
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে প্রযুক্তিখাতের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয়ের ওপর কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সাতটি বিষয়ের পাশাপাশি আলাদা আলাদা স্লোগানও থাকবে।
বিএনপির ৭ অঙ্গীকার—
১. আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নাগরিক সেবা
আগামী নির্বাচনে জনগন বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে কৃষকদের সহায়তায় “কৃষক কার্ড”, পরিবারে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে “ফ্যামিলি কার্ড”, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এআই-ভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, শিক্ষার মান বাড়াতে এআই-ভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম, তাৎক্ষণিক জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্য সেবা, অটোমেশনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পুলিশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এআই পরিচালিত ইমিগ্রেশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় ভূমি ও কর ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। ধানের শীষের অঙ্গীকার— দেশ হবে প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সেবার।
২. সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া
দেশের সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করতে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করে “Made/Assembled/Serviced in Bangladesh” উদ্যোগ চালু করতে চায়, যাতে এসব পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথম সারিতে প্রতিযোগিতা করতে পারে। ধানের শীষের অঙ্গীকার— দেশের প্রযুক্তি গড়বে আন্তর্জাতিক বাজার।
৩. দশ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান
আইসিটি খাতকে দ্রুত সক্রিয় করতে সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও, এআই-ডেটা, সেমিকন্ডাক্টর, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ সহ পাঁচটি খাতে সরাসরি দুই লক্ষ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরও আট লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় বিএনপি, এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। ধানের শীষের অঙ্গীকার— থাকবেনা কোন দক্ষ বেকার।
৪. পেপালসহ প্রযুক্তিভিত্তিক “ক্যাশ-লাইট” অর্থনীতি
বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিবিদদের সুবিধার জন্য PayPal সহ একটি জাতীয় E-Wallet চালু করবে, যাতে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল, ফি, কর—সবই সহজে ডিজিটালভাবে পরিশোধ করা যায়। ধানের শীষের অঙ্গীকার— লেনদেন হবে ডিজিটাল।
৫. সবার জন্য ইন্টারনেট
বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে স্কুল-কলেজ, অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টসহ নির্দিষ্ট জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেবে। এতে দেশের সবাই সহজে তথ্য নিতে ও আধুনিক সেবা ব্যবহার করতে পারবে। ধানের শীষের অঙ্গীকার— ইন্টারনেট হবে সবার।
৬. আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা
নাগরিকদের তথ্য ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষায় জনগণ ও দেশি-বিদেশি স্টেক হোল্ডারদের সাথে নিয়ে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও আইন করতে চায় বিএনপি। ধানের শীষের অঙ্গীকার— নিরাপদ হবে সাইবার স্পেস, রক্ষা হবে নাগরিক অধিকার।
৭. দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস
শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোতে ৬ কোটি ৩০ লক্ষবার সাইবার হামলা হয়েছে। এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে—ওই একই বছর বাংলাদেশের ৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই দেশ ও নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ডেটা দ্রুত ও নিরাপদে সংরক্ষণ ও বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশে একাধিক আধুনিক টিআর-৪ ও টিআর-৩ ডেটা সেন্টার দরকার। তাই, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে “ক্লাউড-ফার্স্ট” কৌশলে দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে। ধানের শীষের অঙ্গীকার- দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার।
আরটিভি/এসএইচএম




