ঘটনাটি মগবাজারের একটি অফিসের, সিসি ফুটেজের নেপথ্যে ‘ব্ল্যাকমেইল’

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৫:০৬ পিএম


ঘটনাটি মগবাজারের একটি অফিসের, সিসি ফুটেজের নেপথ্যে ‘ব্ল্যাকমেইল’
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদসস্যের সঙ্গে এক নারীর বিশেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর নেতা  ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে নারীটিকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একটি বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। বিবৃতি অনুসারে জানা যায়, ঘটনাটি মগবাজারের একটি অফিসের, সিসি ফুটেজের নেপথ্যে চাঁদা দাবি ও ‘ব্ল্যাকমেইল’।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার গাড়িচালক তার কাছ থেকে চাদা দাবি করে এবং ক্যামেরায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থানের ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে প্রচার করে চরিত্র হনন করার অপচেষ্টা চালায়। যদিও নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যায়, তার স্ত্রী একজন।

বিবৃতিতে জামায়াত এমপি বলেন, গত ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৩ আমার প্রথমা ও দ্বিতীয়া স্ত্রী যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম এবং মোছা. মারিয়াম বেগম এবং অত্র মরিয়াম বেগমের মামা মো. ওবায়দুল্লাহ গাড়ীচালককে সাথে নিয়ে মগবাজারস্থ মো. মাছুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে পরিদর্শনের জন্য যাই এবং সেখানে আনুমানিক মোট সোয়া ১ ঘণ্টা অবস্থান করি। যোহরের নামাজের পড়ার পূর্বে গাড়ী-চালক গাড়ি দেখার জন্য বাইরে যায় বেশ কিছু সময় অবস্থান করে। দ্রুত রুমে চলে এসে আমাদের সতর্ক থাকতে বলে এবং পুনরায় চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার চলে এসে দরজা খুলতে বললে দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম দরজা খুলে দেয়। সাথে সাথে ৫/৭ জন অপরিচিত লোক রুমে ঢুকে পড়ে আমাদের কৈফিয়ত তলব করে যে কেন আমরা এখানে আছি। কিছুক্ষণ পর তারা আমাদের ব্যাগ পকেট চেক করে নিচে একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে যায় এবং এক লাখ টাকা দাবী করে। আমরা তাদের দাবির প্রেক্ষিতে উক্ত টাকা প্রদান করি এবং তারা আমাদের নিরাপদে ও স্ব-সম্মানে সেখান থেকে প্রস্থান করতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতক্ষণে আমাদের গাড়ি চালক ওবায়দুল্লাহকে বহুক্ষণ ধরে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। আমরা বাসায় চলে আসি। রাত আনুমানিক দশটার দিকে গাড়ী-চালক ওবায়দুল্লাহ্ আমার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর কাছে দশ লক্ষ টাকা দাবি করে অন্যথায় মগবাজারের চাঁদাবাজরা গাড়ি দেবে না বলে জানায়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো- গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের নায়ক বলে এতক্ষণে প্রতীয়মান হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহর দুলাভাই আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক টানাপোড়ন চলতে থাকে। অতীত একদা সম্পর্ক ভীষণ খারাপ হলেও বর্তমানে কিছুটা বাহ্যিকভাবে উন্নতি দেখা দিলেও দ্বন্দের অবসান ঘটেনি। গাড়ী-চালক ওবায়দুল্লাহ ষড়যন্ত্র করে আমাকে, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার গাড়ি জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। জনাব মাছুম বিল্লাহ কৌশলে পরদিন রাত প্রায় ১২টার নাগাদ তার একজন ভাই  থানার এস আই আমিনুরকে সাথে নিয়ে এয়ারপোর্ট রোড থেকে গাড়ীটা চালকসহ উদ্ধার করে বাসায় এসে গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহকে বেশ মারধর করলে ওবায়দুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে চলে যায়। সেসময় তিনি বলেন, ‘তোমার মেয়ের জীবন আমার হাতের মুঠোয় এবং এবং এমপিকে দেখে  নেব’।

সেহেতু গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ হিংসা ও স্বার্থের বশীভূত হয়ে তার পূর্ব থেকে অফিস রুমে ধারন করা সিসি ক্যামেরায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থান ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে প্রচার করে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালায়। যা সম্পূর্ণ বেআইনী, হিংসাত্মক, চক্রান্তমূলক এবং আমার বা আমাদের— চরিত্র হননের সামিল।

বিবৃতিতে তিনি গাড়ীচালক ওবায়দুল্লাহ এমন কাজকে চক্রান্ত দাবি করে বিষয়টির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি চরিত্র হননের জন্য তার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission