ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গুমের শিকার গণঅধিকার পরিষদ নেতা দিলেন নির্যাতনের ভয়ংকর বর্ণনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
শাকিল উজ্জামান। সৌজন্য ছবি

গুমের মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর জীবিত অবস্থায় ফিরে আসা একজন মানুষই কেবল অনুভব করতে পারেন সেই সময়টিতে কতটা নির্মম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

নিখোঁজ বা গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসে নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তুলে ধরেছেন তেমনই ভুক্তভোগী শাকিল উজ্জামান। তিনি গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদের সদস্য।

গুমের শিকার হওয়ার পাঁচ বছর পার হলেও সেই সময় তাকে ঠিক কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল, তা আজও তার অজানা।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে পৌঁছালে তিন ব্যক্তি তার কাছে এসে পরিচয় জানতে না দিয়ে মোবাইল দেখতে চান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় র‍্যাব (RAB) লেখা পোশাক পরিহিত কয়েক গাড়ি সদস্য এসে তাকে ঘিরে ফেলে এবং একটি কালো গাড়িতে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

গাড়িতে তোলার পরপরই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। দুই পাশ ও পিছনের সিটে থাকা সদস্যরা তার নাক, মুখ, মাথা ও পিঠে বেপরোয়াভাবে আঘাত করতে থাকেন। বুটের আঘাতে তার পায়ের আঙুল থেঁতলে রক্ত বের হতে শুরু করে। চলন্ত গাড়িতে নির্যাতন চালাতে চালাতেই তাকে একটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওষুধ খাওয়ানোর পর হাতে হাতকড়া, চোখে গামছা এবং মাথায় একটি কালো ফাঁসির যমটুপি পরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ত্রের শব্দ এবং চারপাশের পরিস্থিতি তাকে জানান দিচ্ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিবেশের কথা।

পরবর্তীতে সেখান থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ভবনের রুমে, যেখানে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হুমকি দেন। ওই কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দেন, তাকে তুলে আনার খবর কেউ জানে না এবং তাকে মেরে ফেললেও দু-একদিন মিছিল-মিটিং ছাড়া আর কিছুই হবে না। ফলে যেকোনো সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ‘ক্রসফায়ার’-এর শিকার হওয়ার গভীর শঙ্কায় দিন কাটে তার।

পরবর্তী সময়ে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় একটি বদ্ধ রুমে, যা ‘টর্চার সেল’ বা ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত। রাতে খাবার দেওয়া হলেও ঘুমানোর চরম কষ্টকর ব্যবস্থা ছিল—হাতকড়ার এক অংশ দেয়ালের গ্রিলের সঙ্গে উঁচুতে বেঁধে রাখা হতো, যার ফলে স্থির এক অবস্থাতেই যন্ত্রণাদায়কভাবে রাত কাটাতে হতো। ২৭ মার্চ দিনভর একইভাবে চোখ বাঁধা ও যমটুপি পরানো অবস্থায় গাড়িতে ঘুরিয়ে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, রাতে ঘুমাতে না দিয়ে নেওয়া হয় হাতের সিলছাপ।

নির্যাতনে শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় এবং পা ও নাক দিয়ে অনবরত রক্ত পড়ায় অবশেষে ২৮ মার্চ ভোররাতে তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে পাঠানো হয় মতিঝিল থানায়। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর পুনরায় আদালতে তোলা হলে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর অবশেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

জীবিত ফিরে এসে তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তার সন্ধানের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত সহযোদ্ধা, সঠিক তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিক এবং আইনী লড়াই চালানো আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি মন্তব্য করেন, এই প্রতিবাদ ও সত্য প্রকাশের কারণেই হয়তো তাকে অতীতে গুম হওয়া অনেকের মতো প্রাণ দিতে হয়নি।

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও বিচারিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে দেশকে অপরাধের সাম্রাজ্যে পরিণত করা হয়েছে এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনাকে আঘাত করা হয়েছে।

অবশ্য এ ভয়াবহ অভিজ্ঞতাও তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। মানুষের অধিকার আদায় ও বিদেশী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে দৃঢ় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে দুটি ঈদ তাকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে, প্রয়োজনে আরও কাটাতেও প্রস্তুত।

আরও পড়ুন

ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্যাতনের মুখে যারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তারাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়। আগামী দিনে গণমানুষের অধিকার আদায়ে নতুন প্রজন্ম অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেই তার বিশ্বাস।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আ. লীগ দিল্লিতে বসে ও জামায়াত বাংলাদেশে বসে চক্রান্ত করছে: রাশেদ খান
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দিল্লিতে বসে আর বাংলাদেশে বসে দেশবিরোধী জামায়াতে ইসলামী চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।  তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মিলে ১৯৯৬ সালে এবং ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল। সেই চক্রান্ত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের জনগণ মোকাবিলা করেছিল। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী অতীতেও দেশের বিরুদ্ধে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে। বিএনপি তা মোকাবিলা করেছে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সুদৃঢ় সমর্থন ও সহযোগিতায় বর্তমান বিএনপি সরকার অতীতের মতো সব ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বৈরী চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এর আগে দুপুরে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় অবস্থিত আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুরী দরবার শরিফে মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। আরটিভি/টিআর
আ. লীগ দিল্লিতে বসে ও জামায়াত বাংলাদেশে বসে চক্রান্ত করছে: রাশেদ খান
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জননিরাপত্তা, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল: আবু হানিফ
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় গুপ্ত শিবির জড়িত ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। 
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল: আবু হানিফ
কলকাতা থেকে দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ
ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
কলকাতা থেকে দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।  রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। জামায়াত আমির বলেন, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় দেশের শিক্ষা, গার্মেন্টস সেক্টর ও মক্কা প্যাক্টসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, তুরস্ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগদানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা। কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত। এর আগে, গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির। তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ। গত ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আরটিভি/এসআর
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির
আরও পড়ুন
সাঁকোর জায়গায় ১৫০ ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণ করলেন ছাত্রদল নেতা
মোটরসাইকেল আটকে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরা হলো না ছাত্রদল নেতার, পথেই নিভল প্রাণ
কলকাতা থেকে দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ