আনন্দহীন পরিবেশে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অনেক কম শিখে। কোনো কাজের জন্য শাস্তি দিলে শাস্তিদাতার প্রতি বিদ্বেষ, বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। এই ছাপটা দীর্ঘ হয়। বয়সকালেও এটা তাকে প্রভাবিত করে। তাই শিশুর শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশু কোন অপরাধ করেছে, এটা যদি সে না বোঝে, তাহলে তার বোধের মাত্রায় নেমে অভিভাবক, শিক্ষককে সেটা বোঝাতে হবে।

শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে। তারা যখন শাস্তি দেয়, তখন অনেকটা স্বাভাবিক মনে করে এবং তা নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখে। এরা বড় হয়ে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাতে পারে। শিক্ষক, অভিভাবক, প্রতিবেশী, স্বজনরা যদি শিশুদের শাস্তি দেওয়া বন্ধ না করেন, তাহলে সমাজে সহিংসতার এই চক্র ভাঙা অসম্ভব হবে।

অনেক শিক্ষকের বদ্ধমূল ধারণা, শাসন বুঝি শুধু মুখের কথায় বা অত্যধিক কড়াকড়ি ছাড়া হয় না। বেত, লাঠি কিংবা চাবুক বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনার প্রক্রিয়া বর্বর। শারীরিক প্রহার শিশুদের মনে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এর মাধ্যমে কখনো সঠিক শাসন নিশ্চিত হয় না। এটিকে সাময়িকভাবে ফলপ্রসূ মনে হলেও স্থায়ী মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হরহামেশাই অধিক শারীরিক শাস্তি-প্রহার ভবিষ্যতে দুর্বল-কাপুরুষ ও নিস্তেজ ব্যক্তিতে পরিণত করে, নয়তো দুর্ধর্ষ ও একরোখা মানুষে পরিণত করে। তার মনে ধারনা জন্মে, যেকোনো কাজে বলপ্রয়োগই সফলতা এনে দেয়, কারো উপর রাগান্বিত হলেই তাকে পেটাতে হয়। সেও শাসনের ক্ষেত্রে একই পন্থা অবলম্বন করে। শিক্ষকের প্রতি তার মনে এক গভীর ক্ষোভের তৈরি হয়, একবার বিরূপ ধারণা জন্ম নিলে তা কখনোই মন থেকে মুছে যায় না। কখনো কখনো শিক্ষকের প্রতি বিদ্রোহাত্মক হয়ে ওঠে। এর ফলে ব্যক্তিত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানসিক রোগীতে পরিণত হয়, নিজেকে শোধরানোর পরিবর্তে পুনরায় সেই অপরাধ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

মানুষকে মৌখিক শাসনের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়, শুধুমাত্র পশুদেরকে শারীরিক শাস্তির মাধ্যমে সংশোধন করতে হয়। রাখাল ও শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য এখানেই। শুধুমাত্র শিক্ষকের লাঠিকে ভয় অপরাধবোধকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। শিক্ষকদের শিশুদের সঙ্গে আচরণে বিস্তর প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও সমাজের জনসচেতনতার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া চাই।

লেখক: গবেষক ও সাংবাদিক

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
এ বছর ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রথম ধাপে শৈত্যপ্রবাহের পর সারাদেশে শীতের প্রকোপ কমলেও আগামীকাল বছরের শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। ঘন কুয়াশা থাকতে পারে দুপুর পর্যন্ত। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আরটিভি/একে/এআর
বছরের প্রথম দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমাজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের সম্ভাব্য শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পুষ্টিহীনতা একটি অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ, যা ধীরে ধীরে শিশুর বিকাশ ও জাতীয় উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সুষম পুষ্টি একটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির অগ্রগতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক বিকাশের উপর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশে এখনও অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। সুষম পুষ্টি শুধু একটি শিশুর সুস্থতার জন্য নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম পুষ্টি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ সুষম পুষ্টি বলতে শরীরের সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যথাযথ মাত্রায় গ্রহণকে বোঝায়। এর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, মিনারেল এবং পানি অন্তর্ভুক্ত। শৈশবকালীন সুষম পুষ্টি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। যে শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে ১. শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: পুষ্টির অভাবে শিশুদের উচ্চতা এবং ওজন গড় মানের চেয়ে কম হতে পারে। ২. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব: অপুষ্ট শিশু সহজেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ৩. মস্তিষ্কের বিকাশের ঘাটতি: পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া শিশুদের শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ৪. দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা: পুষ্টিহীনতার কারণে ডায়বেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার বর্তমান চিত্র বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা একটি গুরুতর সমস্যা। ইউনিসেফের মতে, দেশের প্রায় ৩৬% শিশু অপুষ্টির শিকার। অনেক শিশুর মধ্যেই ভিটামিন এ, আয়রন, এবং জিঙ্কের অভাব রয়েছে। এই অভাবের কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে। পুষ্টিহীনতার পেছনের মূল কারণগুলো হলো ১. ক্রয়ক্ষমতার অভাব: অনেক পরিবার তাদের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করতে পারে না। ২. অজ্ঞতা: পুষ্টির বিষয়ে সচেতনতার অভাবে অনেক অভিভাবক সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারে না। ৩. পরিবেশগত সমস্যা: নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ৪. খাদ্য বৈচিত্র্যের অভাব: অনেক শিশুর খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য কী কী করা যেতে পারে বাংলাদেশে শিশুদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে ১. পুষ্টি শিক্ষা প্রদান: অভিভাবক এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি চালানো জরুরি। ২. স্কুল পর্যায়ে খাবার সরবরাহ: প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ চালু করা যেতে পারে, যা শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। ৩. জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি: গর্ভবতী মা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সরবরাহ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। ৪. দারিদ্র্য হ্রাস: দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন। ৫. নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা: পরিচ্ছন্ন পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিশুদের পুষ্টি শোষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতি নয়, বরং একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। পুষ্টিহীনতার সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আমরা শিশুদের জন্য একটি সুস্থ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি মেধাবী ও সমৃদ্ধিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটি শুধু তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। পুষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সরকার, পরিবার, এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি স্বাস্থ্যকর এবং মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারব, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। আরটিভি/একে/এআর startTime=0; function calculateUserTimeSpent(){const endTime=performance.now(); const timeSpentInMinutes=(endTime - startTime) / 1000 / 60; let timeSpentInSeconds=1; timeSpentInSeconds=Math.max(0, Math.floor(timeSpentInMinutes * 60)); return timeSpentInSeconds;}function startTrackingTime(){startTime=performance.now();}async function getUserIP(){try{const response=await fetch("https://api.ipify.org?format=json"); const data=await response.json(); return data.ip;}catch (error){console.error("Error getting user IP:", error); return "127.0.0.1";}}function sendPixelTrackerOnUnload(){const userTimeSpent=calculateUserTimeSpent(); getUserIP().then((userIp)=>{const campaign_uid='c131cb9c-6d27-466d-8a05-d495274a84cc'; const publisher_uuid = '35fd5036-a36f-44b8-9def-a6bcbafa01e2' ; const client_uuid='dcc5856c-f95b-4435-8b27-04116fbe2d95'; const apiUrl=`https://pr.reachableads.com/api/pixel_tracker/?campaign_uid=${campaign_uid}&publisher_uuid=${publisher_uuid}&client_uuid=${client_uuid}&user_ip=${userIp}&user_time_spent=${userTimeSpent}&url=${window.location.href}`; const image=new Image(); image.src=apiUrl; console.log("Pixel Tracker API request sent.");});}window.addEventListener("load", startTrackingTime); setTimeout(function (){sendPixelTrackerOnUnload();}, 1000); window.addEventListener("beforeunload", sendPixelTrackerOnUnload); document.addEventListener("visibilitychange", handleVisibilityChange); function handleVisibilityChange(){if (document.visibilityState==="hidden"){sendPixelTrackerOnUnload();}}
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টির গুরুত্ব
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
শুরু হচ্ছে যাচ্ছে সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন ‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সম্প্রচার শুরু করছে চ্যানেলটি। এদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফেসবুক পেজে জানানো হয় খবরটি। ‘বিটিভি নিউজ’র লোগো প্রকাশ করে ওই পোস্টে বলা হয়, নতুন প্রত্যয়ে সংবাদভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে যাত্রা শুরু করবে ‘বিটিভি নিউজ’।  বাংলাভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন ‘বিটিভি’। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হয় চ্যানেলটির। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন ও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয় এটি।  দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার সুবিধার মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে। বর্তমানে বিটিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারিত হয়। এবার শুধু সংবাদের জন্য বিশেষায়িত চ্যানেল হিসেবে যাত্রা শুরু করছে বিটিভি নিউজ।  আরটিভি/এইচএসকে/এআর  
‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
অনেক কারণে হার্টের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে পারে, যা কার্ডিওমেগালি নামে পরিচিত। ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম) হার্টের (হৃৎপিণ্ড) মাংসপেশির রোগ। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের দেয়াল পাতলা হয়ে যায় ও এর বাঁ দিকের চেম্বার অস্বাভাবিক রকম বড় আকার ধারণ করে বা ফুলে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। হৃদপিণ্ড এর নিজস্ব গতিতে পাম্প করতে না পারায় রোগীর শরীরে, বিশেষ করে পায়ে পানি আসে ও অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। কার্ডিওমেগালি বা হার্ট বড় হয়ে যাওয়া মোটেই কাজের কথা নয়। এতে বহু ধরনের শারীরিক অসুখবিসুখ হতে পারে। সাধারণত অন্য কিছু অসুখের কারণে, যেমন উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টের আকার বড় হয়ে যায়। তখন আর হার্ট আগের মতো কাজ করতে পারে না। উপসর্গ: কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগী বুঝতে পারেন না যে তার হৃৎপিণ্ডে ডিসিএম আছে। চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হওয়া থেকে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন। উপসর্গগুলোর মধ্যে শুরুর দিকে অতিমাত্রায় দুর্বলতা, স্বাভাবিক কাজকর্মে শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে পানি আসে এবং বুকব্যথা ও বুক ধড়ফড় করতে থাকে। পরিবারে কারও এ রোগ হলে বাকি সবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উত্তম। কারণ: ডিসিএমের কারণ হিসেবে কিছু সুনির্দিষ্ট সংক্রমণ, প্রেগন্যান্সির শেষের দিকের জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে আয়রন জমা হওয়া (হিমাক্রমাটোসিস), উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃৎপিণ্ডের আ্যরিদমিয়া ও ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়াকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় মদ্যপান, সিসা, কোবাল্ট, পারদজাতীয় টক্সিনের সংস্পর্শে আসা, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে। যাদের ঝুঁকি বেশি রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ বা এর থেকে বেশি থাকে পরিবারের নিকটাত্মীয়ের, যেমন ভাইবোন, যদি কার্ডিওমেগালির ইতিহাস থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ জন্মগতভাবে ক্ষতিগস্ত হার্ট হার্ট ভাল্বের অসুখ হার্টঅ্যাটাকের ইতিহাস মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর যদি হার্ট ভাল্বের ত্রুটি থাকে। ডায়রিয়া ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত অল্প বয়সী শিশু-কিশোর। ডিসিএমে যা হয়: ডিসিএমের কারণে হৃৎপিণ্ডের চেম্বার, বিশেষ করে বাঁ দিকের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়ায় ভালভ বন্ধ হওয়ার অ্যালাইনমেন্ট বদলে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহের কিছু অংশ ব্যাক ফ্লো করে ও হৃৎপিণ্ডকে আরও বড় হতে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড বড় হতে হতে একসময় পাম্প করতে ব্যর্থ হয়ে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ায় এটি তার পাম্প করার ছন্দ হারিয়ে ফেলে এবং এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট তথা অ্যারিদমিয়া দেখা দেয়। চিকিৎসা পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাওয়া কঠিন। কিছু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ ওষুধগুলোর মধ্যে আছে ডাই-ইউরেটিক, এনজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহেবিটর, এনজিওটেনসিন রিসিপ্টর ব্লকার, বিটা ব্লকার, ডিজক্সিন, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, অ্যান্টি অ্যারিথমিক ইত্যাদি। সার্জিক্যাল পদ্ধতিতেও কিছু চিকিৎসা করতে হয়। হৃত্স্পন্দন কম থাকলে বা হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে কখনো কখনো পেসমেকার বসাতে হয়। আইসিডি নামের ছোট একটি ডিভাইসও বসানো লাগতে পারে। হার্ট ভাল্বের সার্জারিও অনেক সময় লাগে। করোনারি রক্তনালির অসুখ হলে বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেক সময়। কিছু নিয়মকানুন মানলে কার্ডিওমেগালিসহ হার্টের অসুখ থেকে ভালো থাকা যায়। ধূমপান না করা অতিরিক্ত ওজন কমানো পাতে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন পরিহার করা অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো মাড়ির অসুখের যথাসময়ে চিকিৎসা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে না করা বাতজ্বর থাকলে তার চিকিৎসা। সূত্র : অনলাইন আরটিভি/এফআই
যে কারণে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে যায়
আরও পড়ুন
অনশন ভাঙলেন সেই জাবি শিক্ষার্থী
আদালতে দাঁড়িয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে কারাগারে শিক্ষক
জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু 
চবিতে কোটা বাতিলসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন