ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনায় অত্যাধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল

বাসস

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম
রকিবুল ইসলাম বকুল। ছবি: সংগৃহীত

খুলনাঞ্চলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেছেন খুলনা-৩ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থানের অভাব দূর করতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। অবহেলিত এই শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় কর্মচঞ্চল করে তোলা এবং স্থানীয় যুব সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার মূল লক্ষ্য।’

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, শিল্পনগরী খুলনার পুরোনো ঐতিহ্য এখানকার মিল ও কলকারখানা। কিন্তু সেসব মিল ও কলকারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এতে খুলনা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সরকারি পাটকল একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই নির্বাচনি প্রচারণায় বন্ধ মিল ও কল-কারখানা চালু ও আধুনিক নগরায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুলনা- ৩ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নের জন্য তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বকুল বলেন, খুলনার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) আদলে একটি অত্যাধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। খুলনার শিল্পাঞ্চল খ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘খুলনা-৩ এর সব বাসিন্দাদের দায়িত্ব আমার’-আমার পোস্টারে বা বিভিন্ন বিল বোর্ডে এই স্লোগান ছিল। আমি ছাত্রজীবন থেকে বিশ্বাস করি সবাইকে নিয়ে ভালো থাকা হচ্ছে রাজনৈতিক বিজয়। আমি খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার সব দলের এবং মতের ও ধর্মের মানুষকে একটি ম্যাসেজ দিয়েছিলাম, ‘আমি নির্বাচিত হলে সবার এমপি হবো।’

বকুল বলেন, ‘খুলনার সোনালি অতীত ছিল এই কলকারখানাগুলো। এই অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সব কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এসব মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেডের আদলে শিল্প নগরী গড়ে তোলা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। নগর জীবনে ফিরে আসবে কর্মচঞ্চলতা।

‘রাজনৈতিক সৌন্দর্য আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে শিখিয়েছেন। আমি তার আদর্শ ও চিন্তার খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি এবং তা বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগে যে ওয়াদা করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। ভিন্ন মতাদর্শীদের সঠিক প্রস্তাব এবং সমালোচনা গ্রহণ করে একটি আদর্শ বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিতে চাই খুলনার উন্নয়নে আমি সবার বকুল।’

এ ছাড়া দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে চেষ্টা করবেন বলে জানান বকুল। বিশেষায়িত আধুনিক মানের হাসপাতাল, অংশীজনদের সাথে নিয়ে খুলনাকে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন এই নেতা।

আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনার খালিশপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। তিনি খালিশপুর রোটারি স্কুল থেকে প্রাথমিক এবং খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। খুলনা বিএল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তিনি হল কমিটির সহ-সভাপতি (১৯৮৬-৮৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক (১৯৮৮-৮৯), ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৯০-৯১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়াও তিনি পরপর দুই বার (১৯৯৭-৯৮ এবং ১৯৯৮-৯৯) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রকিবুল ইসলাম বকুল ধানের শীষের প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন রকিবুল ইসলাম বকুল।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি: ববি উপাচার্য
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। সেশনজট নিরসন, আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্তি, গবেষণা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন সংকট সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নানা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আরটিভির ববি সংবাদদাতা ডালিয়া হালদারের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ। আরটিভি: ২০৩০ সালের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান? উপাচার্য: আমি ২০৩০ সালের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্মার্ট, গবেষণানির্ভর, উদ্ভাবনী, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের মূল ভিশন হলো শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, গবেষণামুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আরটিভি: সেশনজট নিরসনে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে? উপাচার্য: আমরা নিয়মিত ক্লাস, সময়মতো পরীক্ষা এবং দ্রুত ফল প্রকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। নির্ধারিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। সেশনজট অনেকটাই কমেছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং খুব শিগগিরই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করতে পারব বলে আশা করছি। আরটিভি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে আপনার করণীয় কী? উপাচার্য: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদ সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছি। ইউজিসি আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, খুব শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গ্রহণযোগ্য অনুপাত নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। এতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদান কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং বিভাগগুলোর ওপর বিদ্যমান চাপ অনেকটাই কমবে বলে আমরা আশা করছি। দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠে একটি কার্যকর ও মানসম্মত অ্যাকাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আরটিভি: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে? উপাচার্য: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং উন্নয়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক সভা করেছে এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং কর্তৃপক্ষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখতে পাব। আরটিভি: গবেষণার উন্নয়নে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? উপাচার্য: গবেষণার মানোন্নয়ন আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গবেষণা অনুদান চালু করেছি। ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত থাকবে। গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, গবেষণা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উচ্চমানের জার্নালে প্রকাশে উৎসাহ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আমরা গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। এতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে এবং দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে। আরটিভি: অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী? উপাচার্য: নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, আধুনিক গবেষণাগার, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, আগামী পাঁচ বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। আরটিভি: আবাসন সংকট সমাধানে কী অগ্রগতি হয়েছে? উপাচার্য: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এটি সমাধানের জন্য আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। আশা করছি, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন কতটি আবাসিক হল নির্মাণ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে আবাসন সংকট নিরসনে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আরটিভি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? উপাচার্য: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা স্মরণীয়। সেই ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। আমরা চাই এটি স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হয়ে উঠুক। আরটিভি: মেধাবী শিক্ষার্থী ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কী পরিকল্পনা রয়েছে? উপাচার্য: মেধার স্বীকৃতি উৎকর্ষ অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। এ কারণেই আমরা মেধাবৃত্তি ও ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড চালু করেছি। ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কী? উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের নীতিতে বিশ্বাসী। বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা হয়েছে। দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছি। আরটিভি: শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অ্যালামনাইদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী? উপাচার্য: বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অ্যালামনাইদের প্রত্যাশা পূরণ করে একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার প্রতিষ্ঠান। এর উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির দায়িত্বও আমাদের সবার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, জ্ঞানচর্চা ও ইতিবাচক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি। আরটিভি/এমএইচজে
আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি: ববি উপাচার্য
আমি সবসময় ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাস করি: কুবি উপাচার্য
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একজন শিক্ষক উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন। গত ১৪ মে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন তিনি। উপাচার্য হিসেবে তার মিশন ও ভিশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের পরিকল্পনা, নতুন ক্যাম্পাস, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং কুবির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সামগ্রিক ভাবনা জানতে তার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছে আরটিভি। আরটিভি: আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? উপাচার্য: ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।  আরটিভি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন? আপনার প্রধান ভিশন ও মিশন কী? উপাচার্য: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আমাদের সবার প্রত্যাশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। আমি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের জন্য একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান সময়ের চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য কারিকুলামকে যুগোপযোগী ও সৃজনশীলভাবে সাজানোর পাশাপাশি তাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আমি সবসময় ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাস করি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিটি বৈঠকেই আমি এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল প্রত্যাশা করা যায় না। তাই তাদের অগ্রগতির পথে যেসব সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেগুলো দূর করাই হবে আমার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। আমার ভিশন একটাই, শিক্ষার্থীদেরকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, মানবিক, শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা। আরটিভি: শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, ডাইনিং ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে আপনার প্রশাসনের কী পরিকল্পনা রয়েছে? উপাচার্য: দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি একটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি, সেটি হলো ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট’। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষার্থীদের আবাসন, ডাইনিং, পরিবহন ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি। যেসব উদ্যোগ স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলোকেই প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ডাইনিংয়ের মানোন্নয়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মূল্যায়ন টিম গঠন করা হবে। তারা সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে হলের ডাইনিংগুলোকে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই ডাইনিংয়ের সেবার মান সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং সেবার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমাদের যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে পর্যাপ্ত হলেও চালকের সংকট রয়েছে। এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ববর্তী প্রশাসনও কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যে একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেডিক্যাল সেন্টারে একজন ফার্মাসিস্ট নিয়োগের বিষয়েও ফার্মেসি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে তা নিরসনে আপনার পরিকল্পনা কী এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়টিকে প্রাধান্য দিবেন?  উপাচার্য: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে, তা সত্য। এর পেছনে কয়েকটা কারণ রয়েছে; তার মধ্যে নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়া, বিদেশে শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে অনেক শিক্ষক ফিরে না আসা অন্যতম। শিক্ষাছুটিতে গিয়ে যারা ফিরে আসেনি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন পদ সৃষ্টির জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করা হয়েছে। গত ২৩ তারিখ ইউজিসিতে এটা নিয়ে মিটিংও বসেছে। আশা করছি শীঘ্রই এ সমস্যার কিছুটা হলেও নিরসন হবে। নিয়োগে স্বজনপ্রীতি থাকবে না। স্বজনপ্রীতি এবং দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা ও দৃঢ়তা রয়েছে। অস্পষ্টতা রেখে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া উচিত না। কোন কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে, তা প্রার্থীকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে। আমরা নিয়োগ বিধি তৈরী করবো, সেই বিধির আলোকেই নিয়োগ হবে। আরটিভি: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, র‍্যাগিং এবং মাদক প্রতিরোধে আপনার প্রশাসনের পদক্ষেপ কী হবে? উপাচার্য: র‍্যাগিং ও মাদক শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। এসব কমিয়ে আনতে হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ইতিবাচক বিকল্প কার্যক্রমও বাড়াতে হবে। আমরা যদি নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করতে পারি, তাহলে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ত হবে এবং এ ধরনের সমস্যাও অনেকটাই কমে আসবে। মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। সুযোগ থাকলে প্রতিবছর ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইতাম। তবে, এটি এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। নিরাপত্তার বিষয়ে বলতে গেলে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী টিউশনের কারণে নিয়মিত ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন, তাদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। আরটিভি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন রয়েছে, সেই ক্যাম্পাস উদ্বোধনের ব্যাপারে কী ভাবছেন?‎উপাচার্য: নতুন ক্যাম্পাসকে একটি গ্রিন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আমি ইতোমধ্যে পরিবেশবিদদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছি। শিগগিরই তাদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক সভা করে কাজ শুরু করা হবে। নতুন ক্যাম্পাস চালুর বিষয়ে বলতে গেলে, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) একনেকে অনুমোদন পেলে ১২ মাসের মধ্যে সেনাবাহিনী ক্যাম্পাস হস্তান্তর করতে পারবে বলে জানিয়েছে। আমি আশাবাদী, আগামী এক মাসের মধ্যেই আরডিপিপি একনেকে অনুমোদন পাবে। সে অনুযায়ী ২০২৭ সালের আগস্টে আমরা নতুন ক্যাম্পাসের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো বুঝে পাব। তবে, আমি পুরো ১২ মাস অপেক্ষা করতে চাই না। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের অনেক কাজ শেষ হয়েছে। তাই আরডিপিপি অনুমোদনের ছয় মাসের মধ্যেই আংশিক অবকাঠামো বুঝে নিয়ে কয়েকটি বিভাগ দিয়ে নতুন ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু ও উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারব বলে আমি আশাবাদী। আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মাত্র ১৯টি বিভাগ রয়েছে, নতুন বিভাগ চালুর কোনো পরিকল্পনা আছে কী? উপাচার্য : আমি নতুন পাঁচটি বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে আবেদন করেছি; অনুমোদন পেলেই চালু করতে পারব। যে পাঁচটি বিভাগ চালুর আবেদন করেছি তা হলো ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মাইক্রোবায়োলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, পপুলেশন সায়েন্স এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট। আরটিভি: ক্যাম্পাসে শিক্ষক রাজনীতি এবং কুকসু নিয়ে আপনার ভাবনা কী? উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ। তাই শিক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। তবে, তারা কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থক হতে পারবেন না, এমনটি বলা যায় না। আমার মতে, শিক্ষকদের সংগঠন দলীয় নয়, পেশাজীবী সংগঠন হওয়া উচিত। নিজেদের পেশাগত অধিকার ও দাবি-দাওয়া আদায়ে শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সমিতি গঠনের অধিকার রয়েছে। সেখানে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। কুকসুর বিষয়ে বলতে গেলে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদের কোনো বিধান নেই। তবে, এ নিয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন কাজ করেছে এবং অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। আমি মনে করি, ছাত্র সংসদ গঠনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেভাবে কুকসু চায়, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ছাত্র সংসদ গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? উপাচার্য: আমার মতে, প্রতিবছরই সমাবর্তন আয়োজন করা উচিত। তবে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পূর্ববর্তী প্রশাসন দ্বিতীয় সমাবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। আমার পরিকল্পনা হলো, নতুন ক্যাম্পাস চালু হওয়ার পর সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করা। আরটিভি: ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। উপাচার্য: আপনাকেও ধন্যবাদ। আরটিভি/এসএইচএম
আমি সবসময় ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাস করি: কুবি উপাচার্য
গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক; ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়: রাবি উপাচার্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের এবং গবেষণামুখী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত, দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই শিক্ষাবিদ সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন; করেছেন অধ্যাপনাও। মিলিটারি একাডেমিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তিনি। অধ্যাপনার ক্ষেত্রে পর্যটন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।  সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির রাবি সংবাদদাতা ইসমাইল হোসেন সায়েম।   আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে বেশ কিছুদিন হয়েছে, আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনার মূল লক্ষ্য কী এবং আগামী চার বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান? উপাচার্য: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমি এই পদে এসেছি। সরকার আমাকে মনোনীত করেছে। আমার ছাত্র-ছাত্রীদের যেরকম আশা আছে, প্রত্যাশা আছে, আমারও একটা লক্ষ্য আছে। একজন ভাইস চ্যান্সেলর আসে চার বছরের জন্য। আমি চাইবো এই সময়ে শিক্ষা এবং গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেন শুধু বাংলাদেশে না; পুরো পৃথিবীতেই একটা জায়গা করে নেওয়ার দিকে এগিয়ে যায়। বিশ্ব এখন অনেক এগিয়ে গেছে। পৃথিবীতে এখন এআই, ড্রোন ও সাইন্টিফিক অনেক জিনিস নিয়ে কাজ হচ্ছে। আমার লক্ষ্য আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে সেইরকম একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার, যেখানে আধুনিক বিশ্ব সৃষ্টিশীল কিছু তৈরি করছে সমাজের জন্য। আরটিভি: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ও গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে? উপাচার্য: আমরা আগে দেখতে পেতাম যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক; মানে আমি ডেভেলপ হবো, আমি তাড়াতাড়ি প্রমোশন পাব— এজন্য আমার পিএইচডি দরকার আমার গবেষণা দরকার। কিন্তু, গবেষণার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজকেন্দ্রিক, রাষ্ট্রকেন্দ্রিক। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বার্তাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। অনেক সীমাবদ্ধতা আছে— গবেষণায় পর্যাপ্ত ফান্ড হচ্ছে না, অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। ইয়াং গবেষকরা বাইরে গিয়ে যে জ্ঞান আহরণ করবে, সেটাতেও সুযোগটা সীমিত হয়ে আসতেছে। কিন্তু, আমরা চাই যতটুকু রিসার্চ হোক, সেটা যেনো আমাদের দেশের জনগণের উপকারে আসে। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। একটা উন্নয়নশীল দেশের সমস্যাগুলোর যদি নিজস্ব সমাধান না থাকে, তাহলে সে দেশ এগোতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অবশ্যই এই দিকে চিন্তা করবে, কীভাবে দেশ এগিয়ে যায়।   রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার দিক থেকে অনেক আগে থেকেই এগিয়ে আছে। এখানে বেশ কিছু অনুষদ আছে যে অনুষদগুলোতে ইনোভেটিভ অনেক কাজ হচ্ছে রিসার্চে। আমরা চাচ্ছি এই কাজগুলো আরও বেশি হোক। অনেকে বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চের ফান্ড দেওয়া হয়নি। আসলে রিসার্চের ফান্ড দেওয়া হচ্ছে বা আছে। এই ফান্ডটি ডিস্ট্রিবিউট হবে এবং নিশ্চিতভাবে একটা কথা বলতে পারি যে এই ফান্ড আগের চাইতে বাড়বে। এটার প্রসেসটা চেঞ্জ হচ্ছে। ইতোপূর্বে যেভাবে ফান্ডটা দেওয়া হতো, আমি একটু আগে যে কথাটা বললাম এটি সোসাইটির কল্যাণে আসবে কি না এবং ফান্ডটার যথাযথ ব্যবহার হবে কি না, এসব বিবেচনা করেই একটু দেরি হচ্ছে। ফান্ড যে কমে গেছে বা জিরো, এটি ঠিক না। ফান্ড ঠিকই আছে; বরং বাড়ছে। আমি যোগাযোগ রাখছি। ফান্ডটার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এর পদ্ধতিগত একটা পরিবর্তন আসছে।  আরটিভি: শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে আপনার পরিকল্পনা কী?   উপাচার্য: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে ৩৫-৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। বাকি শিক্ষার্থীরা হল সুবিধা পাচ্ছে না, ওরা বাইরেই থাকে। এটা একটা বিরাট সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রই বাংলাদেশের খুব প্রান্তিক এরিয়া থেকে আসা। তারা আর্থিকভাবে অতটা স্বচ্ছল না। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে যে এত অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসন খুব অল্প সময়ে নিশ্চিত করাটাও চ্যালেঞ্জ। আমরা কয়েকটা স্তরে এই জিনিসটা ভাগ করে নিয়েছি। এখন তো ৩৪ শতাংশ আছে; তারপর ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে দিতে পারবো; এরপর ৭০-৮০ শতাংশ। নতুন যে প্রজেক্টগুলো চলছে, এগুলো অনেক আগ থেকে শুরু হয়েছে। এখানে এমন কিছু অনিয়ম হয়েছে, যার কারণে প্রজেক্টগুলো পিছিয়ে দিচ্ছে। এখানে ৩-৪টা হল আছে, আমরা প্রচন্ড জোর দিয়েছি এই হলগুলোর কাজ যত তাড়াতাড়ি পারি যেন শেষ করা যায়। নিমার্ণ কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা এমনিতেই ৫০ শতাংশের কাছাকাছি চলে যাবে। দ্বিতীয় দফায় ৬টি হলের নাম আমাদের অর্থপরিকল্পনার সবুজ পাতায় উঠেছে; এরপরে এটা একনেকে যাবে। একনেকে গেলে সেখানে আমরা কয়েকটা হল পাবো বলে আশা করছি। যদি পাই, তাহলে আবাসন চলে যাবে ৫০ শতাংশ থেকে ৭০-৮০ শতাংশে। এভাবে দফায় দফায় কাজ করলে একসময় দেখবো প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি চলে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদেরকে বুঝতে হবে যে এটা স্বল্পমেয়াদী কোন কাজ না; এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী কাজ। আশা করি, আমার ছাত্র-ছাত্রীরা বুঝবে। বর্তমানে যারা ছাত্র-ছাত্রী আছে, তারা যদি এই সুযোগ নাও পায়; নিশ্চয়ই তাদের ছোট ভাই-বোনরা যারা আসছে, তারা এই সুযোগটা পাবে।   আরটিভি: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কি ভাবছেন?   উপাচার্য: সবকিছুই নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপরে। আমরা চাই শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকুক; পুরো বাংলাদেশেই থাকুক; থাকাটা স্বাভাবিক। এর মাধ্যমে সুবিধা হয়। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকলে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে। আগামীতে সবকিছুই নির্ভর করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি উপর। আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?  উপাচার্য: আমার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আমি যখন প্রথমে আসি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা অস্থিরতা লক্ষ্য করেছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোনিবেশের জায়গাটা, পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার জায়গাটা, তাদের গবেষণায় ফিরে যাওয়ার জায়গাটা আনরেস্ট পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে এই মনস্তাত্ত্বিক আনরেস্টকে বজায় রেখে শিক্ষা কখনো নিশ্চিত হতে পারে না।  কিছু বিভাগে সেশনজট রয়েছে। আমরা এ বিষয়টিতে কখনোই আপোষ করবো না। শিক্ষার্থীদের যেন একটা দিনও না দেরি হয়। যে যে ডিপার্টমেন্টে সেশনজট আছে ওখানে আমরা হাত দিয়েছি। আমরা এই চ্যালেঞ্জটাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছি, যেন আমার কোনও ছাত্র-ছাত্রীকে একদিনও বেশি এখানে থাকতে না হয়।  চব্বিশে ফ্যাসিবাদী সরকার চলে যাওয়ার পর অর্থনৈতিকভাবে তাদের লুটপাটের, তাদের কর্মকান্ডের খেসারত পুরো বাংলাদেশ বহন করছে। এরপরেও বর্তমান সরকার শক্ত হাতেই খুব সাহসিকতার সঙ্গে বাজেট ঘোষণা করেছে। আমরা অবকাঠামোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি, আমাদের দিকে একটু তাকানোর জন্য। এর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সংকট বা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। এগুলোতেও আমরা হাত দিচ্ছি। পুরো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর যে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ফেস করছি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সংকট কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের মেডিকেল সেন্টারটাকে কত ভালো করা যায়, তার জন্য একটা ভালো বাজেট আমি আনতে পেরেছি।  ছেলেমেয়েদের হল কেন্দ্রিক যে সুবিধাগুলো; যেমন— তাদের রিডিং রুম, খাওয়া-দাওয়া... এগুলোতে আমরা নজর দিচ্ছি। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বিশাল জনবল সংকট দেখা দিয়েছে বা আছে। অনেকদিন থেকেই বেশ অনেক অফিসার অবসরে গেছেন। অনেকে মারা গেছেন। অনেক বিভাগে শিক্ষকের সংকট আছে। এই জিনিসগুলো নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে। মোট কথায় চ্যালেঞ্জের সংখ্যা বলতে গেলে অনেক।  আরটিভি: বিগত প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে এক ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে?   উপাচার্য: সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের চেষ্টা করবো। একটা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকা অবশ্যই জরুরি। পাশাপাশি দক্ষ অফিসার; জনবল যেটা যেখানে লাগবে, সেখানে স্বচ্ছতার সাথেই নিয়োগ দেওয়া হবে।   আরটিভি: কিছু কিছু বিভাগে সেশনজট রয়েছে। সেশনজট নিরসনে আপনার পদক্ষেপ কী?  উপাচার্য: উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমি সকল বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসে সেশনজট শুন্যের কোটায় নিয়ে আসার একটা বার্তা দিয়েছিলাম এবং এর ফলাফল আমরা পেতে শুরু করেছি।  আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী; তাদেরকে কী বার্তা দিতে চান? উপাচার্য: শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই, প্রথাগত নোট পড়ে পাস করে আমি চাকরিতে ঢুকলাম বা চাকরির চেষ্টা করলাম; উচ্চশিক্ষা কিন্তু এই পর্যায়ে আর নেই। একটা বিরাট পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ, বিশ্বে কী ঘটছে তাকিয়ে দেখুন। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা বা আপনার সেই মুখস্ত বিদ্যার উপর ভরসা করবেন না, প্লিজ।  সাবজেক্টের পাশাপাশি বেশ কিছু সফট স্কিলের প্রয়োজন হচ্ছে। যদি প্রতিযোগিতায় টিকতে চান, তাহলে অবশ্যই নিজেকে গড়ুন। নিজের দিকে খেয়াল করুন। আপনার সময় খুবই মূল্যবান। এই চার-পাঁচটি বছর রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে যখন কাটাচ্ছেন, এটি শ্রেষ্ঠ সময় নিজেকে তৈরি করে নেওয়ার। বাংলাদেশের জন্য তথা বিশ্বের জন্য নিজেকে তৈরি করুন। এই সুযোগ আর দ্বিতীয়বার পাবেন না।  আরটিভি/এসএইচএম
গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক; ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়: রাবি উপাচার্য
‘রেলে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে কোচের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে’
যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ ও কোচ (ক্যারেজ) সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের মাধ্যমে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রেলওয়েকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে রেলওয়ের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো লোকোমোটিভ ও ক্যারেজের ঘাটতি। এ কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন রেললাইন নির্মাণ হলেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।  এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নতুন লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।  প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারত থেকে প্রায় ২০০টি ব্রডগেজ কোচ ও লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো হাতে এলে ব্রডগেজ লাইনে বিদ্যমান সংকট অনেকটাই দূর হবে। তবে মিটারগেজ অঞ্চলে এখনও বড় ধরনের চাপ রয়েছে। মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে যাত্রীসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হবে না। এ সংকট নিরসনে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি। হাবিবুর রশিদ বলেন, ভবিষ্যতে নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় করেই লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ করা হবে, যাতে রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়। রেলওয়ের নতুন প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নতুন রেললাইন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কাজও চলমান রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে আশপাশের জেলার রেল যোগাযোগ জোরদারে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় কমিউটার ট্রেন সার্ভিস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষ সকালে ঢাকায় এসে কাজ শেষে আবার বিকেলে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্বে আমদানিকৃত ডেমু ট্রেনগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়েও সরকার নতুনভাবে চিন্তা করছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরামতের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এগুলো সচল করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আরও পড়ুন ৫০ শয্যার সব হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেলওয়ের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্টেশনকে বাণিজ্যিকভাবে আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশনগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক যাত্রীসেবা, উন্নত অপেক্ষাকক্ষ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচে যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা চালুর বিষয়েও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রথমে রেলের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা হবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, সারাদেশের রেল লেভেল ক্রসিং আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের জন্যও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেলপথের গেজ ব্যবস্থার বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে ধীরে ধীরে পুরো রেল নেটওয়ার্ককে ব্রডগেজে রূপান্তর করা। যেখানে প্রয়োজন সেখানে ডুয়েল গেজ রাখা হবে। এতে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং রেল পরিচালনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। আন্তঃনগর ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাতায়াতের (স্ট্যান্ডিং টিকিট) বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে না। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক সময় স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হয়। তিনি বলেন, একজন যাত্রী এসি চেয়ারে বসে যাবেন, আর তার মাথার ওপর আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা এত বেশি যে অনেক সময় এ ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে যাত্রীসেবা আরও বিস্তৃত হবে, অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং স্ট্যান্ডিং টিকিটের প্রয়োজনও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে রেলসেবা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণ নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ, উন্নত স্টেশন, নিরাপদ অবকাঠামো এবং মানসম্মত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত করা। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
‘রেলে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে কোচের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে’
উন্নয়নে \'চীনা মডেল\' দারুণ অনুপ্রেরণা হতে পারে: ছাত্রদল নেত্রী নওরীন
চীন সরকারের আমন্ত্রণে সম্প্রতি বিএনপির ২০ তরুণের একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফরে যায়। এই দলে ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। সফর শেষে দেশে ফিরে আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হন তিনি; শেয়ার করেন এই বিশেষ সফরের অভিজ্ঞতার কথা।  ১. চীনের উন্নয়নের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে? উর্মি: চীনের নগর পরিকল্পনা, বিশেষ করে Planning Exhibition Hall-এ প্রদর্শিত দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। সেখানে শুধু ভবিষ্যতের শহরের নকশা নয়, বরং পরিবেশ, পরিবহন, আবাসন ও শিল্পায়নের একটি সমন্বিত রূপ দেখানো হয়। এটি চীনের উন্নয়নের পেছনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিকল্পনার প্রতি তাদের আস্থা ও দূরদৃষ্টিকে প্রকাশ করে। ২. বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চীনের কোন অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে? উর্মি: Waste-to-Energy বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন মডেল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। Chongqing Sanfeng Environment Group-এর প্ল্যান্ট দেখে স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য কেবল পরিবেশের জন্য বোঝা নয়, বরং বিদ্যুৎ ও সম্পদের উৎস হতে পারে। এই অভিজ্ঞতা জানিয়েছে, প্রথাগত ল্যান্ডফিলের পরিবর্তে উন্নত ইনসিনারেটর ও ফ্লু-গ্যাস ক্লিনিং সিস্টেম ব্যবহার করলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরের বর্জ্য সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা পরিবেশ দূষণ কমাবে এবং ল্যান্ডফিলের প্রয়োজনীয়তা ৯০% পর্যন্ত কমাতে পারে। ৩. বাংলাদেশ AI বিপ্লবে পিছিয়ে পড়া এড়াতে কী করতে পারে? উর্মি: প্রথমত, সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় AI কৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে, যেমন চংকিং রোবট এআই অ্যাপ্লিকেশন ডেমনস্ট্রেশন সেন্টার বা সাংহাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIAIR)-এর মতো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা। এই সফর আমাদের দেখিয়েছে যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্পে AI-এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তি বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আরও পড়ুন বিএনপির তরুণ প্রতিনিধিদলে চীন যাচ্ছেন ববির নওরীন ৪. বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে চীনের কোন অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করা সম্ভব? উর্মি: Minzhu গ্রামের নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ ও টেকসই উন্নয়ন মডেল বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা। সেখানে ৪৬% নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্টার্টআপে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, যা গ্রামের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নারীদের জন্য জৈব সার উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে। গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি কিভাবে নারীদের সঠিক সুযোগ ও প্রশিক্ষণ দিলে তারা সমগ্র গ্রামকে টেকসই উন্নয়নের পথে পরিচালিত করতে পারে। ৫. আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ কোন চীনা মডেল অনুসরণ করলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে? উর্মি: আমার মতে, শিল্পের সঙ্গে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার সমন্বিত মডেলটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ। যেমন Urban Planning Exhibition Hall, Financial Center-এ তরুণদের ইন্টার্ন উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ত করা এবং Humanoid Robot Incubator-এর মতো উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিল্পের এই সংযোগ বাংলাদেশকে উচ্চ প্রযুক্তির অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করবে। ৬. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গণপরিবহনে চীনের কোন মডেল বাংলাদেশ অনুসরণ করতে পারে? উর্মি: AI, বিগ ডাটা এবং স্মার্ট গভর্নেন্স ভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মডেলটি বাংলাদেশের জন্য খুবই কার্যকরী হতে পারে। সাংহাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIAIR)-এ দেখেছি কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডাটা এনালাইটিক্স ব্যবহার করে ট্রাফিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করা যায়। বাংলাদেশও এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার শহরগুলোকে স্মার্ট ও টেকসই করতে পারে। ৭. তরুণদের জন্য চীনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী? উর্মি: তরুণদের জন্য চীনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যে বিনিয়োগ, পরিশ্রম ও নৈতিক নাগরিক হওয়ার গুরুত্ব। সাংহাই চিন উ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পেরেছি যে, ‘শারীরিক, বৌদ্ধিক ও নৈতিক’ (体、智、德) শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া একটি জাতিকে কীভাবে শক্তিশালী করে তোলে। ‘শরীর শক্তিশালী করো, জাতি ও জনগণকে শক্তিশালী করো’ এই প্রতিপাদ্য আমাদের তরুণদের কেবল পড়াশোনা নয়, শারীরিক ও নৈতিক গঠনেও মনোযোগ দেওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। এই কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ৮. বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আপনি কীভাবে দেখছেন। সম্পর্ক জোরদারে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে? উর্মি: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। বর্তমানে সম্পর্কটি ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। সম্পর্ক জোরদারে নিম্নলিখিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। উচ্চ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো: চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, সৌর ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাণিজ্য ভারসাম্য ও বৈচিত্র্য আনা: চীনের বাজারে আরও বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যায়। তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার: ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য এই সফরের মতো তরুণ প্রতিনিধি বিনিময় কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। ৯. চীনের উন্নয়নের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি কী- দূরদর্শী নেতৃত্ব, পরিকল্পনা, প্রযুক্তি নাকি মানবসম্পদ? বিশ্ববিদ্যালগুলোর ভূমিকা কতটা জোরালো? উর্মি: আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ই চীনের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি, তবে দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এই নেতৃত্বই প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ তৈরি করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো। তারা শুধু শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও গবেষণায় দক্ষ করে তোলে না, বরং শিল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে, যেমনটি রোবটিক্স ও AI কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে। ১০. এই সফর শেষে বাংলাদেশে কোন পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দেখতে চান? নীতিনির্ধারকদের জন্য চীনের তিনটি বিষয় গ্রহণের পরামর্শ যদি দিতে বলা হয়... উর্মি: এই সফর শেষে আমি তরুণ সমাজের মধ্যে একটি ‘উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের’ মানসিকতার পরিবর্তন দেখতে চাই, যেখানে তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা ও সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। নীতিনির্ধারকদের জন্য চীনের তিনটি বিষয় গ্রহণের পরামর্শ: ১. বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সম্পদ উৎপাদন মডেল (Waste-to-Energy): বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য Chongqing Sanfeng-এর মতো কারখানা স্থাপন করা। এটি ল্যান্ডফিলের চাপ কমাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করবে। ২. শিল্প-শিক্ষা-গবেষণার সমন্বয় (Industry-Academia-Research Collaboration): তরুণদের AI, রোবোটিক্স ও উচ্চপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে এবং চাকরির বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে ইন্টার্নশিপ ও উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলা । ৩. গ্রামীণ নারীকেন্দ্রিক টেকসই উদ্যোগ (Rural Women-led Sustainable Initiatives): Minzhu গ্রামের আদলে গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয়েরই উন্নতি ঘটাবে। আরটিভি/আইএম
উন্নয়নে \'চীনা মডেল\' দারুণ অনুপ্রেরণা হতে পারে: ছাত্রদল নেত্রী নওরীন
আরও পড়ুন
এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুর কারাগারে
মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার আত্মগোপনে থাকা সাবেক এমপি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন ডিসি বদলি
গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি