ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকার দক্ষিণে বিক্ষোভ করে জামায়াতে ইসলামী; এতে নেতৃত্ব দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। । ছবি: সংগৃহীত

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের আয়োজন হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে, দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হয়ে জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতায় সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখনও আবার তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে। জনগণ বলে, টুকু যায় আর আসে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন কিন্তু গদি রক্ষা করা যাবে না।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নিতে আবেদন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নিতে আবেদন
যে আইনে বাতিল হতে পারে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি প্রশ্ন। দল থেকে বহিষ্কারের পর জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিলেই তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি বাতিল হবে কি না, নাকি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান কিংবা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ অনুসরণ করতে হবে। সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার বিভিন্ন শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে কিংবা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো দল তার সদস্যকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এমন বিধান নেই। গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি প্রথমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে উত্থাপন করতে হবে। ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, বিরোধের বিষয়ে স্পিকার ৩০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত বিবরণী প্রস্তুত করবেন। এতে বিরোধের বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এবং বিরোধের পক্ষগুলোর বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এরপর স্পিকার ওই বিবরণী নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক দল থেকে ইসিতে চিঠি পাঠালেই কমিশন সরাসরি সংসদ সদস্য পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না; স্পিকারের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হবে। স্পিকারের পাঠানো বিবরণী পাওয়ার পর আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কার্যক্রম শুরু করবে। কমিশন ১৪ দিনের মধ্যে বিবরণীর অনুলিপি বিরোধের উভয় পক্ষকে পাঠাবে এবং তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের সুযোগ দেবে। এরপর কমিশন শুনানির জন্য নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ সরাসরি অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল ও সাক্ষী জেরার সুযোগও থাকবে। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের মতো বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রয়োজনে কাউকে সমন জারি করে হাজির করা, শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি তলব করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, স্পিকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে বিরোধের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে। শুনানি শেষে কমিশন যদি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য ঘোষণার পর পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। ২০০০ সালে তৎকালীন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। পরে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিষয়টি স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেন। স্পিকারের রেফারেন্সের পর নির্বাচন কমিশন শুনানি করে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে। একইভাবে, ২০১৫ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলে বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে যায়। ইসিতে শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই লতিফ সিদ্দিকী নিজে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতের পদক্ষেপের পর নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্পিকারের মাধ্যমে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক চিঠি ইসিতে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে জামায়াতের বহিষ্কারাদেশের পরই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এবং এরপর নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। আরটিভি/এসকে
যে আইনে বাতিল হতে পারে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ
আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার
২য় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: গাজী নজরুলের বিষয়ে যা জানাল জামায়াত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
২য় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: গাজী নজরুলের বিষয়ে যা জানাল জামায়াত
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী
সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর এমপি এবং প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী
আরও পড়ুন
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসে এলো ইয়াবার পার্সেল
হঠাৎ রাতে সরকারি কোয়ার্টার থেকে ভেসে আসে তরুণীর চিৎকার, অতঃপর...
অব্যবহৃত ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ সরকারের
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩ ককটেল বিস্ফোরণ