ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

সেনা সদস্যদের সাথে তর্কে জড়ালেন ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত প্রার্থী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে পার হতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন জামায়াত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তিনি।

আরটিভির হাতে আসা এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের নিয়ম নেই এমনটি বলা হলে সেনাসদস্যের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন খালিদুজ্জামান। এক পর্যায়ে তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ভিডিওতে দেখা যায়, খালিদুজ্জামান যখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন তখন তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ‘ভাই উনি হলেন এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট। ঠিক আছে?’

কোন দলের স্যার? এমন প্রশ্ন রাখেন ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশপথে থাকা সেনাসদস্য। তখনে জবাবে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামীর।’

সেনা কর্মকর্তা বলেন, বুঝতে পেরেছি স্যার। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে গান নিয়ে...।

তখন খালিদুজ্জামান বলেন, আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারবো না...।

তখন সেনা সদস্য বলেন, স্যার এটা তো আমাকে বললে হবে না...।

প্রার্থী বলেন, আপনার পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন। দিজ ইজ টোটালি, কিছু অফিসারের জন্য সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করছেন। প্রয়োজনে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবো। এখানে যে দায়িত্বে আছেন আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কেন আমার গাড়ি আটকে রাখবেন?

তিনি আরো বলেন, না না আপনারা তো আটকে রাখছেন। দিস ইজ নট ফেয়ার। টোটালি সেনাবাহিনী সম্পদ। এই সম্পদকে আপনারা বিতর্কিত করছেন ব্যক্তি স্বার্থে। ব্যক্তি স্বার্থে সরকারকেও আপনারা বিতর্কিত করছেন।

এ সময় ওই সেনাসদস্যকে ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে কল দিতে দেখা যায়। এরপর ওই প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ব্যক্তিস্বার্থে সরকার ও প্রশাসনকে আপনারা বিতর্কিত করতেছেন।

তখন ওই সেনাসদস্য বলেন, আমাকে একটু সময় দেন স্যার। জামায়াত প্রার্থী বলেন, একটা ডিজঅ্যাপোয়েন্টিং সিচুয়েশন করে রেখেছেন সারা দেশে। আপনাদের জন্য তাড়াতাড়ি দেশটা উচ্ছৃঙ্খল হবে। পুরো দেশটা বিশৃঙ্খল করছেন আপনারা।

এসময় সেনা সদস্যকে ফোনে বলতে শোনা যায়, ....একজন জামায়াত পদপ্রার্থী প্রবেশ করে বের হবেন। উনার সঙ্গে গানম্যান আছেন। আমি অ্যালাউ করলাম স্যার।

তখন সেনাসদস্যের উদ্দেশে ওই এমপি পদপ্রার্থী বলেন, তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান) প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম খালিদুজ্জামান বলেন। বলেন, তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী। উনি আমার ক্যান্ডিডেট।

এমপি পদপ্রার্থী ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলতে চান। খালিদুজ্জামান সেখানে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যকে বলেন, আমার সঙ্গে (ঊর্ধ্বতনের) কথা বলিয়ে দেন। এসময় এমপি পদপ্রার্থীর কাছে মোবাইলটি দেয়া হয়।

খালিদুজ্জামান ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তাকে বলেন, আমি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু আপনারা তো তারেক জিয়ার জন্য জিহ্বা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। আমাকে কেন দেবেন না? হোয়াই নট। শোনেন। আপনার নাম কী বললেন? পরিকল্পিতভাবে, দেশটার মধ্যে কেওয়াজ সৃষ্টি করছেন আপনারা। কেন আপনারা দেশটাকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। কিছু অফিসার নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ডিস্টার্ব করে, দেশটাকে ধংস করছেন। আমি সেনাপ্রধানের কাছে এটা কমপ্লেইন করতে চাই। আপনাদের অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে নিরাপত্তার জন্য দিয়েছে গানম্যান। আবার আপনি আমাকে যেতে দেবেন না কেন?

কথা শেষে খালিদুজ্জামানকে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তোমরা ভিডিও করো যে, আমাদের গাড়ি যেতে দিচ্ছে না। এ সময় একজন সেনাসদস্য বলেন, সরি স্যার এখানে ভিডিও করা যাবে না।

ফের খালিদুজ্জামান বলেন, আপনারা কেন দেশটাকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক মানুষ রক্ত দিয়েছে। আর রক্ত নিয়েন না আল্লাহর ওয়াস্তে। সেনাপ্রধান দেশটাকে অত্যন্ত ঐতিহাসিকভাবে যেভাবে রক্ষা করেছেন ...

উত্তরে এক সেনাসদস্য বলেন, আমি তো আপনাকে যেতে নিষেধ করি নাই । আপনাকে বলেছি আপনি জাস্ট যান স্যার। কিন্তু আমাদের ক্যান্টনমেন্টে গান নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে ঢোকা নিষেধ। উত্তরে খালিদুজ্জামান বলেন, ‘তাহলে আমাদের গানম্যান কেন দিচ্ছেন?

সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্টের জন্য না স্যার। ক্যান্টনমেন্টের জন্য আমরাই নিরাপত্তা দিচ্ছি। আরেক সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্টে আপনি সেইফ (নিরাপদ)।খালিদুজ্জামান বলেন, আমরা তো পার হয়ে যাব বলছি।

সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যদি কোনো প্রবলেম হয়ে থাকে, দায় দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট নেবে। খালিদুজ্জামান বলেন, ‘পার হয়ে যাওয়ার পর কে দেখবে।

সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্ট পার হয়ে যাওয়ার পর আপনার গানম্যান থাকবে স্যার। খালিদুজ্জামান বলেন, গানম্যান থাকবে না আপনার দল পিটাবে, আপনারা অন্য দল দিয়ে পিটাইয়া ... আমাদের দেখবে কে।

সেনাসদস্য বলেন, আমাদের ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে আপনি সেইফ। খালিদুজ্জামান বলেন, তারেক জিয়ার সঙ্গে হাজার হাজার অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছেন ...

সেনাসদস্য বলেন, এর জবাব এখন দিতে পারছি না।’ খালিদুজ্জামান বলেন, ‘কেন পারবেন না।

সেনাসদস্য বলেন, আপনার যদি কোনো কমপ্লেইন থাকে! আপনি তো বললেন, কথা বলবেন। স্যারকে বলেন।

জামায়াত প্রার্থীর উদ্দেশে সেনাসদস্য আরও বলেন, আপনিই তো বললেন যে, সেনাপ্রধান স্যারের সঙ্গে কথা বলবেন। ইলেকশান কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন।

আরও পড়ুন

অথরিটি আপনাকে কি বলছে? ওই সেনাসদস্যের কাছে পাশ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়। তখন সেনাসদস্য বলেন, যেতে গেলে আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে স্যার।

তখন জামায়াত প্রার্থী বলেন, না না সহযোগিতা না। আপনারা পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংস করছেন। রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।

জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশটাতে কেওয়াজ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। একটা এজেন্ট হিসেবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে বিরোধী দল: ইশরাক
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে বিরোধী দল: ইশরাক
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: রিজভী
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালিপূর্ব গণজমায়েতে তিনি এ মন্তব্য বলেন। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি আসছে প্রতিবেশী দেশ থেকে। তারা এ দেশকে শান্তিতে রাখতে চায় না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া গুন্ডারা গার্মেন্টসশিল্প ধ্বংস করতে চায়। শ্রমিকদের নামে আন্দোলন করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। রিজভী বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন। ক্ষমতায় আসার এক দিন পরই তিনি কার্ডের ব্যবস্থা করেছেন। ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবস মানুষকে গলা ছেড়ে কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এলেই ছাত্রসমাজ ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে সেখান থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আরটিভি/টিআর
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: রিজভী
আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ
এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) ১৩তম সাধারণ অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে।  বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সম্মেলনে অধিবেশনের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টি ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির যৌথ আয়োজনে দ্য শিলা সিউল হোটেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য রাখেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও আস্থার সংকট মোকাবিলায় গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি সামাজিক চুক্তি। এর ভিত্তি হতে হবে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে শুধু ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে নয় বরং জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংঘাত নয়, সংলাপের মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাসী। ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বিএনপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করে বলেন, ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবজীবনের মর্যাদাকে স্থান দিতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি ও আদর্শ কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বিভিন্ন মহাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অস্থিরতা থেকে এশিয়া যেমন বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব থেকেও ইউরোপ মুক্ত থাকতে পারে না। বিএনপি এ ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের এমনভাবে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা উচিত নয়, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়। আন্তঃসীমান্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে আইসিএপিপির একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এআই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করলেও লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় এর ব্যবহারও উদ্বেগজনক। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আইসিএপিপির উদ্যোগে একটি অভিন্ন কৌশলগত নীতিপত্র প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতীয় জিডিপির একটি উপযুক্ত অংশ বরাদ্দ এবং জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা। তরুণ প্রজন্মের ওপর ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপতথ্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বিষণ্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকটও নীরব চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আইসিএপিপি-কে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কেবল জবরদস্তি কিংবা সম্পদের ওপর নির্ভর করবে না; আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে কতটা সক্ষম, তার ওপরও নির্ভর করবে। তিনি বাংলাদেশ ও বিএনপির পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আস্থা পুনর্গঠনকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতি স্থায়ী অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আরটিভি/টিআর
আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ
এখন নাহিদ ইসলামের ডাকে ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার মতে, সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীকে দলে ধরে রাখার যোগ্যতা হারিয়েছেন নাহিদ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— নাহিদ ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যেতে বললেন, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীরা কাজে ফিরে গেলেন! নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও আর জড়ো হবে না। আশা করি তিনি এর প্রমাণ পেয়ে গেছেন।  গণঅভ্যুত্থানের মহানায়কের কেন এই মহা অধঃপতন? কেন এনসিপি একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হলো? এর দায় কি নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন?  নাহিদ ইসলামরা মনে করেছিলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে তারাই সব করেছিলেন! তারাই যে সব করেননি, সেটা তিনি যতো বেশি অহংকারী হবেন, ততো বেশি টের পাবেন। নাহিদ ইসলামের সাথে কারা থাকছে, আর কারা তাকে বর্জন করছে, তিনি কি উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন?  যেখানে সামান্তা শারমিনের মত নেত্রীদের ধরে রাখার যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন, সেখানে জনগণ কেন তার ডাকে মাঠে নামবে? আরটিভি/এসআর  
এখন নাহিদ ইসলামের ডাকে ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন
হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা সেখান থেকে উসকানি দিয়ে তার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন ও মানুষ হত্যা করছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালিপূর্ব গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন। পোশাক খাতের বর্তমান অস্থিরতার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে রিজভী বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার কথা বলেছে এবং ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে। মূল শ্রমিকরা এখন আর আন্দোলনে নেই। যারা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিচ্ছেন এবং আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে মারছেন, তারা শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া গুণ্ডা-সন্ত্রাসী।  ‘সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাও রয়েছেন, যিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, এই মদদ ও উসকানি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসছে।’ বিগত সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি আর বলেছেন, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা লুট ও পাচার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের এক সাবেক মন্ত্রী ও এমপির ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি ইংল্যান্ড সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে। এই লুটের রাজত্ব ফিরে পেতেই শেখ হাসিনা আবারও সন্ত্রাস ও উসকানির চেষ্টা করছেন। তবে দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেছেন, এই দিনটি দেশের মানুষের কথা বলার, রাজনীতি করার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করে গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হত্যা করেছিল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকসহ আওয়ামী লীগের নেতারাই ক্ষমতায় এসেছিলেন। এরপর খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পর জনজীবনে যে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার মিলিত স্রোত গণতন্ত্রের মুক্ত বাতাস ফিরিয়ে আনে এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়েই ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেশের সব মানুষ মেনে নিয়েছিল। কারণ তিনি একজন গুণী মানুষ, যাকে শেখ হাসিনা বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে অপমানিত করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরুসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। আরটিভি/এসআর  
হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন: রিজভী
আরও পড়ুন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জামায়াত আমিরের
নতুন আমির পেল জামায়াতের ২৭ জেলা ও মহানগর শাখা
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলে