ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যে আইনে বাতিল হতে পারে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি প্রশ্ন। দল থেকে বহিষ্কারের পর জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিলেই তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি বাতিল হবে কি না, নাকি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান কিংবা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ অনুসরণ করতে হবে।

সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার বিভিন্ন শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে কিংবা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো দল তার সদস্যকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এমন বিধান নেই।

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি প্রথমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে উত্থাপন করতে হবে। ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, বিরোধের বিষয়ে স্পিকার ৩০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত বিবরণী প্রস্তুত করবেন। এতে বিরোধের বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এবং বিরোধের পক্ষগুলোর বিস্তারিত তথ্য থাকবে।

এরপর স্পিকার ওই বিবরণী নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক দল থেকে ইসিতে চিঠি পাঠালেই কমিশন সরাসরি সংসদ সদস্য পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না; স্পিকারের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হবে।

স্পিকারের পাঠানো বিবরণী পাওয়ার পর আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কার্যক্রম শুরু করবে। কমিশন ১৪ দিনের মধ্যে বিবরণীর অনুলিপি বিরোধের উভয় পক্ষকে পাঠাবে এবং তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের সুযোগ দেবে।

এরপর কমিশন শুনানির জন্য নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ সরাসরি অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল ও সাক্ষী জেরার সুযোগও থাকবে।

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের মতো বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রয়োজনে কাউকে সমন জারি করে হাজির করা, শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি তলব করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে।

আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, স্পিকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে বিরোধের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে।

শুনানি শেষে কমিশন যদি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য ঘোষণার পর পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নজির রয়েছে।

২০০০ সালে তৎকালীন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। পরে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিষয়টি স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেন। স্পিকারের রেফারেন্সের পর নির্বাচন কমিশন শুনানি করে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে।

একইভাবে, ২০১৫ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলে বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে যায়। ইসিতে শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই লতিফ সিদ্দিকী নিজে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতের পদক্ষেপের পর নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্পিকারের মাধ্যমে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক চিঠি ইসিতে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফলে জামায়াতের বহিষ্কারাদেশের পরই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এবং এরপর নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপকে জামায়াতের শুভেচ্ছা
স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির পাঠানো শুভেচ্ছাপত্র ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত মি. গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রুর হাতে হস্তান্তর করেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। স্পেনের রাজাকে পাঠানো শুভেচ্ছাপত্রে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা, রাজপরিবার, সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি স্পেনের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। চিঠিতে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, অভিবাসন, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এতে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর যোগ দেন। আরটিভি/ এসকেডি  
স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপকে জামায়াতের শুভেচ্ছা
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।  রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। জামায়াত আমির বলেন, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় দেশের শিক্ষা, গার্মেন্টস সেক্টর ও মক্কা প্যাক্টসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, তুরস্ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগদানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা। কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত। এর আগে, গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির। তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ। গত ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আরটিভি/এসআর
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির
তুরস্ক সফর শেষে দেশের ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় জামায়াত আমিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান সংগঠনের নায়েবে আমির জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির জনাব মো. সেলিম উদ্দিন। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।  তুরস্কে পৌঁছে গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন  তিনি। এসময় স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ। গত ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশবিষয়ক গবেষণা, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক কোনো সাম্প্রতিক বা কেবল কয়েক দশকের বিষয় নয়; তুরস্কের জনগণের সাথে আমাদের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক। এবং এই সম্পর্ক আগামীতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তুরস্কে সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে জামায়াত আমির সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন এবং আজ ১১ অক্টোবর সকালে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আরটিভি/এসআর
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির
তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, রোহিঙ্গা সংকট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে তুরস্কের বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশ।  বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এমপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট এবং এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য তিনি তুরস্কের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান এমপি। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক কার্যক্রমে পিপল-টু-পিপল সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আরটিভি/টিআর
তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক
তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তুরস্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। 
তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
আরও পড়ুন
অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী, পালালেন শিক্ষকসহ ৩ জন
স্বামীর মোটরসাইকেলে স্কুলে যাচ্ছিলেন শিক্ষিকা, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক
অচেতন শিশুকে ফেলে পালাচ্ছিলেন বৃদ্ধ, অতঃপর...
চিংড়ির হ্যাচারিতে সৌর প্যানেল, উৎপাদন হবে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ