
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের একটি ভিডিওতে চাকসু ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনি পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন। বিষয়টিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।
এ সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে ছাত্রদল। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে অবস্থান করেছেন। এ ছাড়া ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চাকসু ভিপির বিরুদ্ধে হল দখল, ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ রাখা ও শিক্ষার্থী দাউদ সালমানকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ছয় দফা দাবিগুলো হলো-
১. চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনির ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. পবিত্র কোরআনের আয়াত ও বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপনের জন্য ইব্রাহিম রনিকে দেশ, দেশের জনগণ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ও গুপ্ত রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ছাত্রশিবিরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, গুপ্ত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
৬. ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন পেজের অ্যাডমিনদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পেজগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের সম্মান নিয়ে উপহাস গ্রহণযোগ্য নয়। দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা। অন্যথায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় ছাত্রদল নেবে না বলেও জানান তারা।
আরটিভি/এসএস




