ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পুরোনো ছবি

একটি চিঠি কখনও শুধু কাগজে লেখা কয়েকটি শব্দ নয়; সময় পেরিয়ে গেলে সেটি হয়ে উঠতে পারে শৈশবের স্মৃতি, অনুপ্রেরণার গল্প কিংবা এক টুকরো স্বীকৃতির দলিল। দুই দশকেরও বেশি আগে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া এক শিশুর হাতে পৌঁছেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা এমনই একটি চিঠি।

গত ২০০৪ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সেই চিঠিতে লেখা ছিল—‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’ সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল দুটি বই।

সময়ের স্রোতে সেই শিশু আজ বড় হয়েছে, বদলে গেছে জীবনের অনেক কিছুই কিন্তু শৈশবে পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সেই চিঠিটি আজও সযত্নে আগলে রেখেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্।

চিঠির শেষে স্বাক্ষরের আগে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন যে বাক্যে তা ছিল—‘তোমাদের আপনজন।’ সেই চিঠিটি ২২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ লিখেছেন— ‘সেই থেকে বেগম জিয়া হয়ে উঠলেন একান্ত কাছের একজন।’

প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের উৎসাহিত করা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার সেই সময়ের উদ্যোগগুলোর একটি ব্যক্তিগত স্মারক হয়ে আছে ছাইফুল্লাহর কাছে থাকা বেগম জিয়ার সেই চিঠি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে একটি শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়া ওই বার্তায় শুধু একটি বৃত্তির সাফল্যকে অভিনন্দন জানানো হয়নি; বরং তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

চিঠিটি শুরু করা হয় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে। তারপর লেখা হয়—

‘প্রিয় মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্,

আমার স্নেহ ও শুভেচ্ছা নিও। আমি জেনে খুশি হয়েছি ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় তুমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছো। তোমার সাফল্যে পরিবারের অন্যান্য প্রিয়জনের মতো আমিও খুশি হয়েছি। তাই আমি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে তোমাকে দুটি বই উপহার হিসেবে পাঠালাম। আশা করি, এ উপহার তোমাকে বই পড়ায় আরো উৎসাহিত এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আমি আশা করি, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে তুমি আরো মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করবে। আমি তোমার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করি।’ তোমাদের আপনজন, তারপর (স্বাক্ষর) দেওয়া হয়।

বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্ চিঠিটি পোস্ট করে আরও লিখেছেন, ‘২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার এই অসাধারণ কাজটি করেছিল। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেত তাদের বইয়ের সঙ্গে এই চিঠিটি পাঠাতো। এটি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি।

কি যে অনুপ্রেরণাদায়ী ছিল উদ্যোগটি। আমার কিশোর মনে সেই যে নাড়া দিয়েছিলেন বেগম জিয়া আর কখনও পর হননি, আপন মানুষ হয়েই থেকে গেলেন; এমনকি তার মৃত্যুর পরও। আশা করি, এই বিএনপি সরকার একই কাজটি পুনরায় করবে।’

প্রসঙ্গক্রমে এই প্রতিবেদক মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ’ থেকে ২০০৩ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় আমি জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করি।

তিনি বলেন, আমাদের ব্যাচে ১০ জন ট্যালেন্টপুল ও ৮ জন সাধারণ গ্রেড মিলে মোট ১৮ জন বৃত্তি পায়। তখন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা মানে বিশেষ কিছু। যারা বৃত্তি লাভ করে তাদের নিয়ে চারিদিকে প্রশংসার বন্যা বয়ে যেত।

পত্রিকার পাতায় বেরুত ছবি সংবলিত খবর। কারণ, নকলমুক্ত পরিবেশে অত্যন্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তখন সেই পরীক্ষা হত।’

প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিঠি পাওয়ার স্মৃতিচারণ করে ছাইফুল্লাহ বলেন, ‘জুনিয়র বৃত্তির রেজাল্ট হয়েছে কিছুদিন আগে। একদিন ক্লাস চলাকালে হেডস্যার (প্রয়াত নুরুল কবির) ক্লাসে উপস্থিত হন। তার চোখেমুখে আনন্দের রেশ।

গমগমে কণ্ঠে তিনি বললেন-এ বছর যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছ তারা সবাই অফিসে চলে এসো, তোমাদের জন্য একটি বিশেষ সারপ্রাইজড আছে। আমরা হেডস্যারের পিছু পিছু গেলাম।

স্যারের টেবিলে খুব সুন্দর কিছু প্যাকেট সাজিয়ে রাখা ছিল। হেডস্যার আমাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বললেন- ‘প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তোমাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। খুব মূল্যবান উপহার। বই আর চিঠি।’

‘আমরা আনন্দে শিক্ষকদের কদমবুছি করলাম। পরে স্যাররা আমাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্যাকেট তুলে দিলেন। সেই প্যাকেট বাসায় নিয়ে খোলার ধৈর্য আমাদের নেই।

ক্লাসে গিয়ে খুলে দেখি। নিচে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর। কী সুন্দর টানা টানা সেই লেখা! সেদিন আমার কিশোর মনে বেগম জিয়া নামে একজন মানুষ যে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটি আর কখনও নড়চড় হয়নি।’ সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত, সিদ্ধান্ত পরে: রিজভী
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত, সিদ্ধান্ত পরে: রিজভী
জামায়াত ‘ইসলামকে’ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে: রাশেদ খাঁন
ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা ইসলামের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত ‘ইসলামকে’ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে: রাশেদ খাঁন
স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি
প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি
গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা মো. আলামিনের অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের শঙ্কার কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচ রয়েছে, তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ করে দিতে পারে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’- এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট ও গুম-হত্যার অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ দেশের বিরোধী দল ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও সেখানে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চরম সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কি পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয়?’ শেখ হাসিনাসহ ১৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। পূর্বে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা খুনিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম প্রশ্ন জেগেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে। তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে। আরটিভি/এসএস
বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী
আরও পড়ুন
আসিফ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চায় দুদক, বিএফআইইউকে চিঠি
বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ
গবিতে প্রথমবার ‘চিঠি দিবস’ উদযাপিত 
বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে