ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

আল-আজহারে কাঁঠালগাছ রোপণ করলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত

মিশর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আবাসিক ছাত্রাবাস ‘ইসলামিক মিশন সিটি’ পরিদর্শন করেছেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। এ সময় বাংলাদেশ ও দেশের সংস্কৃতির পরিচিতি তুলে ধরতে তিনি দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া জাতীয় ফল কাঁঠালের দুটি চারা রোপণ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, মিশরের মাটিতে এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কাঁঠালগাছ রোপণ করা হলো।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কায়রোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামিক মিশন সিটিতে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের সহকারী মহাপরিচালক মোস্তফা, প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি, মিশরে বাংলাদেশ ছাত্র সংগঠন ইত্তেহাদের সহ-সভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কি, পিএইচডি গবেষক আব্দুর রহিম, জুলাই যোদ্ধা কিশোরগঞ্জের মাসুদ হাসান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিনিধি মুয়াজ বিন মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

সাক্ষাতে আল-আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশিদের আবাসিক আসন বাড়ানো এবং মেধাবী ও ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

ইসলামিক মিশন সিটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, কয়েক বছর ধরে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মেধাবী, পরিশ্রমী ও ভদ্র—উল্লেখ করে তিনি তাদের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন সিটিকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের রিকশার একটি মডেল উপহার দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস এবং পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে তাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগাবেন বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পরে ড. ঈসাম কাজি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামিক মিশন সিটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন গৌতম কুমার দে। তিনি প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। এরপর টেনিস ও বিলিয়ার্ড হল, জিমনেশিয়াম, ফিটনেস সেন্টারসহ শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।

ইসলামিক মিশন সিটিতে বর্তমানে বিশ্বের ১০৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা বসবাস ও পড়াশোনা করছেন। এমন একটি আন্তর্জাতিক আবাসিক পরিবেশে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রতীকী পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কাঁঠালের দুটি চারা রোপণের সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের মাটি, প্রকৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে কাঁঠালগাছ বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মিশরের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি প্রতীকী স্মারক তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইসলামিক মিশন সিটির পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে গৌতম কুমার দে বলেন, সুন্দর ও সবুজ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

সাক্ষাৎ শেষে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত কয়েকটি বই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন।

পরিশেষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গৌতম কুমার দে। পাশাপাশি ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান পর্তুগিজ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) লিসবনের বেলেম প্রাসাদে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিবাদন জানান। তিনি ঢাকায় পর্তুগালের একটি আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠতর কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজ করবে, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। তিনি একটি দ্বিপাক্ষিক শ্রমগতিশীলতা কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা কার্যকর ও এগিয়ে নেওয়া, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। জনগণের মধ্যে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের স্বীকৃতি দেন ও তাদের প্রশংসা করেন এবং পর্তুগিজ সমাজে তাদের একীভূত হওয়ার গুরুত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক বিষয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনার বিষয়টিও উঠে আসে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরটিভি/টিআর
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন
প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। জি এম মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী ও দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন। বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। তার কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, মৈত্রী, প্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিপরীতে মানবতার জয়গান গাওয়া তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ, মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে। লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে গৌতম কুমার দে বলেন, তার সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়। বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমানের অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের সৃষ্টি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতিফলন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনাও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আরটিভি/টিআর
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, নজরুলের পুরোনো ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শোক
ঋণ করে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম মাহিন। কিন্তু পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আগেই শেষ হলো তার জীবন। মক্কায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে গ্রেপ্তারের আগে লেখা তার ফেসবুক পোস্টগুলো। ‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয় মধ্যবিত্ত সন্তানদের’২০২৩ সালের ৩ মে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন আক্ষেপের কথা লিখেছিলেন নজরুল ইসলাম মাহিন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রবাসে গিয়ে আর পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করা হয়নি তার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের মক্কায় নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর তার পুরোনো ফেসবুক পোস্টগুলো ঘিরে শোক প্রকাশ করছেন অনেকে। নজরুলের ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, প্রবাসজীবনের শুরু থেকেই মধ্যবিত্ত পরিবারের নানা সংকট, স্বপ্ন ও বাস্তবতা নিয়ে লিখতেন তিনি। ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে নজরুল লিখেছিলেন, ‘গুড বাই বাংলাদেশ। সবাই অনেক মনে পড়ছে, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ সৌদি আরবে যাওয়ার পর একই বছরের ২৯ নভেম্বর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভাব নেয়াটা আমাকে মানায় নাহ, কারণ আমি মধ্যবিত্ত।’ এরপর ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘পকেটে টাকা থাকলে তোমরা দুনিয়া কিনতে পারবে।’ একই বছরের ৩ মে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের দুশ্চিন্তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন নজরুল। তার সেই লেখাটি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরবর্তী সময়ে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান নজরুল। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাবা শরিফের সামনে নীল রঙের ইউনিফর্ম পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ক্লিনার মক্কা হেরাম শরিফ।’ নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর তার ওই পোস্টেও শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অনেকে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কার একটি মসজিদে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নজরুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারেই ছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতেন নজরুল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। গণমাধ্যম ও ফেসবুকে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে ওই দিন রাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার ফুফু আবেদা বেগম। নজরুলের মা রহিমা বেগম বলেন, কারাগারে থাকার সময় ছেলে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে তারা ভেঙে পড়েছেন। নজরুলের বাবা আব্দুল বাছিরের আক্ষেপ, সাত লাখ টাকা ঋণ করে সংসারের হাল ধরতে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় কারাগারে চলে যেতে হয় নজরুলকে। এর মধ্যে পরিবারকে মাত্র দেড় লাখ টাকা পাঠাতে পেরেছিলেন তিনি। ছেলের মৃত্যুর পর একদিকে ঋণদাতাদের চাপ, অন্যদিকে সন্তান হারানোর শোক—দুই সংকটে পড়েছেন পরিবারটি। নজরুল কী কারণে কারাগারে ছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানতেন না বলে দাবি করেছেন তার বাবা। এখন অন্তত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চান তিনি। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠকেরা। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটির (এইচআরডিএস) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন সরকার বলেন, প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে কোনো রেমিট্যান্সযোদ্ধার এমন পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে হয়তো এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। সামাজিক সংগঠক শামীম আহমেদ বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের দুজন নাগরিক সৌদি আরবে কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শামীম আহমেদ আরও বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। মরদেহ দেশে এলে নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের পর তার পরিবারের সদস্যরা এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন। ঋণের বোঝা ও স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। আরটিভি/এসকে
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, নজরুলের পুরোনো ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শোক
বাংলাদেশিদের বড় সুখবর দিলো জাপান
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন চুক্তি ইএসডিপি-এমওসি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান।
বাংলাদেশিদের বড় সুখবর দিলো জাপান
সৌদিতে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুনে পুড়ে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
সৌদিতে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু
আরও পড়ুন
আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস আজ
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস আজ 
শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন